নিখোঁজের দুই দিন পর সিএনজি অটোরিকশা ব্যবসায়ীর ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর চাটখিল থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ থেকে সিএনজি অটোরিকশা মালিক সোহেলের হাত-মুখ বাঁধা ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
গত শুক্রবার সকালে উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব করপাড়া গ্রামের ওবায়েদ উল্যার একটি পরিত্যক্ত বাগান বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত সোহেল নোয়াখালী জেলার চাটখিল উপজেলার সাহাপুর মিজি বাড়ির মৃত আবদুল বারেকের ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত ৩ বছর পূর্বে প্রবাস জীবন থেকে ফিরে দুইটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে নোয়াখালীর চাটখিলে পরিবহন ব্যবসা শুরু করেন সোহেল। গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসীরা সোহেলের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। এ নিয়ে তাদের সাথে সোহেলের বিরোধ দেখা দেয়। গত বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে দশটার দিকে সোহেল চাটখিলের আটঘর বাজারের একটি গ্যারেজে সিএনজি অটোরিকশা রেখে নিজ বাড়ি সাহাপুরে আসার পথে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার আত্মীয় স্বজনরা অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোন সন্ধান পান নি। শুক্রবার সকালে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের পূর্ব করপাড়া গ্রামের ওবায়েদ উল্যার বাগান বাড়িতে হাত-মুখ বাঁধা ক্ষত-বিক্ষত একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে সোহেলের মা আলেয়া বেগম ও বোন পারভিন আক্তার ঘটনাস্থলে এসে সোহেলের লাশ শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সিএনজি অটোরিকশার ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেন জানান, সন্ত্রাসীরা গত বুধবার রাতে ব্যবসায়ী সোহেলকে পার্শ্ববর্তী নোয়াখালীর চাটখিল থেকে অপহরণ করে হত্যার পর তার লাশ রামগঞ্জের করপাড়ায় একটি পরিত্যক্ত বাগান বাড়িতে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।