Bangladesherpatro.com

শেরপুরে বিতর্কিতরাও চান নৌকার মনোনয়ন

শেরপুর সংবাদদাতা:
পাঁচটি উপজেলা নিয়ে শেরপুর জেলা । শেরপুর সদর, শ্রীবর্দী, ঝিনাইগাতী, নকলা এবং নালিতাবাড়ী। এসব উপজেলায় রয়েছে ৫২টি ইউনিয়ন। সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া বইছে। শেরপুর জেলাও এর বাইরে নয়। ইতোমধ্যে
দ্বিতীয় ধাপে শেরপুর সদর, নকলা এবং নালিতাবাড়ী উপজেলার ইউপি নির্বাচনের তফছিল ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা বাছাই পর্বও শেষ করেছে শেরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস।

বিতর্কিত চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে জটিল সমীকরণ এবং বিপাকে পড়েছে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ। উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন ৯৩ প্রার্থী। আবার একই পরিবারের ৫ জনের মনোনয়ন ফরম কেনার ঘটনাও ঘঠেছে উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নে। আবার অনেক প্রার্থীর এক সময় জামাত, বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে এবং সত্যতাও মিলেছে। এমনই এক প্রার্থী মাওলানা মোহাম্ম্দ জামাল উদ্দীন। বর্তমানে তিনি ১নং পোড়াগাও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং নৌকার মনোনয়ন চান।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ইউনিয়নের অনেকেই বলেন, জামাল উদ্দীন শিবির, জামাতের কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। জামাতের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে তাকে আমরা অংশ গ্রহণ করতে এবং ক্যারাটি প্রশিক্ষন নিতেও দেখেছি। পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসলে জামাল যোগ দেন বিএনপিতে । তার ছোট ও বড় ভাই বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তার ছোট ভাই জাবের উদ্দীনকে (বেলজিয়াম প্রবাসী) সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডে ফেসবুকে আপত্তিকর পোষ্ট দিতেও দেখা যায়। ২০১১ সালে ১নং পোড়াগাও ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটিতে ১০নাম্বারে রয়েছে জামাল উদ্দিনের নাম। পরে সুযোগ বুঝে আওয়ামী রাজনীতিতে যোগ দেয়। তারা আরও বলেন, এমন অনেক প্রাথীই রয়েছে নালিতাবাড়ীতে।

BNP

আনীত অভিযোগ মিথ্যা, ভিওিহীন এবং সাজানো বলে মাওলানা মোহাম্ম্দ জামাল উদ্দীন দাবি করলেও ঐ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান চৌধুরী বলেন, জামাল আমাদের বিএনপি রাজনীতি করতো এবং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ছিল। আওয়ামী লীগ তাকে কিভাবে নিল, প্রশ্ন তার।

পোড়াগাও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বন্ধনা চাম্বু গঙ্গ এর সাথে কথা হলে জানান, আমি নতুন রাজনীতিতে যোগদান করেছি জামাল সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানিনা। তবে উপজেলার জনগন বলে জামাল জামাত-শিবির করতো।

হাইব্রিড নেতাদের সম্পর্কে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জিয়াউল হক বলেন, বিতর্কীত নেতাদের ব্যাপারে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।জামাল উদ্দিনের জামাত, বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি আমি লোকমারফত শোনতে পেয়েছি এবং প্রমাণও পেয়েছি ।আমরা তার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেব। আশা করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে মনোনয়ন দিবেন না।

Leave A Reply

Your email address will not be published.