Connect with us

বিবিধ

‘স্টোন’ হইতে সাবধান

Avatar photo

Published

on

kidney imageরকমারি ডেস্ক:
গলস্টোন:
বমনেচ্ছা জাগে, বমি হয় এবং পাঁজরের ঠিক নিচে পাকস্থলীর ওপর দিকটার ডান ধার দিয়ে তীব্র ব্যথা। এই ব্যথা ডান কাঁধেও ছড়ায়, ছড়াতে পারে। থাকে কয়েক মিনিট। কারও কারও ক্ষেত্রে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে টানা চলে ব্যথা। এরকম উপসর্গ মানে পিত্তাশয়ে বা পিত্তবহনি নালিতে পাথর জমেছে। যাকে এক কথায় বলে পিত্তপাথুরি। ছোট ছোট পাথর হতে পারে, বড়ও হতে পারে। কোলেস্টেরল বা ক্যালসিয়াম জমে এই পাথর হয়। যেকোনো বয়সেই এই ধরনের পাথর হতে পারে। তবে বয়সকালেই বেশি হয়, আর তা হয় কোলেস্টেরল আধিক্যেই। জানাচ্ছেন লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ হসপিটালের অন্ত্রবিদ ডাঃ অ্যান্টন ইমানুয়েল। তার কথায়, যে মহিলাদের শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্য ঘটে, তাদের গলব্লাডারে এ ধরনের পাথর হওয়ার আশঙ্কা বেশি। যারা অতি-ওজনি এবং ফ্যাটযুক্ত খাবার-দাবার বেশি খান, তাদের এই পাথর হয় কোলেস্টেরল আধিক্যে। কম ফ্যাট আছে এমন খাবার-দাবার খেতে হবে, জল এবং রসালো ফল বেশি খেতে হবে। সঙ্গে পেইনকিলার অর্থাৎ ব্যথাহরণি ওষুধও। পাথর গলিয়ে দেওয়ার ওষুধ আছে। গলানো না গেলে অস্ত্রোপচার করতে হবে। না হলে হজমতন্ত্র অবরুদ্ধ হয়ে পড়তে পারে, সেখানে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। ব্যথা, বমি পিত্তপাথুরির জন্যই হচ্ছে কিনা তা শনাক্ত করা এবং চিকিৎসা করার ভার চিকিৎসকের ওপরই ছেড়ে দিন।
টনসিল স্টোন:
খুদে খুদে ছিট দাগ হয় টনসিলে। খেতে। গিলতে কষ্ট হয়, ব্যথা হয় গলাধঃকরণের সময়। মুখে ধাতব স্বাদ, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়। উল্লেখ্য, টনসিলে ছিট দাগ সব সময় দৃশ্যমান হয় না। অন্য দিকে টনসিল স্টোনকে অনেক সময় গলায় সংক্রমণ হয়েছে ধরে নিয়ে থ্রোট ইনফেকশনের চিকিৎসা করা হয়। টনসিল স্টোন হয় টনসিলের খাদে শ্লেষ্মা, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের অংশ, ব্যাকটিরিয়া জমে। জানাচ্ছেন দক্ষিণ লন্ডনের ইউনিভার্সিটি হসপিটাল লিউইসহ্যামের ইএনটি সার্জেন ডা.অ্যানাসটাসিয়া রচমানিডু। তার বক্তব্য, প্রাপ্তবয়স্করাই বেশি আক্রা¤— হন। কারণ, প্রাপ্তবয়স্কদের টনসিল বড় হয়। সেখানে বেশি করে জমতে পারে পাথর তৈরির উপাদান। হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু কিছু ওষুধ, কিছু কিছু ব্যথাহরণি ট্যাবলেট, কিছু কিছু অবসাদরোধী ট্যাবলেট বেশি খেলেও টনসিল স্টোন হয়। এরকম হওয়ার কারণ, ওই সব ওষুধের প্রভাবে মুখের ভেতরটা শুকিয়ে থাকে, পর্যাপ্ত লালা তৈরি না হওয়ায় ভুক্তাবশেষের একটা অংশ টনসিলের পর আর নামতে পারে না। তবে টনসিলে হোয়াইট প্যাচ বা ছিট দাগ হলেই যে তা টনসিল স্টোন, সব ক্ষেত্রে তেমন নাও হতে পারে, ক্যান্সারের কারণেও ওই রকম ছিট দাগ হতে পারে টনসিলে। টনসিল স্টোনের ভোগান্তি দূর করতে প্রতিদিন সকালে একটা করে শুকনো শক্ত বিস্কুট (ড্রাই ক্র্যাকার) খান চিবিয়ে। হালকা গরম জলে গার্গল করুন। নাকে ¯েপ্র করার বোতলের মতো একটা বোতল নিয়ে তাতে হালকা গরম জল, আধ চা-চামচ নুন মিশিয়ে টনসিলে ¯েপ্র করুন। সেরকম অবস্থায় ডাক্তার লেজার ট্রিটমেন্টের পরামর্শ দেবেন। খুব কঠিন অবস্থা হলে টনসিল কেটে বাদ দিতে হবে। তবে টনসিল কেটে বাদ না দেওয়াই ভাল। কারণ ব্যাকটিরিয়াদের ফাঁদে ফেলে আটকে দেয় টনসিল, ফলে ঊধর্ব শ্বাসনালিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে না। টনসিল স্টোন হওয়া আটকাতে যে ব্যাপারগুলি নিয়ম মেনে করা উচিত, সেগুলি: দু’বেলা দাঁত মাজা। অ্যালকোহল নেই এমন মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা। ফ্লস করা অর্থাৎ খসখসে রেশমের সুতো পাশাপাশি দুই দাঁতের মাঝখানে ঢুকিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।
কিডনি স্টোন:
কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই কুঁচকি তথা কটিসন্ধি জুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র যন্ত্রণা। শুশ্রƒষা না করা হলে এই যন্ত্রণা ৩ ঘণ্টাও স্থায়ী হতে পারে। মূত্রের সঙ্গে রক্ত মিশে বেরতে পারে। ঘোলাটে প্রস্রাব হবে। দুর্বল বোধ হবে। বমি পেতে পারে। বমি হয়েও যেতে পারে। ঘন ঘন মূত্রবেগ হবে। প্রস্রাব করার সময় জ্বালা বোধ হয়। নানা রঙের হতে পারে কিডনি স্টোন। বালুকণা থেকে গলফ বল, নানা আকৃতির হতে পারে কিডনি স্টোন। কারও কিডনিতে এই স্টোন হয় ক্যালসিয়াম আর ফসফেট মিলে। কারও এই স্টোন হয় ক্যালসিয়াম এবং অক্সালেট মিলে। কারও হয় ম্যাগনেসিয়াম এবং অ্যামোনিয়া মিলে। কারও হয় ইউরিক অ্যাসিডের স্টোন। কোষ্ঠ সাফ করার জোলাপ।বড়ি।রেচক খেতে অভ্যস্ত যারা এবং সঙ্গে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন যুক্ত খাবার খেয়ে থাকেন, পর্যাপ্ত জল পান করেন না, তাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালিতে সংক্রমণ ঘটতে থাকে মাঝে মধ্যেই, তার পরই কিডনি স্টোনের ভোগা¤ি— ধরা পড়ে। আগে যদি কারও কিডনি স্টোন ধরা পড়ে থাকে, তা হলে পাঁচ বছরের মধ্যে কিডনি স্টোন হওয়ার আশঙ্কা থাকে ৫০ শতাংশ। কিডনি স্টোন তৈরি হয়ে গেলে, সেই পাথর সাধারণত কিডনির ভেতরে অথবা কাছাকাছি এলাকায় থাকে অথবা মূত্রনালির ভেতর দিয়ে ঘোরাঘুরি করে, মূত্রপথে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সহ্য করার মতো ব্যথা হলে বুঝতে হবে সেটি বড় পাথর হয়নি। গাই’স হসপিটাল, লন্ডনের মূত্রতন্ত্রবিদ ডাঃ জোনাথন গ্লাসের বক্তব্য, মূত্রপথ দিয়ে যদি স্টোন বেরিয়ে গেল ভাল কথা, কিন্তু যে পাথর বেরতে পারবে না, সেটিকে এ’ট্রাকোরপোরিয়াল শক ওয়েভ লিথোট্রিপসি এক্স-রের মাধ্যমে শক ওয়েভ দিয়ে টুকরো টুকরো করে ভাঙতে হবে। ভাঙার আগে আলট্রাসাউন্ডে শনাক্ত করতে হবে অবস্থান। সংশ্লিষ্ট এলাকা সাময়িক অচেতন করে নিয়ে এই শক ওয়েভ দিতে হয়। বড় আকৃতির পাথর হলে লিথোট্রিপসির মাধ্যমে লেজার দিয়ে ভাঙতে হয়। এ ছাড়া অস্ত্রোপচার করে বের করে আনার প্রক্রিয়া তো আছেই। ডাঃ গ্লাসের পরামর্শ, কিডনিতে স্টোন হওয়া আটকাতে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ২-৪ লিটার পানি-সহ নানা তরল খান। প্রস্রাবকে হলুদাভ হতে দেবেনই না। সব ধরনের মাংস খাওয়াই কমিয়ে দিন। তা হলে প্রস্রাবে অ্যাসিডিটি কমবে। পাথর হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিবিধ

চিফ হিট অফিসার এর দায়িত্ব কি?

Avatar photo

Published

on

উইকিপিডিয়া অনুসারে, চিফ হিট অফিসার (Chief Heat Officer), বা সিএইচও (CHO) হলেন একজন পৌরসভার সেবক, যিনি চরম উচ্চ তাপদাহ মোকাবেলা এবং শহুরে তাপের প্রভাব হ্রাস করার বিষয়ে কাজ করেন। বেশিরভাগ প্রধান তাপ কর্মকর্তাদের শহর, দেশ এবং স্থানীয় সরকারের অন্যান্য কার্যালয় দ্বারা নিয়োগ করা হয়। ২০২০ এর সালের গোড়ার দিকে এই পদটির আবির্ভাব ঘটে। ওই বছর গরম জলবায়ুর বেশ কয়েকটি শহরে ছায়া বৃদ্ধি, শীতলকরণ কেন্দ্রের ব্যবস্থা , গাছ লাগানো এবং তাপ-বিরোধী কাজের সমন্বয়ের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রশমিত করার চেষ্টা করার জন্য প্রধান তাপ কর্মকর্তা নিয়োগ করে। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি-ডেড কাউন্টি, মেলবোর্ন, এথেন্স এবং ফ্রিটাউনে প্রাথমিক হিট অফিসার পদ তৈরি করা হয়েছিল। পদটি তৈরির উদ্যোগটি আটলান্টিক কাউন্সিল দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল অ্যাড্রিয়েন আর্শট – রকফেলার ফাউন্ডেশনের রিজিলিয়েন্স সেন্টারে।

Continue Reading

বিবিধ

সিদ্দিক বাজার বিস্ফোরণ ২০২৩

Avatar photo

Published

on

সিদ্দিক বাজার দুর্ঘটনা ২০২৩

২০২৩ সালের ৭ মার্চ ঢাকার সিদ্দিক বাজারের একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ১৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়। আহত হয় শতাধিক ব্যাক্তি। বিস্ফোরণে পাশাপাশি দুটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি ভবন সাততলা এবং আরেকটি ভবন পাঁচতলা। এর মধ্যে সাততলা ভবনের বেসমেন্ট, প্রথম ও দ্বিতীয় তলা বিধ্বস্ত হয়। আর পাঁচতলা ভবনের নিচতলাও বিধ্বস্ত হয়। এই ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত ব্র্যাক ব্যাংকের কার্যালয়। বিস্ফোরণের পর ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানান রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা। ওই ভবনে গ্যাসের লাইনের ছিদ্র থেকে গ্যাস জমেছিল। সেটা থেকে বিস্ফোরণ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।[1][2][3]

ঘটনা প্রবাহ-
৭ মার্চ ২০২৩ মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে নর্থ সাউথ রোডের ১৮০/১ হোল্ডিংয়ে ওই সাত তলা ভবনে বিস্ফোরণ ঘটে। ভবনটি গুলিস্তানে বিআরটিসির বাস কাউন্টারের পাশে। বিস্ফোরণের পরপরই চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বিকট আওয়াজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। একে একে বাড়তে থাকে ইউনিটের সংখ্যা। সাথে যোগ দেন স্থানীয়রাও। ফায়ারসার্ভিসের মোট ১১টি ইউনিট এসে উদ্ধার কাজ চালায়।[4]

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় গুলিস্তানের বিস্ফোরণ-
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. শাহজালাল বলেন, বিকাল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ বিকট একটি শব্দ হয়। এসে দেখি মানুষ পড়ে আছে, চিল্লাচিল্লি করছে। লোহার গেট, ভবনের দেওয়াল ভেঙে রাস্তায় পড়েছে। একটা বাস ওই ভবনের সামনে ছিল। বাসের যাত্রীদের অনেকেই আহত হয়েছেন। কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। [2]

স্থানীয় একটি দোকানের কর্মচারী সম্রাট ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, ‘কস্তুরী হোটেল থেকে খাবার খেয়ে আমি মাত্র বের হয়েছি। তারপরই বিকট শব্দে ধোঁয়া শুরু হয়। ১০০ জনের ওপরে মানুষ আহত হয়েছে। মনে হয় ফিল্ম দেখতাছিলাম। মানুষ উইড়া উইড়া যাচ্ছে চারদিকে। ওপর থেকে যখন গ্লাসগুলো আসতেছে, তখন মনে হয় শুটিংয়ে যেভাবে মানুষের শরীরে ঢুকে যায়, ঠিক সে রকম পরিস্থিতি দেখছিলাম।’[2]

বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে গেছেন ওই ভবনটির নিচতলার বাদশা ট্রেডিংয়ের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন। তার ভাষ্য, দোকানের ম্যানেজার কথায় চা আনতে বাইরে গিয়েছিলেন তিনি। হঠাৎ বিস্ফোরণে বিকট আওয়াজে তিনি চেতনা হারান। বিস্ফোরণের আগে দোকানের ভেতরে অন্তত তিনজন ছিলেন এবং দোকানের বাইরে ছিলেন স্যানিটারি দোকানের ৭-৮ জন শ্রমিক। চেতনা ফেরার পর দোকানের বাইরে থাকা শ্রমিকদের হাসপাতালে নিতে দেখলেও ভেতরে থাকা মহাজন ও বাকিদের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান বাদশা।[4]

ওই ভবনের সামনে রাস্তার ওপর ভ্যানে করে বেল বিক্রি করছিলেন দিলীপ দাস। বিস্ফোরণে তিনিও আহত হয়েছেন। দিলীপ বলেন, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায় আশপাশের এলাকা। পথচারীদের ওপর বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়তে দেখেছেন তিনি। বিস্ফোরণে তার এক ক্রেতাও আহত হয়েছেন।[4]

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সামনের বিল্ডিংয়ে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন বলেন, আমি প্যান্ট পড়তেছিলাম, শব্দ শুনে এসে দেখি সব ধোঁয়া ধোঁয়া, সব অন্ধকার।[5]

ঘটনার পর বিস্ফোরণ হওয়া ভবনের বিপরীতে সামনের বিল্ডিংয়ে থাকা একজন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিকট শব্দ শুনে অফিস থেকে বাইরে এসে দেখি সব অন্ধকার। অনেক মানুষ আহত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। অনেকে মারাও গেছেন। পরে আমরা ধরাধরি করে ৫-৬ জনকে একটি পিকআপে তুলে দিয়েছি। তাদের মেডিকেলে নিয়ে গেছে।[5]

অপর একজন বলেন, আমি প্যান্ট পড়তেছিলাম, শব্দ শুনে এসে দেখি সব অন্ধকার। চারিদিকে রক্ত আর রক্ত।[5]

Page Source : সিদ্দিক বাজার বিস্ফোরণ ২০২৩

Continue Reading

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে যেভাবে সতর্ক থাকবেন

Avatar photo

Published

on

টেক এক্সপ্রেস ডেস্ক:
গত ২০ বছর ধরে ইন্টারনেট ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে, একইসঙ্গে বিকাশ ঘটেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের। বিনোদনের অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার শুরু হলেও, বিগত এক দশকেরও বেশি সময়ে এটি বিনোদনকে ছাড়িয়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই জায়গা করে নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ ব্যাপক হারে ডিজিটাল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে শুরু করে; ফলে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগের পরিমাণও বেড়ে যায়।

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সাইবার অপরাধের পরিমাণও বেড়েছে আনুপাতিক হারে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ডিজিটাল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মগুলো সক্রিয়ভাবে এসব অপরাধীদের শনাক্ত করতে কাজ করছে এবং নিরাপদ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে।

তবে, বর্তমান হাইপার-কানেক্টেড ও সবসময় অনলাইনে সংযুক্ত থাকা বিশ্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। আজকাল অপরাধীরা বিভিন্নভাবে তরুণদের প্রলুব্ধ করে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করে এবং দুর্ভাগ্যবশত অনেক তরুণরাই অপরাধীদের এসব ফাঁদে পা দিয়ে প্রায়শই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির সম্মুখীন হয়। তাই, ব্যবহারকারীদের জন্য অপরিহার্য হচ্ছে তারা যেন কোনো অপরিচিত অ্যাকাউন্টের ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ না করে এবং ব্যক্তিগত কোনো তথ্য শেয়ার না করে। পাশাপাশি, ব্যবহারকারীদের অবশ্যই কমিউনিটি গাইডলাইন বা ডিজিটাল যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের গোপনীয়তা নীতিগুলো ভালোভাবে পড়ে, মেনে চলতে হবে। কমিউনিটি গাইডলাইন হচ্ছে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এসব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রথম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যেহেতু, সবার সাথে কানেক্টেড থাকার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো চমৎকার একটি উপায়, তাই আমাদের উচিত এ প্ল্যাটফর্মগুলো নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী কী ব্যবস্থা রেখেছে সে সম্পর্কে অবহিত থাকা।

ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহারের সময় আমাদের উচিত শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) কারো সঙ্গে শেয়ার না করা। হ্যাকাররা পাসওয়ার্ড বা ওটিপি পেয়ে গেলে যে কারো অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে এবং অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে। সম্প্রতি, ইমো’র মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা বাড়াতে ফ্ল্যাশ কল ফিচার চালু করেছে। নিজের অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে সবসময় আপনার অ্যাকাউন্ট আর অন্য কোনো ডিভাইসে লগ-ইন করা আছে কিনা তা চেক করুন; উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনি আপনার ব্যবহৃত অ্যাপের সেটিং অপশনে গিয়ে ‘ম্যানেজ ডিভাইস’ অপশনে ক্লিক করে আপনার অ্যাকাউন্ট আর অন্য কোনো ডিভাইসে লগ-ইন করা আছে কিনা তা দেখতে পারেন (দেখে আপনার ডিভাইস ছাড়া অন্য সব ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট সাইন আউট করে ফেলুন)। ইতোমধ্যে, এমন একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যে, অপরাধীরা ব্যবহারকারীদের ফোন দিয়ে নিকট আত্মীয়ের ভান করে টাকা চায় এবং ভুক্তভোগীদেরকে বিপদে ফেলে। তাই, এ ধরণের বিষয়ে পুনরায় সেই আত্মীয়কে ফোন দিয়ে বা অন্য কোনো মাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে নেয়া উচিত বা যাচাই করে নেওয়া উচিত যে আসলেই ফোনকারী আত্মীয় কিনা। দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনো ফোনকল পেলে প্রথমেই সত্যতা যাচাই করে নিবেন যে সে ঘটনা ঘটেছে কিনা। কেউ যদি কোনো দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানানোর জন্য আপনাকে কল করে, তাহলে আপনার আত্মীয় বা পরিচিতদের কল করে ঘটনাটি যাচাই করার চেষ্টা করুন এবং খবরটি বিশ্বাসযোগ্য কিনা তা পরীক্ষা করুন।

এ সম্পর্কে জনপ্রিয় তাৎক্ষণিক ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যম ইমো’র প্রোডাক্ট ডিরেক্টর গেরেট বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চমৎকার সুবিধার পাশাপাশি সতর্ক না থাকলে কিছু সমস্যারও সম্মুখীন হতে হয়। এ বাস্তবতাকে বিবেচনায় রেখে ইমোতে আমরা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ সমস্যা মোকাবেলায় প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা নিয়ে যাচ্ছি। আমরা ইতোমধ্যেই জালিয়াতি বিরোধী এবং নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন পদ্ধতি চালু করেছি, যেমন এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন সহ “সিক্রেট চ্যাট” ফিচার যা ব্যাবহারকারীদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়াও আমরা ব্যাবহারকারীদের আমাদের কমিউনিটি গাইডলাইন মেনে চলার ব্যাপারে উৎসাহিত করছি এবং ব্যবহারের সুবিধা গ্রহণের সময় নিরাপদ থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের উপায় সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছি। বিভিন্ন খাতের অন্যান্য অনেক ব্র্যান্ডও এমন ব্যবস্থা নিচ্ছে দেখে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত”।

আমাদেরকে বিচক্ষণতার সঙ্গে দুরদর্শী চিন্তার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্মগুলোর উপকারিতা ও সুবিধাগুলো বুঝতে হবে এবং এর মাধ্যমে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত বিরূপ প্রভাব প্রতিরোধ করতে হবে। সুস্থধারার অনলাইন পরিবেশ বজায় রাখতে বাবা-মা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের উচিত শিশু ও তরুণদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও কথাবার্তা বজায় রাখা। পাশাপাশি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর উচিত ব্যবহারকারীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যাতে তারা শঙ্কিত না হয়ে তাদের কার্যক্রমের সাথে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং পরিবর্তিত সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে। আমাদেরকে এসব বিষয়ে আরো জানতে হবে এবং সচেতন হতে হবে এবং সেই অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে।

Continue Reading