কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার সীমাহীন দুর্নীতি দুটি তদন্ত কমিটি গঠন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সরকারী খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হকের সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছা চারিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার মিল-চাতাল মালিকরা তার অপসারনের দাবীতে খাদ্য মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগে অভিযোগ পত্র দায়ের করেছে। এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জানা গেছে, মোঃ ফজলুল হক দুই বছর আগে নাগেশ্বরী উপজেলার খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। গত ২০১৩-১৪ এবং ২০১৪-১৫ বোরো ও আমন সংগ্রহ মৌসুমে নিজের পারিবারিক অসুবিধা এবং খাদ্য সরবরাহে মিলারদের সুবিধা দেয়ার কথা বলে কিছু সংখ্যক মিলারের নিকট থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা কর্জ নেন। পরবর্তীতে তা পরিশোধের কথা থাকলেও নানা অজুহাতে পরিশোধ করেননি। বোরো মৌসুমে চালের গুনগত মান থাকা সত্বেও মিল মালিকদের নিকট থেকে বস্তা প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা আদায় করেন। মিলাররা টাকা দিতে আপত্তি জানালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চাউল ফেরত দেন। এর আগে ভুরুঙ্গামারী উপজেলার জয়মনির হাট খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন কালে মোঃ ফজলুল হক ভুয়া W.Q.S.C বিল করে ১০ লাখ ৩৫হাজার ১শ টাকা আত্মসাৎ করে। পরে নি¤œ স্তরের কর্মচারীর উপর দোষ চাপিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।
সরকারী কর্মকর্তা হওয়া সত্বেও স্বনামে-বেনামে নিজস্ব পরিবহনে টি.আর, জি.আর ও কাবিখা খাতের মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী উপজেলার মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের সরকার জানান, ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা ফজলুল হক একজন ধুরন্দর ও দুর্নীতিবাজ ব্যাক্তি। তার স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মে আমাদের ব্যবসা লাটে উঠার উপক্রম হয়েছে। বাধ্য হয়ে তার অপসনের দাবীতে উপজেলার ৭০ মিল-চাতাল মালিকের মধ্যে ৬৬ জন স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া হয়েছে। আমরা দ্রুত তার অপসারন চাই।
ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ষড়যন্ত্র মূলক ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্ল্যা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আশরাফুজ্জামান জানান, ফজলুল হকের বিরুদ্ধে মিল-চাতাল মালিকদের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র পেয়েছি। বিষয়টি উর্ধতন কর্মকর্তাকে জানানোর পর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে ফজলুল হকের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।