ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ৭ থেকে ১০ এপ্রিল ভারত সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে দু’দেশের মধ্যে ৩৩টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার একথা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবো।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হবে এমন ইঙ্গিত করে বলেন, এটা গোপন কোন বিষয় না। আপনারা সবকিছুই জানতে পারবেন। আমাদের নিন্দুকেরা যা বলছে সেটি ঠিক নয়।
তিস্তা চুক্তির ব্যাপারে তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক এখন যে অবস্থানে আছে, সেখানে আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। কি হলো না, সেটি তেমন বড় কিছু নয়।
দু’দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমাঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে, তথ্য ও সম্প্রচার, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ও মহাকাশ গবেষণা, ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান, ভারতের প্রদেয় তৃতীয় লাইন অব ক্রেডিট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সহযোগিতা সম্পর্কিত বিষয়।
সই অনুষ্ঠানের পাশাপাশি দু’দেশের দু’ প্রধানমন্ত্রী বিরল-রাধিকাপুর রুটে মালামাল পরিবহনকারী রেল চলাচল, খুলনা-কোলকাতা রুটে যাত্রীবাহী বাস ও রেল চলাচল, ত্রিপুরার পালাটানা বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে বাংলাদেশে অতিরিক্ত ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রক্রিয়ার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দু’ প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র হিন্দি সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করবেন।
অনুষ্ঠান থেকে দু’ দেশ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে। এবারের সফরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যেসব ভারতীয় সেনা সদস্য শহীদ হয়েছেন, তাদের মরণোত্তর মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে সাত জন শহীদকে সম্মাননা দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে ১ হাজার ৬শ’ ৬১ জনকে এই সম্মাননা দেয়া হবে।
১০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী দু’দেশের ব্যবসায়ীদের একটি বিজনেস ইভেন্টে অংশ নেবেন। সেই ইভেন্টে বাংলাদেশের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের চিত্র ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে তুলে ধরা হবে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হবে।