প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা : শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন,যারা প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাসহ পুলিশের পক্ষ থেকে দুর্নীতিবাজ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নজরদারি করা হচ্ছে। তিনি আজ রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমীর (নায়েম) সম্মেলন কক্ষে ‘কন্টেন্ট পরিমার্জন এবং ম্যানুয়াল’ তৈরি সংক্রান্ত দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
নায়েমের মহাপরিচালক প্রফেসর মো: হামিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন,শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান,বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সচিব মনজুর হোসেন ও নায়েমের উপপরিচালক প্রকল্প পরিচালক সেলিমুজ্জামান।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নায়েমের প্রশিক্ষক মামুনুল হক।
‘শিক্ষকরা দেশ গড়ার মূলশক্তি’- একথা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নামধারী কিছু ব্যক্তির দুর্নীতির কারণে প্রশ্ন ফাঁসের মতো নানা ঘটনা ঘটছে। প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়ে কিছু ছাত্রের সঙ্গে আঁতাত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়। এটি শিক্ষার্থীদের অনৈতিকতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদের বিষয়ে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষকদের তিনি শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলংকিত না করার আহবান জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণগুলোতে নৈতিক মূল্যবোধ,শিক্ষাÑসচেতনতা এবং দেশপ্রেম সর্ম্পকে জ্ঞান দানের পাশাপাশি তাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।
শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান বজায় রাখতে আরও উন্নত ,যুগোপযোগী প্রশিক্ষিত শিক্ষক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিলে তাদের শিক্ষাবিষয়ক ত্রুটি দূর হবে এবং শিক্ষার্থীরা সুফলভোগী হবে। এসময় তিনি গণিত ও ইংরেজী বিষয়ে খারাপ ফলাফল করা গ্রামাঞ্চলের অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রায় সাড়ে ৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক দ্বারা ১১ লাখ ক্লাস নেয়ার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শুধু জ্ঞান, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতা দিয়ে নয়, সততা, নিষ্ঠা,আন্তরিকতা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন,শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। পাঠ্যপুস্তকের সূচিপত্রে এডুকেশনাল টেকনোলজি সর্ম্পকে ধারণা দিতে হবে।উন্নত বিশ্বের পাঠ্যক্রম এবং দেশের পাঠ্যক্রম এক নয়, দেশের শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী পাঠদান করতে হবে।এজন্য শিক্ষার মান বাড়াতে ‘লানিং প্রসেস’ এর উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন,কমমেধাবী বা বেশীমেধাবী, এ ধরনের চিন্তাভাবনা পরিহার করে অধিক চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই দেশে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নত হবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ২০১০ সালের ১৭ আগস্ট শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বিসিএস(শিক্ষা) ক্যাডারের প্রফেসর ও ডিগ্রী পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য ‘শিক্ষা এবং ব্যবস্থাপনার ওপর সিনিয়র স্টাফকোর্স ’ চালু করেন। দীর্ঘদিন পর কোর্সটির ম্যানুয়াল পরিমার্জন ও কন্টেন্ট যুগোপযোগী করা হয়। উন্নত এবং কার্যকরি ম্যানুয়াল তৈরির জন্য ইউনেস্কোর সহযোগিতায় ২০১৪-১৫ এর আওতায় দেশে জাতীয় কমিশনের সহায়তায় কোর্সটির পরিমার্জন এবং ম্যানুয়াল তৈরীর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।