Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

বিশ্ব শান্তির জন্য ইরান বড় হুমকি – মার্কিন কংগ্রেসে নেতানিয়াহু

0,,18292096_303,00আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্ব শান্তির জন্য ইরানকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির আমন্ত্রণে মঙ্গলবার (৩ মার্চ)  মার্কিন কংগ্রেসে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরান-মার্কিন পরমাণু আলোচনা দেশটিকে থামানোর চেয়ে আরো বেশি প্রশ্রয় দেবে উল্লেখ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরানের সন্ত্রাসী, দালালরা গাজা, লেবাননে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। ইরানের সমর্থনেই সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সেখানকার অধিবাসীদের হত্যা করছে। শিয়া মিলিশিয়ারা ইরাকে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে ওই দেশটির সমর্থনেই। শুধু তাই না, লোহিত সাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতা এই ইরানের কারণেই। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা চলাকালেও তারা হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন বিমানে হামলা করেছে। গত ছত্রিশ বছর ধরেই ইরান এভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে।  তিনি বলেন, কয়েক ডজন মার্কিন নাগরিক তেহরানে বন্দি হয়ে আছেন। বৈরুতে শত শত মার্কিন সেনা হত্যা করেছে এই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। এছাড়া ইরাক ও আফগানিস্তানে হাজার হাজার মার্কিন নারী-পুরুষ হতাহতের জন্যও ইরান দায়ী। নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের এই সন্ত্রাস রুখতে আমাদের সবাইকে একসারিতে দাঁড়াতে হবে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে ইরানের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, আইএসআইএস এর বিরুদ্ধে ইরানের যুদ্ধ তাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু করে দিতে পারে না। ইরান ও আইএস প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, উভয় পক্ষই ইসলামিক জঙ্গিবাদের মুকুটের জন্য লড়ছে। উভয়ই প্রথমে আঞ্চলিক এবং পরে বিশ্বজুড়ে ইসলামি জঙ্গিবাদের সাম্রাজ্য কায়েম করতে চায়। নেতানিয়াহু বলেন, এই চুক্তিতে ইরানের পরমাণু বোমা তৈরির কর্মসূচি সমান্যতমও বন্ধ করা যাবে না। হয়তো কর্মসূচিতে কিছুটা ভাটা পড়বে কিন্তু কিছুতেই তা বন্ধ হবে না। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলার ইচ্ছে তার নেই কিন্তু ইরান ইস্যু বৈশ্বিক। ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনের ঠিক দু’সপ্তাহ আগে নেতানিয়াহু এ বক্তব্য দিলেন।

চলতি মাসেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থামাতে এবং এর সূত্র ধরে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে চলমান আলোচনা একটা সমাধানে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে হোয়াইট হাউজের সাথে কোনো আলোচনা না করেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে কংগ্রেসে বক্তব্য দিতে আমন্ত্রণ জানানোয় নাখোশ হয়ে আছে ওবামা প্রশাসন। চলতি সফরে ওবামার সাক্ষাতও পাচ্ছেন না নেতানিয়াহু। পাশাপাশি নেতানিয়াহুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এতে নতুন কিছু খুঁজে পাননি উল্লেখ করে বারাক ওবামা বলেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী কোনো বিকল্প প্রস্তাব দেননি। বেশ কিছুদিন ধরেই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের ব্যাপারে একটা সমাধানে পৌঁছাতে চাইছে ছয় জাতি ব্লক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া এবং চীন। তবে ইরান সবসময়ই তার পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে অভিহিত করে আসছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এ পরমাণু চুক্তির বিষয়ে আলোচনার ব্যাপারেও আগ্রহ দেখিয়ে আসছে দেশটি। তবে ইরানের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির বিরোধিতা করে নেতানিয়াহু কংগ্রেসে তার বক্তব্যে বলেন, নেতিবাচক চুক্তির চেয়ে কোনো চুক্তি না হওয়াই ভালো। চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে যে চুক্তি হতে চলেছে, তা খুবই নেতিবাচক।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে বক্তব্য দেয়ায় ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দলের অনেক আইন প্রণেতা। তারা নেতানিয়াহুর বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক নাট্য-মঞ্চ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। নেতানিয়াহুর ওই ভাষণ বয়কট করেছেন অন্তত ৫৫ জন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান। এর মধ্যে রয়েছেন আটজন সিনেটর ও ৪৭ জন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য। ওবামা প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই নেতানিয়াহুকে কংগ্রেসে ভাষণ দেয়ার আমন্ত্রণ জানানোয় এসব আইন প্রণেতা প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার জন বোয়েনারেরও সমালোচনা করেছেন। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান স্টিভ কোহেন বলেছেন, নেতানিয়াহু যে নাটক উপস্থাপন করেছেন তাতে তিনি অস্কার পেতে পারেন। তিনি আরো বলেন, “আমার মনে হয় নেতানিয়াহু সম্ভবত দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার জন্য সফল হয়েছেন। আমি নিশ্চিত যে, তার এ বক্তব্য ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে বেশ ভূমিকা রাখবে।” ডেমোক্র্যাট সিনেটর ডায়ানে ফিনস্টেইন বলেছেন, “আমি আশা করছি যে, নেতানিয়াহুর এ বক্তব্যের কারণে ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির সম্ভাবনা নস্যাত হবে না।”

Leave A Reply

Your email address will not be published.