মাইলস্টোন স্কুল প্রাঙ্গণে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় ভয়াবহ চিত্র
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে একটি প্রশিক্ষণ উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উড়োজাহাজটি স্কুল ভবনে আছড়ে পড়ার পর তারা একজনকে প্যারাসুট দিয়ে নামতে দেখেছেন। ঘটনাটি ঘটে ক্লাস শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই, যখন বহু শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ভবনের সামনে অপেক্ষা করছিলেন।
দুর্ঘটনার শিকার ভবনটি ছিল স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের জুনিয়র ক্যাম্পাস, যেখানে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির ক্লাস হয়। শিক্ষার্থীদের বর্ণনামতে, ক্লাস চলাকালীন তারা বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। একাদশ শ্রেণির ছাত্র আজমাইন বলেন, “শব্দ পেয়ে নিচে নেমে দেখি আগুন।” আরেক শিক্ষার্থী কাওসার বলেন, “একটা ফাইটার প্লেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমাদের জুনিয়র ক্যাম্পাসে পড়েছে। আমরা ভিতরে গিয়েছিলাম, কিন্তু আগুনের কারণে কাউকে বের করতে পারিনি। খুব খারাপ অবস্থা।”
প্রত্যক্ষদর্শী জহিরুল জানান, উড়োজাহাজটি প্রথমে মাঠের মাঝে আছড়ে পড়ে এবং এরপর ছিটকে গিয়ে ভবনে ধাক্কা খায়, আর সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। কাছাকাছি গ্যারেজের মালিক জইমত আলী ও চালক আপন আহমেদ জানান, উড়োজাহাজটি খুব নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তারা বিকট শব্দ শোনেন।
ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তারা দেখেন ভয়াবহ দৃশ্য। জইমত আলী বলেন, “আমরা গিয়ে দেখি, একজন প্যারাসুট নিয়া নামছে। আর বহু বাচ্চা আর তাদের গার্ডিয়ানরা আগুনে পুড়ছে।” আগুনের তীব্রতার কারণে তারা ভেতরে ঢুকতে পারেননি। ভেকু চালক আপন আহমেদের বর্ণনায়, “এক জায়গায় দেখি ১০-১৫ টা বাচ্চা ডলা হয়ে পইড়ে রইছে। তাদের উদ্ধার করার কোনো উপায় আমাদের ছিল না।”
দশম শ্রেণির ছাত্র শান্ত জানায়, স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পরপরই বিকট শব্দ শুনে তিনি ছুটে আসেন। তিনি দেখেন, ইংরেজি মাধ্যম শাখার সামনে বিমানটি ক্রাশ করেছে এবং দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তার মতে, ভবনটিতে ১১-১২টি ক্লাসরুম রয়েছে এবং প্রতি ক্লাসে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস। দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদমান তানভীর বলেন, “পাশেই ফায়ার সার্ভিস আর আর্মি ক্যাম্প থাকায় সবাই দ্রুত চলে আসে। আগুন নেভাতে বেশি সময় লাগেনি, কিন্তু ভেতরে অনেক ছোট বাচ্চা ছিল, ওদেরকে বের করতে অনেক সময় লাগে।”
উদ্ধারকারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহতদের বেশিরভাগই শিশু। ঠিকাদার আতিকুর রহমান বলেন, “যারা পুড়েছে, তাদের বেশিরভাগই আট থেকে দশ বছরের বাচ্চা। অনেককে হাতে ধরার মতো অবস্থায় ছিল না।”
বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স বের হতে দেখা যায় এবং উদ্ধারকাজের জন্য একটি ক্রেন ও বিমানবাহিনীর ট্রাক ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
-বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম