আটোয়ারীর তোড়িয়া নুতন হাট দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
আটোয়ারী (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার তোড়িয়া নুতন হাট দাখিল মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, মাদ্রাসার সুপার মো. কলিম উদ্দীন নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য মাদ্রাসার নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ২০১৩ সালে শেষ হলে তার পছন্দের লোকদের নিয়ে ২০১৪ সালের ফেব্র“য়ারিতে এডহক কমিটি গঠন করে। এরপর এডহক কমিটির যোগসাজসে নির্বাচন ছাড়াই গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে চারজন শিক্ষক নিয়োগ দেয়। অভিযোগ উঠেছে চার জন শিক্ষকের কাছে সুপার প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন। গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে অভিভাবক মহল সুপরের কার্যালয় ঘেরাও, বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ সহ দশজন অভিভাবক বাদী হয়ে পঞ্চগড় বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে মামলা আনয়ন করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষক এ প্রতিনিধিকে জানান, এডহক কমিটির পর কখন নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে তার কিছুই তারা জানেন না। বিধি মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষকদের দ্বারা নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি থাকার কথা কিন্তু বর্তমান শিক্ষক প্রতিনিধিদেরকে তারা নির্বাচিত করেন নাই। মাদরাসার সুপার গোপনে তার পছন্দের শিক্ষকদেরকে শিক্ষক প্রতিনিধি দেখিয়ে কমিটি গঠন করেছেন। অভিভাবক আব্দুল আজিজ, আনছারুল, মফিজুল, রহিম উদ্দীন,ওসমান আলী জানান, মাদ্রাসার সুপার কলিম উদ্দীন তার কয়েকজন দোসরকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাত, নিয়োগ বাণিজ সহ যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছেন। সুপারের এসকল কার্যকলাপের ব্যাপারে কেউ কোন কথা বললে সুপার ও তার দোসররা মামলা সহ বিভিন্ন হুমকী দিচ্ছে। পূর্বের কোন কমিটি এই সুপারের কাছে মাদ্রাসার অর্থের হিসাব নিতে পারেনি। মাদ্রাসার নামে প্রায় দুই একর আবাদি জমি রয়েছে। মাদ্রাসার উক্ত জমি ও অন্যান্য উৎস থেকে আয় কোথায় যায় তার হদিশ কেউ জানেনা। আব্দুস সালাম (৭ম শ্রেণী), সপিকুল ইসলাম (৯ম) মমতাজুল হক (১০ম) মাসুদ আলী (১০ম) লাবনী আক্তার (৭ম) সাথী আক্তার(৮ম) সহ উক্ত মাদরাসার অনেক ছাত্র-ছাত্রী জানায়, কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে কোন নোটিশ দেওয়া হয়নি। খসড়া/ চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশ করা হয়নি। ম্যানেজিং কমিটি গঠনের ব্যাপারে মাদ্রাসার সুপার কলিম উদ্দীনকে জিজ্ঞাসা করলে এবং তথ্য চাইলে তিনি জানান, কাগজ-পত্র প্রক্রিয়া করে কমিটি গঠন করা হয়েছে এর বেশী তথ্য দেওয়া যাবেনা বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিভাবক মহলের দাবী বিষয়টি স্বর-জমিনে তদন্ত করে সুপারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হোক।