গোবিন্দগঞ্জে ইক্ষু খামারের জমি অবৈধভাবে দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন
গোবিন্দগঞ্জ(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার একমাত্র কৃষিভিত্তিক ভারীশিল্প কারখানা রংপুর চিনিকলের মালিকানাধীন ইক্ষুর জমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে রক্ষার দাবীতে চিনিকলের শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাপক বিক্ষোভ অব্যাহত আছে। গতকাল সোমবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরের চতুরঙ্গ মোড়ে সহস্রাধিক শ্রমিক-কর্মচারী মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন। এসময় মিছিল-শ্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে গোবিন্দগঞ্জ শহর। মানববন্ধন চলাকালে উপজেলা গেট এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, গাইবান্ধা জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ হোসেন ফকু, জেলা ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদের যুগ্ম আহব্বায়ক ও মহিমাগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ প্রধান, চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল আউয়াল, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আব্দুল মজিদ, রংপুর চিনিকল আখ চাষী সমিতির সভাপতি জিন্নাত আলী প্রধান, শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল, সহ-সভাপতি আব্দুল ছালাম, সহ-সম্পাদক ফারুক হোসেন ফটু, তোফাজ্জল হোসেন প্রমূখ। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকারী সম্পদ সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের রক্ষা করার দায়িত্ব¡ গাইবান্ধা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের হলেও রহস্যজনক ভাবে তারা নিশ্চুপ থাকার সুযোগে একটিপ্র ভূমিদস্যু গ্রুপ অবৈধভাবে উঠতি আখ কেটে ফেলে ঘরবাড়ী তৈরি করে সেখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এর ফলে গাইবান্ধা জেলা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় একটি বৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পাঁয়তারা চলছে বলে সবার মনে বদ্ধমূল ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান সরকার যখন চিনিশিল্প রক্ষাকল্পে সমুদয় সম্পদের বহুমূখী ব্যবহারের মাধ্যমে রংপুর চিনিকলে বহুমূখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, ঠিক তখনই বিগত সময়ে রংপুর চিনিকলের মালিকানাধীন সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি লীজের নামে দখল করে খাওয়া এই গ্রুপটির হাত থেকে জমি ফেরৎ নেয়ার পর থেকেই তারা এ ষড়যন্ত্র শুরু করে। এতে প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রদান শুরু করে প্রশাসন। এব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার অবহিত করার পরও রহস্যজনক কারণে তারা সরকারী সম্পদ রক্ষায় কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করেননি। বক্তারা আরো বলেন, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে অবিলম্বে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে সরকারী সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে রাজপথ-রলপথ অবরোধসহ বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে। এসময় কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে এর দায়-দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে।