Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

বেরোবি’র কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া আদৌ চালু হবে কি!

ওমর ফারুক, বেরোবি প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী’র পূর্ণ মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ৩ মাস বাকী আছে। এদিকে এ বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণ কাজ সম্পন্নের ৩ বছর পেড়িয়ে গেলো। এটি চালু করতে পরপর দুটো কমিটিও গঠন করা হলেও এখনো চালু করতে পারেননি এ ক্যাফেটেরীয়াটি। বর্তমান উপাচার্য আদৌ এটি চালু করতে পারবেন কি না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল।

এ বিষয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠণ ও শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা সংশয় প্রকাশ করে বলেন,‘ যার মেয়াদ শেষের দিকে। তিনি ৩ টি বছরেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্যও নির্মিত ক্যাফেটেরীয়ািিট এখনো চালু করতে পারেননি। তিনি কি আদৌ এটি চালু করতে পারবেন?’

তারা আরো বলেন,‘এটি চালু করার জন্যই ক্যাম্পাসে কোন দোকান বসতে দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের নাস্তা করতে হলেও বাইরে যেতে হয় যেখানে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া দুষ্কর। কিন্তু কি কারণে এটি চালু করা হচ্ছে না তা স্পষ্ট নয়।’
অনেকের অভিযোগ, দায়িত্ব দিয়ে গা ছাড়া হয়েছেন উপাচার্য নিজেও। ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের দৌরাত্ম থাকায় এর অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিশ^বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১ম পর্যায়ের (২০০৯-১২) ১৬ টি প্রকল্পের একটি হলো দুই তলাবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণ। এর নির্মাণ কাজ সম্পন্নের কথা ছিলো ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে। কিন্তু সেটি বাড়িয়ে ২০১৩ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্নের কথা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে তা হয়নি।
২০১৩ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলেও এখনও উদ্বোধন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ব্যাংক না থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের টাকা তুলতে হয় রংপুরের লালবাগ শাখায় জনতা ব্যাংকে গিয়ে দিনের পর দিন। প্রতিদিন ব্যাংকের লোককে এখানে আসতে হয়। মাঝে মাঝে শিক্ষার্থীদেরও লালবাগ শাখায় গিয়ে বিভিন্ন একাডেমিক কাজের টাকার লেনদেন করতে হচ্ছে। ফলে হয়রানির শিকার হচ্ছে অনেকেই। ক্যাফেটেরিয়ার ২য় তলায় ব্যাংকের জন্য বরাদ্দ থাকলেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ মিলছেনা প্রশাসনের।

বিশ^বিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দফতর সূত্রে জানা যায়, নির্মাণের প্রায় ২ বছর পর ২০১৫ সালের ২৩ এপ্রিল ক্যাফেটেরিয়া চালুর উদ্দেশ্যে তৎকালীন বিজনেজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মতিউর রহমানকে সভাপতি ও নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে সেক্রেটারি করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।
পরে কমিটির সেক্রেটারির কার্যকর অংশগ্রহনের অভাবে কমিটির কোনো সভা আহŸান না করা এবং ক্যাফেটেরিয়া চালুর বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহন না করা এবং মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন ড. মতিউর রহমান।
এর ৬ মাস পর কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান ও প্রক্টর (সাবেক,অতিরিক্ত) শাহীনুর রহমানকে দায়িত্ব দিলেও এখনও বাস্তবায়ন করেনি তাঁরা। ফলে অর্থব হয়ে আছে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া কমিটি।

কাফেটেরীয়া চালুর প্রথম কমিটির সেক্রেটারি নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ মতিউর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তিনি পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু কারণ জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান।’
তিনি আরো বলেন,‘২০১৪ সালে ক্যাফেটেরিয়ার কাজ শেষ হয় এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে বুঝিয়ে নেওয়া হয় ২০১৫ সালের জুন মাসে। ক্যাফেটেরিয়ার দ্বিতীয় বার টেন্ডার হওয়ার কারনে এর কাজ পিছিয়ে যায়।’

২য় কমিটির সদস্য সচিব মো: শাহীনুর রহমানকে ক্যাফেটেরিয়া উদ্বোধনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আহŸায়ক ড. শিমুল মাহমুদকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে বলেন।
কলা অনুষদের ডিন ও ক্যাফেটেরিয়া কমিটির আহবায়ক ড. শিমুল মাহমুদকে এ ব্যাপারে ফোন করলে তিনি সবশেষ বলেন, এ ব্যাপারে আমার বলার কিছু নাই। উপাচার্য ঢাকায় গেছেন। ঢাকা থেকে ফিরে আসলে তাঁর সাথে এ ব্যাপারে কথা হবে।’ আগামী সপ্তাহেই ক্যাফেটেরিয়া উদ্বোধন নিয়ে কথা হবে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে উপাচার্যের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘অতি শীঘ্রই ক্যাফেটেরিয়া উদ্বোধন করা হবে।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.