Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

‘ইটভাটার ইটের সাথে ওদের স্বপ্নও যেন পুড়ে ছাই হতে চলেছে’

halua ghatহালুয়াঘাট প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ:
হালুয়াঘাট উপজেলায় ইদানীং কিছু ইটভাটায় শিশুশ্রমের চিত্র ফুটে উঠেছে। যাদের প্রত্যেকের বয়স ৮ বা ১০ বছরের নিচে। যদিও এসকল শিশুদের বিদ্যালয়ে যাওয়ার এখন উপযুক্ত সময় তথাপি ইটভাটায় স্বল্প মজুরিতে ব্যস্ত আছে তারা।
লিটন, দীন ইসলাম এবং শাকিল আহমেদ। তিনজনের বাড়িই হালুয়াঘাট উপজেলার দড়িনগুয়া গ্রামে। বয়স ৮ এর নিচে। লিটনের বয়স যখন ৪ বৎসর তখন থেকেই ইটভাটায় কাজ শুরু করে সে। প্রতিসপ্তাহে ৩শ’ টাকা বেতনের বিনিময়ে চলে তার ইটভাটায় কাজ। দৈনিক ৪০/৪৫ টাকা বেতন পেলেও কোনদিন আবার তাও ভাগ্যে জোটে না। এর মধ্যে মালিকের বকাঝকাতো আছেই।
লিটন জানায়, নানা-নানীর আশ্রয়ে সে বড় হয়েছে। তার পিতা আ. রাজ্জাক ঢাকায় রিকশা চালায় এবং মা বাসায় কাজ করে। মায়ের সাথে বাবার বনিবনা না হওয়ায় সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। মা-বাবার আদর কি জিনিস তা তার ভাগ্যে জুটে নি। একদিকে বাবা-মার অনাদর আর অবহেলা এবং অপরদিকে নানা-নানীর নিপীড়ন সবকিছু মিলিয়ে অবুঝ লিটনের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। লিটনের স্বপ্ন বলতে কিছু নেই বলে জানায় সে। প্রতিদিন ইটভাটায় কাজ করে দুমুঠো ভাত খাওয়াই তার একমাত্র চিন্তা। একটিমাত্র বোন ৬ বৎসরের পূর্ণিমা, সেও ময়মনসিংহের একটি বাসায় কাজ করে। জীবনের স্বপ্নের কথা জানতে গেলে আক্ষেপ করে লিটন বলে, ইটভাটা হচ্ছে আমার একমাত্র জগৎ। ইটের কাজ ছাড়া আর কিছু ভাবতে পারি না আমি। ইটভাটায় যে সকল শিশুরা কাজ করে তারাই তার বন্ধু।
এছাড়া অপর দুই শিশু শাকিল ও দীন ইসলাম জানায়, ৪/৫ বৎসর যাবৎ চলছে তাদের শিশুশ্রম। ৪ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ৫ নম্বর শাকিল। বাকি ভাইয়েরা দীন মজুরের কাজ করে। পিতা ঢাকায় অটো চালায়। এছাড়া শাকিল পরের বাড়িতে বাৎসরিক চুক্তিতে কাজ করতে গিয়ে আরেক কষ্টের কথা জানায়। গৃহকর্তার বকুনি, বিনা কারণে অত্যাচার সবই তাকে বিষিয়ে তুলেছিল। সাকিলের গাড়িতে হেল্পারের অভিজ্ঞতাও রয়েছে। কিন্তু গাড়ির ডিউটি শেষ করে রাতে ঘুমাতে গেলে মশার অসহ্য কামড় আজও তাকে ব্যথিত করে। সে একজন ড্রাইভার হতে চায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.