Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

বেরিয়ে এলো নতুন তথ্য: জাকির নায়েকের অনুসারী ছিলেন নিহত দুই জঙ্গি!

gulshan-hamla-jongiঅনলাইন ডেস্ক: ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে গণহত্যার ঘটনার পর মোম্বাই-ভিত্তিক ইসলাম ধর্মের প্রচারক জাকির নায়েক আবারো আলোচনায় উঠে আসলেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন বলা হয়, ঢাকায় গণহত্যাকারী নিব্রাস ইসলাম (রোহান ইমতিয়াজ) বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক আইএস’র প্রপাগান্ডা চালানো মেহেদী মাসরুফ বিশ্বাস এবং জাকির নায়েকের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।
এছাড়াও সোমবার দেশের শীর্ষ ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে বেরিয়ে আসে হামলাকারী দুজনের সম্পর্কে চমকপ্রদ কিছু তথ্য। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে দু’জন ভারতের মোম্বাই-ভিত্তিক ইসলাম ধর্মের প্রচারক ও পিস টিভির মালিক জাকির নায়েকসহ আইএস এর সাথে জড়িত আর দুই বিতর্কিত নেতার অনুসারী ছিলেন বলে জানা গেছে ।
দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক সংবাদে প্রকাশিত খবরের সুত্রে জানা যায়, এরা হলেন সরকার দলীয় ঢাকা মহানগর নেতার পুত্র রোহান ইমতিয়াজ এবং নিবরাস ইসলাম। প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, সম্প্রতি গুলশান হামলার অন্যতম জঙ্গি রোহান ও নিবরাস ড দুজনেই জাকির নায়েকের পিস টিভির বিভিন্ন অনুষ্ঠান তাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিল।অন্যদিকে নিবরাস ইসলাম জাকির নায়েক ছাড়াও আনজেম চৌধুরী এবং শামী উইটনেসকে ২০১৪ সাল থেকে টুইটারে অনুসরণ করে আসছিলেন।
এর আগেও জাকির নায়েক সমালোচিত হয়েছিলেন। যখন তিনি ওসামা বিন লাদেনকে সন্ত্রাসী হিসেবে আলোচনা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে আকস্মিক এক হামলায় দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে একদল দুর্বৃত্ত। পরদিন শনিবার করা অভিযানের পর ওই রেস্তোরাঁ থেকে ছয়জন জঙ্গির লাশ উদ্ধার করে বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় ২০ জনের মরদেহ।
পুলিশের দেয়া তথ্যমতে রাজধানী ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়েছিল সাত জঙ্গি। অন্যদিকে, অভিযান শুরুর আগেই হামলাকারী পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করে আইএসের কথিত মুখপাত্র আমাক। সেখানেই প্রকাশিত হয় হামলাকারী বাংলাদেশি জঙ্গি তরুনদের ছবি। পরে বাংলাদেশ পুলিশও হামলায় নিহত আক্রমনকারী জনের ছবি প্রকাশ করে ।
মুহুর্তেই আক্রমণকারীদের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরই হামলাকারী তরুনদের সম্পর্কে বেরিয়ে আসতে শুরু করে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ঢাকা মহানগর আ.লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ খান বাবুল প্রথম জানতে পারেন যে, ছয় মাস আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া তার ছেলে রোহান ইবনে ইমতিয়াজই হলেন হামলাকারী নিহত জঙ্গিদের মধ্যে একজন। ধীরে ধীরে শনিবার রাতেই ফেসবুকের কল্যানে বেরিয়ে আসে বাকি সবার তথ্য ও পরিচয়।
এদিকে, নিহত পাঁচ জঙ্গির পরিবারের মধ্যে অন্তত তিন জঙ্গির পরিবার দাবী করে ইতমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, তাদের সবাই ঘটনার আগে দুই তিনমাস অথবা পাচ-ছয় মাস আগে আকস্মিক নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের সবারই পরিবারের প্রায় একইরকমের দাবী যে তারা কখনোই তাদের (নিহত হামলাকারীদের ) মধ্যে জঙ্গিবাদ অথবা ধর্মীয় কোন উগ্রবাদের লক্ষন দেখেননি।
কিন্তু প্রকাশিত সংবাদে দাবী করা হয়, নিহত জঙ্গি রোহান গত বছরের শুরুর দিক থেকেই জাকির নায়েকের পোস্ট শেয়ার করতেন আর নিহত নিবরাস ২০১৪ সালের শুরুর দিক থেকেই টুইটারে আইএসের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত শামী উইটনেস ও আইএস নেতা আনজেম চৌধুরীর ফলোয়ার ছিলেন।
ডেইলি স্টারের সংবাদে দাবী করা হয়, ”এসব তথ্য থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে নিবরাস বা রোহান এক রাতেই জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়েননি। তারা ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে নিঁখোজ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় দু`বছর আগেই জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। আর ধীরে ধীরে সবার অলক্ষ্যে সেই ধারাবাহিকতা চালিয়ে যান। সবশেষে তারা শুক্রবার ওই ভয়াবহ হামলা চালান। ওই হামলায় দেশি-বিদেশি মিলে সর্বমোট ২০ সাধারণ মানুষ ও দুই পুলিশ নিহত হয়েছেন।”
প্রকাশিত সংবাদে ডা. জাকির নায়েক ও আইএসের সাথে সম্পৃক্ত দুজন সম্পর্কে বিস্তর ব্যখ্যা দিয়ে জানানো হয়, ” মালয়েশিয়ায় যে ১৬ জন আলেমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে জাকির নায়েক একজন। ধর্মীয় বিভ্রান্তি সৃষ্টির অভিযোগে সম্প্রতি ডা. জাকির নায়েককে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, শামী উইটনেসের ২৪ বছর বয়সী মেহেদি বিশ্বাস নামে একটি টুইটার একাউন্ট রয়েছে। তাকে ২০১৪ সালে ভারত থেকে আটক করা হয়। তাকে আইএসের টুইট একাউন্টের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে বিচারের মুখোমুখি করা হয়।
আর পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত (ব্রিটিশ নাগরিক) আনজেম চৌধুরী (৪৯)কে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইন ভঙ্গ করায় ইংল্যান্ডে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। আনজেম চৌধুরী তার সমর্থকদের সরাসরি ইরাক ও সিরিয়ায় গিয়ে আইএসকে সমর্থনের জন্য বলতেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.