Connecting You with the Truth

রাজধানীতে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি বেদখল

rural picস্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীতে বেদখল হয়ে যাচ্ছে শত শত কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি। বাড়ি ও ফ্ল্যাট মিলিয়ে এমন ৫১টি সরকারি স্থাপনায় বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসছে দখলদাররা। এমনকি বেশ কয়েকটি বাড়ি দখল করে নিয়েছে ডেভেলপার কোম্পানিও। দখলদাররা আদালতে মামলা করে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবাসন পরিদপ্তরের এসব স্থাপনায় বসবাসের সুযোগ নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব মামলা নিয়ে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট আইন বিভাগ। কিন্তু মামলা ও সম্পত্তির ভবিষ্যৎ কী- সে বিষয়ে কেউই কিছু বলতে পারছেন না। এমনকি কোনো কোনো মামলার নথি পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর এসব সম্পত্তি বেহাত হয়ে থাকার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আবাসন পরিদপ্তরের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ও লিগ্যাল উইংয়ের দীর্ঘসূত্রতাকে দায়ী করা হচ্ছে। আবাসন পরিদফতরের পরিত্যক্ত বাড়ি শাখার সূত্রে জানা গেছে, মোহাম্মদপুরে পূর্ণাঙ্গ বাড়ির সংখ্যা ১০টি, ফ্ল্যাট ২৫টি; ধানমন্ডিতে পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ৪টি, ফ্ল্যাট ২টি; লালমাটিয়ায় পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ৩টি।
এ ছাড়া মনিপুরীপাড়ায় পূর্ণাঙ্গ বাড়ি ১টি, নাখালপাড়ায় ১টি, আজিমপুরে ১টি, নয়াপল্টনে ১টি, মগবাজারে ১টি, এলিফ্যান্ট রোডে ১টিসহ মোট ৫১টি বাড়ি ও ফ্ল্যাট নিয়ে বিভিন্ন আদালতে মামলা চলছে। মামলাগুলো ১৯৮৫ সাল থেকে শুরু করে চলতি বছরে মধ্যে দায়ের করা হয়েছে। এসব সম্পত্তির দখলে যারা আছেন তারা সবাই মামলা করে দখল টিকিয়ে রেখেছেন। এর মধ্যে কেউ শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে, কেউ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আছেন। আবার কেউ পুরো বাড়িটার মালিকানা দাবি করে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। শুধু ব্যক্তি নয়, ডেভেলপার কোম্পানিও সরকারের সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করেছে। ৫/৪ ব্লক-ই লালমাটিয়ার বাড়িটির মালিকানা দাবি করে মেসার্স পারভীন প্রোপার্টিজ অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট লি. এবং ১৪/এ রোড ২ ধানমন্ডির বাড়িটির মালিকানা দাবি করে এ্যাকম ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন মামলা করেছে।
মামলাগুলো সম্পর্কে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আইন উপদেষ্টা শাহ মো. আবু রায়হান আল বিরুনী বলেন, পরিত্যক্ত বা সরকারি বাড়ি বরাদ্দ নিয়ে আদালতে মামলা করে দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখা এখন একটি রীতিতে পরিণত হয়েছে। শুধু ঢাকা শহরে নয়, সারা দেশেই এ ধরনের মামলা রয়েছে। এটা দীর্ঘদিনের একটা পুঞ্জীভূত সমস্যা। এ সমস্যার সমাধান না হওয়ার পেছনে আইন বিভাগের লোকবল সংকট অন্যতম কারণ। সেই সঙ্গে রয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। চক্রটির পরামর্শে ও আইনের বিভিন্ন ফাঁকফোকরের সুবিধা নিয়ে এসব মামলা বছরের পর বছর চলছে। তবে মামলাগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য কাজ চলছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, নানাভাবে শোনা যায় যে, আবাসন অধিদপ্তরের একটি চক্রের কারণেই সরকারের সম্পত্তি বেহাত হতে চলেছে। পরিত্যক্ত বাড়িগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক ড. আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামলাগুলো নিয়ে পরিদপ্তর রীতিমতো বিপাকে রয়েছে। আমাদের নিজস্ব লিগ্যাল উইং না থাকায় মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল উইং ও অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের সহায়তা নেওয়া হয়। সেই সঙ্গে আইনগত বিষয়গুলো দেখভাল করার জন্য পরিদপ্তরের লোকবল নেই বললেই চলে। তবে খুব শীঘ্রই এগুলো নিয়ে আইনি কার্যক্রম শুরু হবে বলে তিনি জানান। গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. গোলাম রাব্বানী এ বিষয়ে বলেন, বাসাগুলো নিয়ে যেহেতু মামলা হয়েছে সে কারণে মামলা নি®পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাড়িগুলোর মামলা দ্রুত শেষ করতে আইন বিভাগকে যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Comments
Loading...