Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

ইকুয়েডোরে ভূমিকম্পে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু

a-powerful-earthquake-has-killed-at-least-77-people-in-ecuador-1460902897আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইকুয়েডোরে প্রচণ্ড শক্তিশালী একটি ভূমিকম্পে অন্তত ৭৭ জনের মৃত্যু ও আরো কয়েকশ লোক আহত হয়েছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৭.৮। শনিবার রাতে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট একথা বলেছেন। রোববার ভোরে জর্জ গ্লাস বলেন, ‘ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় ৫৮৮ জন আহত হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সমগ্র ইকুয়েডোর ছাড়াও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল ও পেরুর উত্তরাঞ্চলেও ভ’কম্পন অনুভূত হয়। কর্মকর্তারা ইকুয়েডরের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৬টা ৫৮ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় ২৩টা ৫৮) ইকুয়েডরের উত্তরাঞ্চলীয় শহর মুইসনের কাছে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ১৯৭৯ সালের পর দেশটিতে এটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প। এই ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গুয়াইকুইল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে একটি সেতু ধ্বংস হয়েছে।
ইকুয়েডোরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়া ইতালি সফরে ছিলেন। তিনি উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সফর বাতিল করে দেশে ফিরছেন। তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলে, ‘এটা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক পরীক্ষা। আমি দেশবাসীকে এই শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। শক্ত হোন। আমরা এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব।’
তিনি আরো বলেন, ‘রাস্তাঘাত ও হাসপাতাল আবার তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু প্রাণ হারালে আর ফিরে পাওয়া যাবে না। এটাই সবচেয়ে বড় আঘাত।’ এখনো ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কিছু এলাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি।
পেডারন্যালে শহরের মেয়র গ্যাব্রিয়েল অ্যালসিভার বলেন, ‘আমাদের পক্ষে যতদূর সম্ভব আমরা করার চেষ্টা করছি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমাদের করার কিছুই নেই।’ শহরটি ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থরের কাছেই অবস্থিত। মেয়র আরো বলেন, বেশ কয়েকটি ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে এবং লুটপাট শুরু হয়ে গেছে। অ্যালসিভার বলেন, ‘ভূমিকম্পে শুধু একটি বাড়িই ধসে পড়েনি, বরং গোটা শহরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
বোইয়াসার বাসিন্দা কার্লা পেরাল্ট বলেন, ‘আমরা আমাদের জীবনে এ ধরনের কিছু দেখিনি। ভূমিকম্পটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। ভূমিকম্পের সময় আমি অনেক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আমি তখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থণা করছিলাম যে হে ঈশ্বর দয়া করে এটা বন্ধ করো।’
তিনি আরো বলেন, আমি ভেবেছিলাম যে আজ আমি মারা যেতে পারি।’ মান্টা নগরীতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শহরে বেশ কিছু ভবন ধ্বংস হয়েছে। এগুলোর মধ্যে বিমানবন্দরের ভবনও রয়েছে।
মান্টার বাসিন্দা রামোন সোলোরজানো বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় অধিকাংশ লোক রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তারা উঁচু স্থানের দিকে দৌড়াতে থাকেন। ভূমিকম্পে রাস্তাগুলোতে ফাঁটল দেখা দেয়। এ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ফোনের সংযোগও কেটে যায়।’
৬০ বছর বয়সী মারিয়া টোরেস বলেন, ‘হায় ঈশ্বর! আমি আমার সারা জীবনে এমন শক্তিশালী ও বড় ভূমিকম্প দেখিনি। এটি দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী ছিল। এ সময় আমার মাথা ঘুরাচ্ছিল।’ তিনি ইকুয়েডোরের রাজধানী কুইটোর বাসিন্দা। এখানে শনিবার সন্ধ্যার এই ভূমিকম্পে আতঙ্কিত মানুষ দৌড়ে বাড়িঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে।
মারিয়া আরো বলেন, ‘আমি হাঁটতে পারছিলাম না। আমি দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তায় যেতে চাচ্ছিলাম। কিন্তু আমি তা পারিনি।’ ইকুয়েডোরের ভাইস প্রেসিডেন্ট জর্জ গ্লাস বলেন, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। টেলিভিশনে তার বিবৃতি সম্প্রচার করা হয়।
ভাইস প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছয়টি প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। জর্জ আরো বলেন, ‘জনগণের জীবন রক্ষায় পুলিশ, সেনা সদস্য ও জরুরী বিভাগের কর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থায় রাখা হয়েছে।’
এএফপি’র এক আলোকচিত্রী জানান, প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর নগরী গুয়াইয়াকুইলের একটি সেতু ধসে গেছে। এতে সেতুর নিচে থাকার একটি গাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গেচুড়ে গেছে। এই নগরীতে ২০ লাখ লোকের বাস।
ইকুয়েডরের জিওফিজিকাল অফিস থেকে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পটি কেন্দ্রস্থলের কাছে অবকাঠামোগুলোর ‘বড় ধরনের’ ক্ষতি হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ইকুয়েডোরের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলের অদূরে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্লাস অবশ্য জানান, ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৭.৬।

Leave A Reply

Your email address will not be published.