কুড়িগ্রামে ঝুঁকিপুর্ন সেতু দিয়ে দেড় লক্ষ মানুষের পারাপার
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ-কালিগঞ্জ সিএন্ডবি রাস্তার মন্নেয়ারপাড় বিলের উপর ১৯৮৬সালে নির্মিত ফুট ব্রীজটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় ৫টি ইউনিয়নের দেড় লক্ষাধিক মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতুর দিয়ে বাধ্য হয়ে চলাচল করছে। কালিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর ইসলাম জানান, ভিতরবন্দ, কালিগঞ্জ, কেদার, নারায়নপুর, বল্লভেরখাস ইউনিয়ন ৫টির প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ সেতুটি দিয়ে জেলা ও উপজেলা শহরে যাতায়াত করে। সেতুটি দিয়ে শুধু রিক্সা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ী চলাচল করে। কোন বাস ট্রাক বা ভারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। গত ৪ বছর ধরে সেতুটির পিলারগুলি নড়বড়ে হয়ে গেছে। ইউংওয়াল ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচল করতে ভয় পায় পথচারীরা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি ৬টি পিলারের উপর অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ ১৯৮৬ সালে ১০০ফুট দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণ করেন। ২৮ বছরে সেতুটির উপরাংশের রেলিং গুলি ভেঙ্গে গেছে। পিলারের প্লাটফর্মে বিছানো ইট এলাকার লোকজন তুলে নিয়ে গেছে।
সেতুর পাশের বাসিন্দা ইয়াকুব আলী জানান, সেতুটি দিয়ে বাস ট্রাক তো চলেই না ৮/১০ মণ ওজনের জিনিস পত্র নিয়ে ঠেলাগাড়ী ভ্যানগাড়ী চলতেও ভয় পায়।
একই গ্রামের ইছিমুদ্দিন বলেন, প্রায় দিন অনেক পথযাত্রী রিক্সায় ও সাইকেলে যাতায়াত করতে দুর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে।
কালিগঞ্জের কৃষক রিয়াজুল ইসলাম প্রধান বলেন, কালিগঞ্জ বাজার থেকে উপজেলা ও জেলায় ধান পাট নিতে গেলে সেতুটির ভগ্ন দশার কারণে লোড-আনলোড করতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বেশি বহন করতে হয়।
একই এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, “লেখেন বাহে যাতে তাড়াতাড়ি হামার এই পুলখ্যান(ব্রিজ) হয়। এডা হামার পরাণের (প্রাণ) দাবী”।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুন হক বলেন, ব্রীজটি প্রিয়টিক ম্যান্টিন্যান্স প্রোগ্রামে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। সেতু মন্ত্রনালয় অনুমোদন দিলে আগামী বছরে ১০০ফুট একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হবে।