বাগমারায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত জেএমবি সদস্য আনোয়ারের বাড়ি মান্দায়
মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় রোববার রাতে পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত আনোয়ার হোসেন ওরফে নাইমের (৩৫) পরিচয় অবশেষে পাওয়া গেছে। সে নওগাঁর মান্দার উপজেলার গনেশপুর ইউনিয়নের উত্তর পারইল গ্রামের সামান হাজিপাড়ার মৃত লোকমান হোসেনের ছেলে। পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হবার ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
গনেশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল জানান, নিহত আনোয়ারের পরিবারের সদস্য মাহবুব হোসেন মুঠোফোনে তাকে বলেন বাগমারায় বন্দুকযুদ্ধে (ক্রসফায়ারে) আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশ বাড়ি নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তখন থেকেই নিশ্চিত হয়েছে যে আনোয়ারই বাগমারায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।
মান্দা থানার উপ-পরিদর্শক এমদাদুল হক জানান, রাজশাহী জেলা পুলিশ ই-মেইলে মান্দা থানায় আনোয়ারের ছবি পাঠান। সেই ছবি নিয়ে তিনিসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা মঙ্গলবার দুপুরে তার বাড়িতে গেলে আনোয়ারের প্রথম স্ত্রীর ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়–য়া মেয়ে (১৩) ও মা সুরুতজান বেওয়া তাকে শনাক্ত করেন। এছাড়া প্রতিবেশীরাও ছবি দেখে তাকে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া আনোয়ারের প্রথম স্ত্রী তালাক নিয়ে চলে গেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা আকতার ও জেএমবি’র সদস্য। তার ২ বছরের ছেলেকে নিয়ে বগুড়া কারাগারে আটক রয়েছেন। গত ৩ এপ্রিল বগ–ড়ার শেরপুরের জোয়ানপুর গ্রামে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ঘটলে দুই জেএমবি সদস্য নিহত হন। এদিকে ১৫ এপ্রিল রিমা আকতার গ্রেফতার হন। এ বিষয়ে শেরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। যার নম্বর ৪, তারিখ ১৫.০৪.২০১৬।
উপ-পরিদর্শক এমদাদুল হক আরো জানান, গত বছর ২৬ নভেম্বর বগুড়ায় শিয়া মসজিদে বোমা হামলা করা হয়। সেই বোমা হামলার জন্য গত বছরের ২১ ডিসেম্বর বগুড়া থানা পুলিশ বাড়ি থেকে আনোয়ারের বড় ভাই ইউসুফ আলী ও ছেলে খায়রুল ইসলামকে আটক করে। পরে বগুড়া সদর থানার ৬০ নম্বর মামলা করা হলে সে মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আদালতে নেয়া হলে সে সময় বগুড়ার শিয়া মসজিদে বোমা হামলার ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আটক ইউসুফ আলী।
পুলিশের তথ্যমতে আনোয়ার হোসেন জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তার বড় ভাই ইউসুফ আলী, ছেলে খায়রুল ইসলাম এবং আনোয়ারের দ্বিতীয় স্ত্রী রিমা আকতার ও জেএমবি’র সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা বর্তমানে বগুড়া কারাগারে আটক রয়েছে। আনোয়ারের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগহে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় আনোয়ারের ভাই দেলোয়ার হোসেন,হায়দার আলী, মোয়াজ্জেম হোসেন, এবং ইউসুফ আলীর আরেক ছেলে মেহেদি হাসান বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তবে পুরো পরিবার জেএমবি’র সদস্য কিনা তা তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিনি রাজশাহী জেলা পুলিশের ই-মেইলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তথ্য নিয়েছেন। আরো তথ্য সংগ্রহে তদন্ত কাজ অব্যহত রয়েছে।