‘তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত দেশ গড়তে প্রয়োজন দেশি কনটেন্ট’
অনলাইন ডেস্ক: ‘তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে শুধুমাত্র ইন্টারনেট কিংবা স্মার্টফোন ব্যবহারকারী বাড়লেই হবে না, প্রয়োজন দেশি কনটেন্ট।’- বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গ্রামীণফোন স্মার্টফোন ও ট্যাব এক্সপো ২০১৬’র শেষ দিনে এ কথা বলেন।
‘গ্রামীণফোন স্মার্টফোন ও ট্যাব এক্সপো ২০১৬’ আয়োজনের অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১১ টার দিকে অনুষ্ঠিত হয় ডিজিটাল কনটেন্ট ও কানেকটিভিটি নিয়ে বিশেষ সংলাপ। সংলাপে বক্তারা ডিজিটাল কনটেন্ট ও ইন্টারনেট সংযোগ বাড়ানোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। সেখানে কনটেন্ট ও কানেকটিভিটির প্রসারে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেয়া হয়।
শামীম আহসান বলেন, দেশের কনটেন্ট ডেভেলপারদের ব্যবসায় প্রসারে প্লাটফর্ম দেবে বেসিস। কানেক্টিং স্টার্টআপ, সিডস্টারস ওয়ার্ল্ড, ইনকিউবেটরে জায়গা বরাদ্ধ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইইএফ লোন সুবিধা, ফেনক্সসহ বিভিন্ন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে বিনিয়োগসহ তাদের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল সুবিধা দেওয়া হবে।
টেকশহরডটকম, এক্সপো মেকার ও গ্রামীণফোন আয়োজিত এই সংলাপে আলোচক হিসেবে বেসিস সভাপতি শামীম আহসানের সঙ্গে ছিলেন গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক, মাইক্রোসফট বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সোনিয়া বশির কবির ও টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সভাপতি রাশেদ মেহেদী। সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এর সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।
গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন বলেন, আমরা বিভিন্ন জরিপে দেখেছি দেশে এখনো ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। গ্রামীণফোনের হিসেবে স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবহারের গ্রোথ এখন ১৯ শতাংশ। আমাদের আসলে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন বেড়েছে। এর সঙ্গে কনটেন্টও বাড়াতে হবে। অবশ্য এই কনটেন্ট বাড়াতে শুধু একটি অপারেটর কাজ করলে হবে না। সবাইকে কাজ করতে হবে।
মাইক্রোসফট বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সোনিয়া বশির কবির বলেন, আমাদের কাজ করতে হবে মানুষের প্রয়োজন বুঝে। তাই শুধু কনটেন্ট ডেভেলপ করলেই হবে না। এর সঙ্গে অবশ্যই আমাদের কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে হবে। তবে আমার মনে হয় টেলিকম অপারেটরদের এই বিষয়ে ভূমিকা রাখতে হবে জোরালোভাবে।
বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলেন, আমাদের অবশ্যই স্মার্ট ডিভাইসের যোগান দিতে হবে আগে। পাঁচ বছর আগে যখন মোবাইল আমদানি করা হতো তখন স্মার্টফোনের পরিমাণ ছিল মাত্র এক শতাংশ। তবে সেই পরিমাণ এখন বাড়তে শুরু করেছে। শুধু ২০১৪ সালে স্মার্টফোন বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ। আর ২০১৫ সালে সেই সংখ্যা দাঁড়ায় ৬০ লাখ। আমরা চেষ্টা করছি খুবই স্বল্প মূল্যে সবার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার। এই গ্রোথটা অব্যহত থাকলে আমাদের দেশে চলতি বছরে প্রায় ৯০ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি হবে। আসলে আমরা যদি কানেক্টিভিটি দিতে চাই তবে অবশ্যই আমাদের সবার হাতে স্মার্ট ডিভাইসের ব্যবস্থা করতে হবে।
টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের সভাপতি রাশেদ মেহেদী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবই আছে। ফাইবার অপটিক ক্যাবল আছে, আছে পর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা। আসলে আমাদের একটা ডিজিটাল হাইওয়ে দরকার। আর এর বাইরে দরকার তা হলো সরকারকে এর বাস্তবায়নে আরো সক্রিয় হওয়া।
উল্লেখ্য, দেশের ব্যবহারকারীদের আধুনিক স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটার পরখ করে দেখার ও কেনার সুযোগ করে দিতে বৃহস্পতিবার থেকে চলছে তিন দিনের এই স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলা। এক্সপো মেকারের আয়োজনে পঞ্চমবারের মতো রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে এই মেলা।
এক্সপো মেকারের আয়োজনে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট কম্পিউটার নিয়ে দেশে এটা পঞ্চম প্রদর্শনী। মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন এবং কো-স্পন্সর হিসেবে রয়েছে এলিট, হুয়াওয়ে, স্যামসাং ও সিম্ফনি।