শতাব্দীর প্রবীণতম ব্যক্তি এখন রাণীশংকৈলে
রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল নেকমরদ করনাইট গ্রামের নজর মোহাম্মদকে শতাব্দীর প্রবীণতম ব্যক্তি হিসেবে দাবি করছে তার পরিবারের লোকজন।
মৃত তিফাইত হোসেনের ছেলে নজর আলী ১২০ বছর বয়সে দিব্যি সুস্থ জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছর হলেও ১২০ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় চলাফেরা করছেন। মসজিদে নামাজ পড়া, হাট-বাজার করা, ফসলি জমিতে নিড়ানি দেওয়া, বাঁশ কাটা, পাটের আঁশ ছড়িয়ে পানিতে ধুয়ে পরিষ্কার করার মতো আরও অনেক কাজ অনায়াসে করছেন। একাকি যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ান।
করনাইট গ্রামের প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল ইসলাম বলেন, নজর মোহাম্মদের পাঁচ স্ত্রী, পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। ৭৫ বছর বয়সে বড় ছেলে মারা যায়। মেজ ছেলের বয়স এখন ৭৭ বছর। নজর মোহাম্মদের পূর্ব পুরুষরা বালিয়াডাঙ্গীর হরিণমারি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। নজর মোহাম্মদ বালিয়াডাঙ্গী হরিণমারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯০১ সালে ভর্তি হয়ে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। বাঁশের কঞ্চি দিয়ে কলম বানিয়ে কলাপাতায় লিখতেন- এবারে তাদের পড়ালেখা করতে হতো সে সময়। নজর মোহাম্মদ এখনও লিখতে-পড়তে পারলেও কানে খুবই কম শুনেন। তিনি জানান, ব্রিটিশ শাসনামলের বিলুপ্তির সময় ১৯৪৭ সালে তার বয়স ৫০ পেরিয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিপক্ষে তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি যুদ্ধে না গেলেও তার পরিচিত অনেকেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের হিসেব খাতায় লিখে রাখেন। প্রতিনিয়ত আহারের সাথে দুধ পান, পরিশ্রম এবং জীবনে নিয়মানুবর্তীতার কারণে এখনও সুস্থ আছেন তিনি। নজর মোহাম্মদের পঞ্চম স্ত্রী ৫৮ বছর বয়সী রেবেকা স্বামীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, এ বয়সেও তার স্বামী সুস্থাবস্থায় একাকি চলাফেরা করতে পারছেন বলে আল্লাহতাআলার কাছে শুকরিয়া।
ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, শুধু ঠাকুরগাঁও জেলা নয় উত্তরবঙ্গের কোথাও নজর মোহাম্মদের চেয়ে বেশি বয়সের মানুষের সন্ধান মিলে নি।