Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

আপন জুয়েলার্সের স্বর্ণ যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে

আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শোরুম থেকে সাড়ে ১৩ মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম হীরা বাংলাদেশ ব্যাংকে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

রোববার সকাল থেকেই সোনা ও হীরা জব্দ করা শুরু হয়েছে বলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক শাফিউর রহমান বলেন, “পাচটি শো রুম থেকে আটক সোনাগুলো একে একে ব্যাংকে জমা দেওয়া হবে।”

গহনাসহ প্রায় ১৭৯ কোটি টাকা মূল্যের সোনা ও হীরা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের কথা শনিবার রাতে জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান বলেন, “আপন জুয়েলার্সের মালিকরা স্বর্ণের বৈধতার পক্ষে কোনো কাগজ দেখাতে না পারায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেগুলো জব্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

“আগামীকাল সকালে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতিতে এসব সোনা জব্দ করে বাংলাদেশ ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়া হবে।”বনানীতে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদের বাবা দিলদার আহমেদ আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক।

এই পরিবারের বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালানের অভিযোগ থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশে একটি অনুসন্ধান কমিটি করে তদন্ত শুরু করে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। শুল্ক গোয়েন্দারা গত ১৪ ও ১৫ মে অভিযান চালিয়ে আপন জুয়েলার্সের গুলশান ডিসিসি মার্কেট, গুলশান এভিনিউ, উত্তরা, সীমান্ত স্কয়ার ও মৌচাকের পাঁচটি শো-রুমে এসব অলঙ্কার আটক করে মালিকদের জিম্মায় দিয়ে সিলগালা করে দেওয়া হয়।

দুই দফায় শুল্ক গোয়েন্দাদের মুখোমুখি হয়েও মালামালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে মইনুল খান আগেই জানিয়েছিলেন।

গত মঙ্গলবার দিলদারদের তিন ভাইকে শেষবার জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি বলেন, “২০০ জন ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ২০০ গ্রাম করে স্বর্ণ বহন (ব্যাগেজ রুলে) করেছেন এমন কাগজের ফটোকপি দেখিয়েছে তারা। কিন্তু ওই ব্যক্তিদের কাছ থেকে তারা এই সোনাগুলো কিনে নিয়েছেন কি না এমন কোনো রশিদ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

“ব্যাগেজ রুলসে আনা স্বর্ণ কমার্শিয়াল কোনো কাজে ব্যবহার করা যায় না। তাদের অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারা এই কাগজগুলো সংগ্রহ করেছে।”

এছাড়া আপন জুয়েলার্সের মালিকরা আয়কর ও ভ্যাটের দলিলে যে পরিমাণ স্বর্ণ মজুদ থাকার কথা বলেছেন, তার সঙ্গে আটক স্বর্ণের পরিমাণের বিস্তর ফাঁরাক রয়েছে বলে জানান মইনুল খান।

আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলার মধ্যেই তাদের কাছে সোনা গচ্ছিত রাখা সোনা বুঝে নিতে বলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। ১৮২ জন সেখানে সোনা গচ্ছিত রাখার দাবি করেন, যাদের ৮৫ জনকে ২ দশমিক ৩৩ কেজি সোনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বাকিদের দাবিকৃত সোনা-গহনা আপন জুয়েলার্সের জিম্মায় রাখা হবে জানিয়ে মইনুল খান বলেন, এর পরিমাণ খুব বেশি হবে না। স্বর্ণালঙ্কার জব্দের এই সিদ্ধান্তের পর বক্তব্য জানতে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদারের মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দিলদারের ছেলে সাফাত ও তার বন্ধুরা গত ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের দাওয়াতে ডেকে নিয়ে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করে অভিযোগ তুলে গত ৬ মে থানায় মামলা হয়।

এই মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাফাতের বন্ধু নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফ এবং সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল হোসেন ও তার দেহরক্ষী রহমত আলী।

এদের মধ্যে সাফাত ও নাঈমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দুই ছাত্রীর। বাকিরা তাদের সহযোগিতা করেন বলে মামলায় বলা হয়। সাফাতসহ পাঁচ আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাফাত ও নাঈম ‘দোষ স্বীকার’ করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.