Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

কুড়িগ্রাম যাত্রাপুরে পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ভাংঙ্গন

Kurigram River Erosion photo-(1) 11.06.15

শাহ্ আলম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

অবিরাম বৃষ্টি আর পাহাড়ী ঢলে দুধকুমার নদীর প্রবল স্রোতে কুড়িগ্রাম যাত্রাপুরে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে উত্তর ও দক্ষিন গারুহারা বিশাল এলাকা। মুহূর্তের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে আবাদী আর ভিটে মাটি। স্থানীয় লোকজন বাড়ী ভিটা সরিয়ে নিতে সময় পাচ্ছে না। নদীর তীব্র ভাঙ্গন দেখে এলাকার লোকজন আতংকগ্রস্থ হয়ে পরেছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিন গারুহারা এলাকায় দুধকুমার নদীর পারে গিয়ে দেখা যায় ভাংঙ্গনের তিব্রতা। উত্তর ও দক্ষিন গারুহারার এলাকায় বেগমগঞ্জ ও যাত্রাপুর ইউনিয়নের সংযোগ সড়কের মধ্যবর্ত্তি স্থানে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় প্রায় ২ শত মিটার ভেঙ্গে যায়।

ভাঙ্গন কবলিত উত্তর গারুহারার ৭৫ বছরের বৃদ্ধ কোরবান আলী জানায়, পানির ঘুর্নি পাকের কারনে তীব্র ¯্রােতের সৃষ্টি হয়। এবং নদীর দু’পাড়ের মাটি ভেঙ্গে পড়ছে। চোখের সামনে আবাদী জমি আর ঘর বাড়ী ভেঙ্গে যাচ্ছে। এমন ভাঙ্গন জীবনে দেখি নাই। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা না নিলে এলাকা দুইটি অচিরেই বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

Kurigram River Erosion photo-(2) 11.06.15

এ অবস্থা দেখে ভিতসন্ত্রস্ত হয়ে পরেছে এলাকার সাহাদৎ হোসেন মাষ্টার ও সোমেদ আলী। উভয়ে জানায়, দুই বছর থেকে নদীর ভাঙ্গন চলছে। আমরা বারবার উদ্ধর্তন মহলে জানিয়েছি। কোন লাভ হয় নাই।

বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোকা মোল্লা ও পরিষদের সচিব আব্দুর ছাত্তার জানান, আমি নদীর পারের মানুষ। জীবনে এমন ভাঙ্গন দেখি নাই।

বাড়ী সরিয়ে নিচ্ছে দিনমজুর আবুল কাশেম, সেকেন্দার আলী, গোলাপ হোসেন। এসময় তারা জানান, এখন কোথায় যাব জানিনা। ভাঙ্গনের মুখে পরেছে কোবাদ আলী, ছোমেদ আলী, ছামাদ, তাইজুল ও আহাদ। নদীর অবস্থা দেখে এরা সবাই শংকিত। তারা বলেন নিজের কোন জায়গা জমি নাই। এখন কোথায় আশ্রয় নিব জানিনা। যে ভাবে নদী ভাঙ্গছে তাতে দু একদিনের মধ্যে বাড়ী সরাতে হবে।

পানি উন্নয়ন বের্ডের সাব উপসহকারী প্রকৌশলী মহিবুর ইসলাম জানান, দুধকুমোর নদীতে তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা এত বেশী নিমিষেই সব শেষ করে দেয়। তিনি আরও বলেন দুধকুমোর নদীতে যে জায়গায় ৫শত মিটার ভাঙ্গন রোধে কাজ হচ্ছে তার উত্তরে ভাঙ্গন চলচ্ছে। এখানে আরও এক হাজার মিটার কাজ হলে ভাল হতো। তিনি আরও বলেন গত বছর একটি প্রকল্প তৈরী করে ঢাকায় পাঠান হয়েছিল। এখনও পাশ হয় নাই।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, দুই বছরে আড়াই হাজার পরিবার নদীর ভাঙ্গনের স্বীকার হয়েছে। ভাঙ্গন রোধে মিছিল মিটিং করেছি। এর ফলে এবার বাঁশের পালিং এর কাজ শুরু করেছে। পাইলিং দিয়ে ভাঙ্গন রোধ করা যায়। আমার নিজ উদ্যোগে দুইবার পালিং দিয়েছি টেকেনি। এবারও তাই হবে। তবে আজ গারুহারার ভাঙ্গন দেখে আমি নিজে ভিত হয়ে পড়েছি। সরকারের কাছে অনুরোধ মানুষের ভিটেমাটি আর আবাদী জমি বাঁচাতে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হোক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.