Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

টি-২০ তে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো হারালো বাংলাদেশ

2015-04-24_5_217820২০০৭ সালে প্রথম টুয়েন্টি টুয়েন্টি ফরম্যাটে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এরপর গেল আট বছরে আরও ৬ বার মুখোমুখি হয় দু’দল। কিন্তু কোনবারে পাকিস্তানকে হারাতে পারছিলো না বাংলাদেশ। অবশেষে অষ্টম ম্যাচে এসে পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো হারের স্বাদ দিলো টাইগাররা।

চলতি সফরের একমাত্র টি-২০ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৭ উইকেটে বড় ব্যবধানে হারায় টাইগাররা। টি-২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশের এটি ১২তম জয়। প্রথমে ব্যাট করা পাকিস্তান ৫ উইকেটে ১৪১ রান করে। জবাবে সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমানের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ২২ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। ফলে এক ম্যাচের সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে জিতে নিলো স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিলো বাংলাদেশ।

একমাত্র টি-২০ ম্যাচ জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ১৪২ রান। সেই লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে সিক্স-এ-সাইড স্টাইলে ব্যাটিং শুরু করেন বাংলাদেশের ওপেনার তামিম ইকবাল। পাকিস্তানী বোলার মোহাম্মদ হাফিজের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বল পর্যন্ত ১৪ রান তুলে ফেলেন তামিম। ফলে চিন্তায় পড়ে যায় সফরকারীরা। কিন্তু পঞ্চম বলে চিন্তামুক্ত হয় তারা। কারন ঐ বলে তামিমের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে রান আউটের ফাঁেদ পড়েন আরেক ওপেনার অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা সৌম্য সরকার। শুন্য রানে ফিরেন তিনি।

এরপর দ্রুত ফিরেছেন তামিম ও মুশফিকুর রহিমও। বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তারা। তামিম ১৪ ও মুশফিকুর ১৯ রান করে থামেন। তাদের বিদায়ে ৩ উইকেটে ৩৮ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। তখন চিন্তায় মগ্ন পুরো বাংলাদেশ। তবে এখানেই উইকেট শিকারে থেমে যেতে হয় পাকিস্তানের।
এরপর বাংলাদেশকে চিন্তা থেকে জয়োল্লস করার পরিবেশ তৈরি করে দেন সাকিব আল হাসান ও সাব্বির রহমান। ওয়ানডে সিরিজে ভালো ব্যাটিং করতে না পারা সাকিব, বিপদের মধ্যেও সফরকারী বোলারদের আক্রমন করে খেলেন। তার সাথে তাল মেলান সাব্বির।

তাতেই ২২ বল হাতে রেখে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। চতুর্থ উইকেটে অনবদ্য ১০৫ রানের জুটি গড়েন সাকিব ও সাব্বির। পাকিস্তানের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে নতুন রেকর্ড জুটির জন্ম দেন তারা। সেই সাথে দু’জনই পান হাফ-সেঞ্চুরির দেখা। টি-২০ ক্যারিয়ারের পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া সাকিব ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ৪১ বলের ইনিংসে ৯টি বাউন্ডারির মার ছিলো। আর টি-২০ ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া সাব্বির অপরাজিত থাকেন ৫১ রানে। তার ৩২ বলের ইনিংসে ৭টি চার ও ১টি ছক্কা ছিলো। পাকিস্তানের পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন ওয়াহাব রিয়াজ ও উমর গুল।

এর আগে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজ টস পাকিস্তানের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদির পক্ষে কথা বলেছে। তাই প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেন আফ্রিদি। অধিনায়কের এমন সিদ্বান্তকে সঠিকই প্রমান করতে ওপেনার হিসেবে ২২ গজে হাজির হন দুই ওপেনার আহমেদ শেহজাদ ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা মুক্তার আহমেদ। বাংলাদেশী বোলারদের দুর্দান্ত বোলিং-এর সামনে শুরু থেকে নড়বড়ে ছিলেন সফরকারী দুই ওপেনার।

ফলে পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে বিনা উইকেটে রান উঠেছে মাত্র ৩১ রান। উইকেট একটি পড়তে পারতো। যদি না উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিম ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে স্টাম্পিং মিস না করতেন। সাকিবের বলে উইকেট ছেড়ে খেলতে গিয়ে বলের লাইন হারান মুক্তার। তখন তার রান ছিলো ১৫।
ফলে দলের স্কোর ৫০ রানে নিয়ে যান দুই ওপেনার শেহজাদ ও মুক্তার। আর ৯ ওভারের শেষ বলে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। পেসার তাসকিন আহমেদের হাত ধরে আসে সেই সাফল্য। তবে এই আউটের পিছনে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিলো টাইগার দলপতি মাশরাফির। লং-অফে দুর্দান্ত এক ক্যাচ ধরেন মাশরাফি। ফলে ১৭ রানে থামে শেহজাদের ইনিংসটি।

রান তোলার গতি কম থাকায়, তিন নম্বরে ব্যাটিং-এ আসেন আফ্রিদি। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি তিনি। ৯ বলে ১২ রান করে অভিষেক হওয়া স্বাগতিক পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হন আফ্রিদি।

পাকিস্তান দলপতির কিছুক্ষন পরই প্যাভিলিয়নে ফিরেন ১৫ রানে জীবন পাওয়া মুক্তার। এবার আর স্টাম্পিং-এর সুযোগ হাতছাড়া করেননি মুশফিকুর। আরাফাত সানির বলে ৩০ বলে ৩৭ রান করে আউট হন মুক্তার।

১৩ ওভারের প্রথম বলে মুক্তারের বিদায়ের সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিলো ৭৭ রান। এরপর দলের রানের পালে হাওয়া জোগানোর দায়িত্ব ছিলো মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু তারা পারেননি বড় ইনিংস খেলতে। এজন্য বাহ-বা দিতেই হবে স্বাগতিক বোলারদের। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ হাফিজের ২৬ ও হারিস সোহেলের অপরাজিত ৩০ রানে ৫ উইকেটে ১৪১ রান করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের পক্ষে ২০ রান ২ উইকেট নিয়েছেন অভিষেক হওয়া মুস্তাফিজ।

স্কোর কার্ড :
পাকিস্তান ইনিংস :
মুক্তার আহমেদ স্ট্যাম্পিং মুশফিকুর ব সানি ৩৭
আহমেদ শেহজাদ ক মাশরাফি ব তাসকিন ১৭
শহিদ আফ্রিদি ক মুশফিকুর ব মুস্তাফিজুর ১২
হারিস সোহেল অপরাজিত ৩০
মোহাম্মদ হাফিজ এলবিডব্লু ব মুস্তাফিজুর ২৬
সোহেল তানভীর রান আউট ৮
অতিরিক্ত বা-২, লে বা-৫, ও-৪ ১১
মোট ৫ উইকেট, ২০ ওভার ১৪১

উইকেট পতন : ১/৫০ (শেহজাদ), ২/৬৪ (আফ্রিদি), ৩/৭৭ (মুক্তার), ৪/১২৬ (হাফিজ), ৫/১৪১ (তানভীর)।
বাংলাদেশ বোলিং :
বোলার ওভার মেডেন রান উইকেট
মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ০ ২০ ২ ও- ২
সাকিব আল হাসান ৪ ০ ১৭ ০ —
মাশরাফি বিন মর্তুজা ৪ ০ ২৯ ০ —
আরাফাত সানি ২ ০ ২৩ ১ ও-১
তাসকিন আহমেদ ৪ ০ ২৯ ১
নাসির হোসেন ২ ০ ১৬ ০ ও-১

বাংলাদেশ ইনিংস :
তামিম ইকবাল ক হাফিজ ব গুল ১৪
সৌম্য সরকার রান আউট (আজমল) ০
সাকিব আল হাসান অপরাজিত ৫৭
মুশফিকুর রহিম ব ওয়াহাব ১৯
সাব্বির রহমান অপরাজিত ৫১
অতিরিক্ত লে বা-১, ও-১ ২
মোট ৩ উইকেট, ১৬.২ ওভার ১৪৩

উইকেট পতন : ১/১৪ (সৌম্য), ২/১৭ (তামিম), ৩/৩৮ (মুশফিকুর)।

পাকিস্তান বোলিং :
বোলার ওভার মেডেন রান উইকেট
মোহাম্মদ হাফিজ ১ ০ ১৪ ০
সোহেল তানভির ৩ ০ ১৬ ০
উমর গুল ২ ০ ২৩ ১
সাইদ আজমল ৩.২ ০ ২৫ ০
ওয়াহাব রিয়াজ ৪ ০ ৩৯ ১
শহিদ আফ্রিদি ৩ ০ ২৫ ০

ফল : বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ : এক ম্যাচের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতলো বাংলাদেশ।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সাব্বির রহমান (বাংলাদেশ )।

Leave A Reply

Your email address will not be published.