পরিচয়পত্র বাতিলের পরিকল্পনায় উদ্বেগ উৎকন্ঠায় রোহিঙ্গা মুসলিমরা
‘সাদা পরিচয়পত্র’ নামে পরিচিত রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের জন্য দেয়া পরিচয়পত্র বাতিলের সরকারি পরিকল্পনায় উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা। গেল সপ্তায় বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমার সরকার ঘোষণা করে, রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দকৃত সাময়িক পরিচয়পত্র ৩১ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হতে পারে। এ ঘোষণায় দেশটির ১১ লাখ রোহিঙ্গা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এরআগে তাদের ভোটের অধিকার দেয়া হবে কিনা গণভোটের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করার আইন পাস করে অধিকার হরণ করার ব্যবস্থা পাকা করা হয়েছে। মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসী মনে করে দেশটির বেশিরভাগ মানুষ। সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী হিসেবে চালানো বিভিন্ন দমন-পীড়নে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট ক্ষুব্ধ হয়ে আছে রোহিঙ্গারা, তার ওপর সরকারি এসব সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনায় তাদের ক্ষোভ, উদ্বেগ উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। পশ্চিম মিয়ানমারের এক মৎসজীবী রোহিঙ্গা গ্রামের ২৩ বছর বয়সী গৃহবধু মিনারা বলেন, “সরকার যদি আমার সাদা কার্ড নিয়ে যেতে চায়, আমি কী করতে পারবো? আমি এটি তাদের ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হব।” ২৮ বছর বয়সী আইয়ুব বলেছেন, “অন্যান্য নৃগোষ্ঠীর সংখ্যালঘুরা নাগরিক হিসেবে যেসব অধিকার ভোগ করে” তা যদি তাদের দেয়া হয়, একমাত্র তার বিনিময়েই সে তার সাদা কার্ড জমা দিবে। তবে এ ধরনের কোনো কিছু হবে কিনা তা নিয়ে গভীর সন্দেহ আছে তার। “সরকারকে আমি বিশ্বাস করি না,” বলেন তিনি। মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের অধিকাংশই দেশটির রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দা। ২০১২ সালে বৌদ্ধ রাখাইনদের সঙ্গে মুসলিম রোহিঙ্গাদের সংঘাতে অন্ততপক্ষে ২০০ জন নিহত ও ১,৪০,০০০ মানুষ গৃহহীন হন। এদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা। এখন সরকারের এসব পরিকল্পনায় রোহিঙ্গাদের উত্তেজনা ফের হিংসাত্মক রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
