জর্দানে ১০ মাস ধরে চলে চুনারুঘাটের রুনার উপর পাশবিক নির্যাতন
চুনারুঘাট প্রতিনিধি:
এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটেছে চুনারুঘাট উপজেলার গোবরখলা গ্রামে। ঐ গ্রামের মাসুক মিয়ার সুন্দরী স্ত্রী রুনা বেগম (২০) বিদেশে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
গত বুধবার রাত ৮টায় সরেজমিনে গিয়ে শোনা যায়, রুনা বেগমের আহাজারী। অভাব-অনটনের সংসারে জীবন চলছিল না। এ দুর্বলতার সুযোগে একটা দালাল চক্র তাকে প্রস্তাব দেয় যদি তুমি কিছু টাকার ব্যবস্থা করতে পারো তাহলে তোমাকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিতে পারি। তাদের কথা রুনা বিশ্বাস করে কিছু টাকা যোগাড় করে দালালদের হাতে দেয়। দালালরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যায় এবং একটি ট্রাভেলসে রাখে। গত বছরের ২৪ মে রাতে বিমানযোগে জর্দান পাঠায়। সেখান থেকে রুনাকে একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। রুনা সেখানে দেখতে পায় হবিগঞ্জের আরো কয়েক দালাল ও ৪০টি যুবতী মেয়ে রয়েছে। ঐ হোটেলে রুনাকে আটকে রেখে দালালসহ ওই দেশের লোক মিলে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে দালালরা রুনার বাড়িতে ফোনে জানায়, যদি রুনাকে দেশে আনতে চাও বিমান ভাড়ার টাকা পাঠাও। দালালদের কথা মত রুনার স্বামী মাসুক মিয়া তার একটি মাত্র সম্বল বাড়ি, সে বাড়িটি বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা পাঠালে অসুস্থ অবস্থায় রুনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার রাতে রুনার স্বামী ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে অসুস্থ অবস্থায় রুনাকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং গত বুধবার সকালে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
রুনা আরো জানায়, বিদেশ যাওয়ার দিন থেকে ১০ মাস ধরে ঐ হোটেলে আটক রেখে দিনের পর দিন তার উপর এবং সেখানে অবস্থানরত অন্যান্য যুবতীদের উপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। অনেকেই দেশে ফিরে আসতে না পারায় বাধ্য হয়ে সেখানে লালসার শিকার হয়ে দিনযাপন করছে। ফলে বাধ্য তাদের হয়ে কথামত কাজ করতে হয়।
সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক দেবাশীষ দাশ জানান, পাশবিক নির্যাতনে রুনার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়েছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চিকিৎসা করছি। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলায় চাঞ্চল্যেকর সৃষ্টি হয়েছে।