Connect with us

জাতীয়

সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে আইনজীবীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

Avatar photo

Published

on

law picস্টাফ রিপোর্টার:
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বিল’ নিয়ে আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা একমত হতে পারেননি। কেউ পক্ষে মত দিয়েছেন আবার কেউ কেউ এ বিলের চরম সমালোচনা করেছেন। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতা কমিটির সদস্য ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম সংবিধানের ৯৬নং ধারা বজায় রেখে সংশোধন করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়টি সংসদে যাওয়ার আগে জনমত যাচাই করা দরকার ছিল। এত তড়িঘড়ি করে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা করা হচ্ছে বলেও মত দেন এই সিনিয়র আইনজীবী। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, “সব উন্নত দেশেই বিচারকদের অভিশংসনের সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। রাষ্ট্রপতি বিচারক নিয়োগ করেন, আইনসভা রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করতে পারে। যদি তাই হয়, তাহলে আইনসভা বিচারকদের অভিশংসন করতে পারবে না কেন?”
প্রসঙ্গত, গত রোববার উচ্চ আদালতের বিচারকদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে দশম জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) বিল-২০১৪’ উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আইনমন্ত্রী বিলটি তোলার সময় সরকারি দলের পাশাপাশি সংসদের বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তা সমর্থন করেন। গত ১৮ আগস্ট সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংক্রান্ত বিলটি মন্ত্রিসভার অনুমোদন পায়। বিলটি চলতি অধিবেশনেই পাস করা হবে বলে তখন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী। ষোড়শ সংশোধনী বিলটি পাস হলে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ প্রতিস্থাপিত হবে। তাতে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা ফিরে পাবে সংসদ। একই সঙ্গে মহা-হিসাব নিরীক্ষক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্মকমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্যসহ অন্যান্য সাংবিধানিক পদের ব্যক্তিদের অপসারণের ক্ষমতাও সংসদের কাছে ন্যস্ত হবে। সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, একজন বিচারক ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত নিজ পদে বহাল থাকবেন। প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যরে কারণে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের প্রস্তাবক্রমে রাষ্ট্রপতির আদেশে কোনো বিচারককে অপসারণ করা যাবে। এ ছাড়া কোনো বিচারক রাষ্ট্রপতিকে উদ্দেশ্য করে স্বাক্ষরযুক্ত চিঠি দিয়ে পদত্যাগ করতে পারবেন।
সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন বলেন, “বিচার বিভাগের বিষয়ে সংবিধান সংশোধন নিয়ে আলোচনা করা খুবই প্রয়োজন ছিল। আলোচনা না করায় আমরা উদ্বিগ্ন।” এ সংশোধন হলে নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করবে বলে মনে করেন তিনি। কামাল হোসেন বলেন, “আমাদের সংবিধানে গণভোটের পদ্ধতি নেই। কিন্তু আলোচনার পদ্ধতি তো আছে। সুতরাং সংশোধন করার আগে সবার সঙ্গে আলোচনা করা দরকার ছিল। এটা সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে।” সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, “বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে গেলে নির্বাহী ও বিচার বিভাগের মাঝে ঝামেলা হওয়ার কথা নয়। সংবিধান অনুযায়ী জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে একটি কার্যকরী সংসদ হবে। কিন্তু কথা হলো, আমাদের দেশে অধিকাংশ সংসদ সদস্যই অনির্বাচিত।” সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, “সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বিচারপতিদের পদের নিশ্চয়তা বাড়বে।” তিনি বলেন, “সংবিধান সংশোধন করার পর একটি আইন করতে হবে। কীভাবে বিচারপতিকে অপসারণ করা হবে, কী কী কাজ অসদাচারণ বলে বিবেচিত হবে, তা আইনের মধ্যে লেখা থাকবে। বিচারপতিদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি বা কমিশনের কথা উল্লেখ রাখতে হবে আইনে।” উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসনের (অপসারণ) ক্ষমতা সংসদকে দেয়ার প্রস্তাব বিচার বিভাগকে নগ্নভাবে দলীয়করণেরই প্রচেষ্টা। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকবে না বলে মত প্রকাশ করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।
তারা মনে করেন, এর ফলে আদালতের রায় বা আদেশ সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটাবে। সংবিধানে বিচারকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়া আছে। কিন্তু অভিশংসনের ভার সংসদকে দিয়ে বিচারকদের বিচার যদি সংসদ সদস্যদের হাতে দেয়া হয় তাহলে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন না বলে মনে করেন আইনবিদরা। তাদের মতে, এটা একটি অশুভ পরিকল্পনা ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে উচ্চ আদালতের বিচারপতিরা স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবেন না। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, “বিচার বিভাগ ইতিমধ্যেই দলীয়করণের প্রভাবে প্রভাবান্বিত। তারপরও বিচার বিভাগকে একটি অনির্বাচিত সংসদের আওতায় আনার অশুভ প্রচেষ্টায় সরকার সংবিধান পরিবর্তন করে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা হাতে নিতে নিচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপ বিচার বিভাগকে নগ্নভাবে দলীয়করণেরই প্রচেষ্টা বলে আমি মনে করি।” সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক স¤পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বলেন, “বিচারপতিদের অভিশংসনের মতা সংসদের হাতে চলে গেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকবে না। আদালতের রায় বা আদেশ সরকারের ইচ্ছায় করতে হবে। এটা করা কোনোভাবেই ঠিক হবে না।”
তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন অভিশংসনের ক্ষমতা পেলেও সংসদ বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের সুযোগ পাবে না। তিনি বলেন, “সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি বিচারপতির বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা অযোগ্যতার অভিযোগ এলে তা তদন্ত করে সংসদে পাঠাবে।” আইনমন্ত্রী বলেন, “বিচারপতিদের রায়ের সঙ্গে অভিশংসনের কোনো স¤পর্ক নেই। রায়ের জন্য তারা অভিশংসনের মুখোমুখি হবেন না। সংসদ কর্তৃক অভিশংসন ব্যবস্থায় তাদের স্বাধীনতা একবিন্দুও ক্ষুণœ হবে না।” তিনি বলেন, “কেবল বড় ধরনের অসদাচরণ ও অযোগ্যতার অভিযোগ প্রমাণিত হলেই বিচারপতিরা অভিশংসনের সম্মুখীন হবেন; অন্য কোনো কারণে নয়।” অভিশংসনের যাতে অপব্যবহার না হয় আইনটি সেভাবেই প্রণীত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে যে রায় দিয়েছেন সে রায়েও এই ক্ষমতা বিচার বিভাগের কাছে রাখার পক্ষে অভিমত রয়েছে। এ ছাড়া সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অভিশংসনের (অপসারণ) ব্যপারে সংসদকে দেয়ার প্রস্তাব চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনও করা হয়েছে। ২০১২ সালে তৎকালীন ¯িপকার ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের একটি রুলিংকে কেন্দ্র করে কয়েকজন সংসদ সদস্য হাইকোর্টের একজন বিচারপতিকে অপসারণের দাবি তোলেন। সে সময়ই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জোরালো হয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Highlights

রাজধানীতে ‘বাংলা ভাষার মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা

Avatar photo

Published

on

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ‘বাংলা ভাষার মান রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে পাঁচটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচি-কাচার মেলা হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হৃদয়ে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক পরিষদ।

সংগঠনটির উপদেষ্টা শাহ মুহাম্মদ সেলিম রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘বাংলা ভাষা বিকৃত করার প্রবণতা তরুণদের মধ্যে বেশ লক্ষণীয়। অফিস-আদালত, চলচ্চিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপনসহ প্রায় জায়গাতেই চলছে বিদেশি ভাষার ব্যবহার। বিদেশি ভাষার আগ্রাসনে খাঁটি বাংলা ভাষার চর্চা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সবচেয়ে বড় আফসোসের বিষয় হলো, আমাদের সমাজে কিছু সুশীল ব্যক্তিবর্গ আছেন যারা বেশি ইংরেজি শব্দ ব্যবহার করেন। যার প্রভাব পড়ে দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে। তারাও মিশ্র ভাষায় কথা বলতে শেখে। বেসরকারি বেতারগুলোর উপস্থাপকরা তো বাংলা বলেন না বললেই চলে। পৃথিবীর প্রায় ২৮ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলা ভাষার স্থান সপ্তম। বাংলা ভাষার ঐতিহ্য এবং সাহিত্যসম্ভারও বিপুল। অথচ নতুন প্রজন্ম বাংলা ভাষার প্রতি উৎসাহী ও মনোযোগী নয়। আরেকদিকে ইংলিশ মিডিয়ামের দৌরাত্বে অনেক ছেলেমেয়ে যদিও বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে কিন্তু লিখতে পারে না। একটু শিক্ষিতরা বাংলার সাথে ইংলিশ শব্দ মিশ্র করে ককটেল বানিয়ে ব্যবহার করে গৌরব করে। অন্যদিকে একজন অশিক্ষিত কৃষক শ্রমিকের কথায় যদি আঞ্চলিকতা প্রকাশ পায় তাকে আমরা ক্ষেত বলে পরিহাস করতে ছাড়ি না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বক্তব্য রাখছেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

বক্তব্য রাখছেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম

তিনি বলেন, ‘নব্বইয়ের দশকে ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু আমরা কি বাংলা ভাষাকে সঠিক মর্যাদা দিতে পারছি? আমরা কি বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারি? আমরা কি বাংলা ভাষার বিকৃতি রোধ করতে পেরেছি? ১৯৪৮ সালে করাচিতে নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে পাকিস্তানিরা উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রয়াসে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব করেছিল। আমরা কিন্তু তাদের অযৌক্তিক প্রস্তাব গ্রহণ করিনি। হয়েছে প্রতিবাদ, আন্দোলন। কিন্তু এখন তরুণ প্রজন্মের বড় অংশই ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লিখছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু কোনো মহল থেকেই এর কোনো প্রতিবাদ উঠছে না -বলেন এই বক্তা।

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলা ভাষার শুদ্ধ ও সঠিক ব্যবহারের প্রতি অনেকের আগ্রহ কমছে বলে মনে হয়। বিশেষ করে আমাদের শিশু ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভাষার প্রতি মমত্ব ও আগ্রহ নিয়ে উদাসীনতা মোটেও ভালো কিছু নয়। শিশু ও তরুণদের একাংশ বাংলার চেয়ে ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে বেশি আগ্রহী। এর জন্য আমাদের বিদ্যমান পরিস্থিতিও অনেকাংশে দায়ী। ইংরেজি ভাষা শিক্ষা নিয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই, কিন্তু নিজের ভাষাকে অবহেলা করার পক্ষেও আমি নইÑ বলেন হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।

তিনি বলেন, ‘বিমা-ব্যাংকে গেলে বাংলার ব্যবহার প্রায় অদৃশ্য। অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানেও ইংরেজিতে প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা হয়; এমনকি কর্মরতদের নাম, পদবিও থাকে ইংরেজিতে। ব্রিটিশরা আমাদের মনে পরনির্ভরতা ও বিদেশি ভাষার প্রতি যে অনুরাগ তৈরি করে গেছে, সেটি বদলাতে হবে। বিদেশি শব্দ ও ভাবধারার প্রতি আমাদের দুর্বলতা দূর করতে হবে। পৃথিবীর অনেক দেশ সরকারিভাবে তাদের নিজস্ব ভাষা ব্যবহারে সাফল্য দেখিয়েছে; তাহলে আমরা কেন পারব না?”

সবশেষে তিনি বলেন, মানবজাতি এক জাতি। ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ ইসলামের নিষিদ্ধ। সব ভাষাই আল্লাহর দেওয়া। প্রকৃতির বৈচিত্র্য যেমন স্বাভাবিক তেমনি ভাষার বৈচিত্র্যও স্বাভাবিক। ইসলাম ভূপ্রকৃতির কারণে জাতীয়তাবাদ এবং ভাষার কারণে বিভিন্নতার কারণে জাতীয়তাবাদ কোনটাকেই স্বীকার করে না। ইসলামের বিধানে সমস্ত মানুষ এক জাতি ভাষার কারণে কোনো জাতি অন্য জাতির উপরে শ্রেষ্ঠ হতে পারে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী, লায়ন কেফায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ হুমায়ুন কবির, অতিথি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও লায়ন সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ নারী উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রূপা আহমেদ, দৈনিক বজ্রশক্তির সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা, মাটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সহ-সভাপতি রিয়াদুল হাসান প্রমুখ।

বিশেষ অতিথি মাটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সহ-সভাপতি রিয়াদুল হাসান তার বক্তব্যে বর্তমানের বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভাষা ইংরেজি ভাষার বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরে বাংলা ভাষার সমৃদ্ধ সুশৃঙ্খল রূপ তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি দৈনিক বজ্রশক্তির সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা তার বক্তব্যের সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ আদালতে ইংরেজি ভাষার ব্যবহারের নিন্দা জানিয়ে অনতিবিলম্বে এসব দপ্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান।

সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের বিশিষ্ট শিল্পীদের পরিবেশিত ভাষার গানে দেশের গানে মুখরিত হয় মিলনায়তন।

Continue Reading

Highlights

বই মেলায় আইয়ুব রানার ‘রকমারী ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

Avatar photo

Published

on

অর্ধ সাপ্তাহিক সুবাণী সম্পাদক আইয়ুব রানা রচিত ‘রকমারী ছড়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গত সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪) বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে চলমান অমর একুশে বইমেলার মোড়ক উন্মোচন মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন দৈনিক দেশেরপত্রের সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী। আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক বজ্রশক্তির সম্পাদক এসএম সামসুল হুদা, দানবীর সেখ সইদুল ইসলাম (কলকাতা), বইয়ের রচয়িতা আইয়ুব রানা প্রমুখ।

বইয়ের রচয়িতা আইয়ুব রানা জানান, বইটি একুশে বইমেলার ৩৮৪নং উচ্ছ্বাস প্রকাশনীর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে। এ সময় তিনি ছড়া প্রেমিদের বইটি সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান।

Continue Reading

জাতীয়

ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ডিএসসিসির অভিযান

Avatar photo

Published

on

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দক্ষিণ বনশ্রী ও পশ্চিম নন্দীপাড়া সংযোগ সড়ক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ডিএসসিসি। মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে দক্ষিণ বনশ্রী কে ব্লক ও পশ্চিম নন্দি পাড়া সংযোগ সড়কে অবৈধভাবে দখল করে নির্মিত একটি বাড়ির দেয়াল ও গেট ভেঙে দেয়া হয়। ইফতেখার মাহমুদ নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাস্তা দখল করে এই দেয়াল ও গেট নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়।

স্থানীয়রা জানায়, দফায় দফায় এই বাড়ির মালিক রাস্তাটি দখল করে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করেন। ফলে স্থানীয়দের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই সড়কটি দখলমুক্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের।

অভিযান প্রসঙ্গে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ইতিপূর্বে এখানে অভিযান চালিয়ে দুই বার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেন তা পুনরায় দখল করে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করা হয়। তাই স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেয়ালটি জায়গাটি সম্পূর্ণরূপে দখলমুক্ত করতে আজকের এই অভিযান চালানো হয় বলে জানান তিনি।

Continue Reading