Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

ঠাকুরগাঁওয়ে নদীর বুকে ধান চাষ

Thakurgaon River Pic-2আব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে মরা নদীরগুলোর বুক ভরে উঠেছে ভূমিহীন চাষীদের ফলানো ধানে। মৃতপ্রায় এসব নদ-নদীতে জেগে ওঠা বালুচরে বোরো ধান চাষ করছেন ভূমিহীন দরিদ্র কৃষকরা। এতে নদীর তীরের দরিদ্র কৃষকদের আপাত সচ্ছলতাও এসেছে। জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় ১২টি নদীর উৎসমুখ ভারতের উজানে একতরফা ভাবে বাঁধ নির্মাণ করার ফলে শুকনো মৌসুমে এসব নদ-নদীতে চর পড়ে যায়। আর এ সুযোগে নদী তীরবর্তী ভূমিহীনরা নদীর চরকেই চাষাবাদের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেয়। শুকনো মৌসুমে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর জেলার ছোট-বড় নদীগুলোতে বোরো ধান চাষ করেছেন সহস্রাধিক কৃষক।
বর্তমানে রোপন পরবর্তী পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। নদীতে ধানের সবুজ চারাগাছ বাতাসে দোল খাচ্ছে। নদী বক্ষের বিস্তীর্ণ এলাকা ধান গাঁছের কাচা রঙে সবুজ হয়ে উঠেছে। শুধু টাঙ্গন নদীতেই নয়, জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় প্রায় ১২টি নদীর চিত্র একই। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে বাঁধ নির্মাণের কারণে প্রতিবছর এই মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিটি নদীই পানিশূন্য হয়ে যায়। চুয়ে আসা সামান্য পানিতেই নদীর দুই কূলের ভূমিহীনরা প্রতিবছরই চাষ করে আসছেন বোরো ধান।
ঠাকুরগাঁও জেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠাকুরগাঁও টাংগন, সেনুয়া, ভুল­ী, ঢেপা, শুক, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অহনা, তিরনই, রানীশংকৈলের কুলিক, পীরগঞ্জের লাচ্ছি, চরনা এবং হরিপুর উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া নাগর নদীতে এখন বিস্তৃীর্ণ চর। প্রায় প্রতিটি নদীর বালুচরে চাষ করা হয়েছে বোরো ধান। অধিকাংশ চাষীই গত ৮/১০ বছর থেকে জেগে ওঠা চরে বোরো ধান চাষ করছেন। নভেম্বর মাস থেকে নদীতে পানি কমে গেলে বালুচরের জায়গা নিজেদের দখলে নিয়ে বোরো চাষের উপযোগী করে তোলার জন্য কাজে নেমে পড়েন চাষীরা। মাস দুয়েক পরিশ্রম করে বেদা ও কোদাল দিয়ে বালু সরিয়ে আইল বেঁধে পানি আটক করা হয়। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে জমি সমান করার পর বোরো ধান রোপন করা হয়। নদী চরে বোরো ধান চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা। বিপরীতে এক বিঘা জমিতে ধান আসে ২২ থেকে ২৫ মণ। তা দিয়েই ভূমিহীন কৃষকদের কয়েক মাসের খাবারের জোগান হয়। আগাম ধান লাগানোর কারণে এবার তারা জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রথম সপ্তাহেই ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।
ভূমিহীন দিনমজুর রশিদুল ইসলাম জানান, নিজের জমি না থাকায় বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া টাঙ্গন নদীতে ১ বিঘা জমি গত কয়েক বছর থেকে বোরো ধান চাষ করে আসছেন। এ জমির ধান থেকেই তার পরিবাররের কয়েক মাসের খাবারের জোগান হয়। খালপাড়া এলাকার ভূমিহীন ফজল আলী জানান, এবার টাঙ্গন নদীতে ২ বিঘা বোরো ধান লাগিয়েছেন। বর্ষার সময় পানির সঙ্গে যে পলি পড়ে তা আমাদের ধান ক্ষেতের সার হিসেবে কাজে লাগে। তাই অতিরিক্ত সার দিতে হয় না। তবে নদীতে ধান লাগানো অনেক চাষীই আগাম বর্ষার আশঙ্কা করছেন।
জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ছোট-বড় সব নদীতেই বোরো ধান চাষ হয়েছে। সাধারণ ব্রি-২৮, ব্রি-৩২ জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে। এভাবে সহস্রাধিক চাষি বালু চরের প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী, ‘ভূমিহীন কৃষকেরা সুযোগ পেলেই এসব নদীর চরে চাষাবাদ করেন। এখন তারা বোরো আবাদ করছেন।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এ.কে.এম শরিফুল ইসলাম বলেন, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী ড্রেজিং করে বাঁধ ও জলকপাট নির্মাণ করতে হবে। সেইসঙ্গে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কৃষিক্ষেত্রে সেচসুবিধা অব্যাহত রাখা সম্ভব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.