Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ২৮৮৬

মিয়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৮৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে। বাহিনীটি আরও জানায়, গত শুক্রবারের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৪৬৩৯ জন আহত এবং ৩৭৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

বিবিসি লিখেছে, দেশটির সামরিক সরকার এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে; তারা এর আগে হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোতে হতাহত প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম দেখিয়েছিল। উদ্ধার ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চলার মধ্যে ধারণা করা হচ্ছে, শক্তিশালী এ ভূমিকম্পে আরও অনেক বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, গৃহযুদ্ধের মধ্যে থাকা মিয়ানমারে ভূমিকম্প ‘ইতোমধ্যে মারাত্মক হয়ে ওঠা একটি সংকটের’ সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা গৃহযুদ্ধের কারণে দেশটিজুড়ে মারাত্মক খাদ্য সংকট চলছিল আর অর্থনীতি পতনের পথে আছে, এখন মিয়ানমার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিজেকে বিধ্বস্ত হিসেবে দেখতে পাচ্ছে।

ভূমিকম্পটি মধ্যাঞ্চলীয় শহর সাগাইং শহরে আঘাত হানে, এরপর নিকটবর্তী মান্দালয় থেকে ব্যাপক ধ্বংসের খবর আসতে থাকে যা মিয়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর; পাশাপাশি ২৪১ কিলোমিটার দক্ষিণে রাজধানী নেপিদো থেকেও ধ্বংসযজ্ঞের খবর প্রকাশিত হতে শুরু করে।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সময়জুড়ে সামরিক শাসনে থাকা মিয়ানমার দশকের পর দশক ধরে অস্থিরতায় ভুগছে। মারাত্মক ভূমিকম্পের পর এই দেশটিতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাকে নজিরবিহীন দুর্যোগ বলছে বহু ত্রাণ সংস্থা।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। নতুন নতুন অনেক সরকারবিরোধী গোষ্ঠী জান্তাবিরোধী প্রতিরোধ লড়াইয়ে সামিল হয়েছে। দুই পক্ষের সহিংস লড়াইয়ের কারণে দেশটির লাখ লাখ বাসিন্দা সারাক্ষণ শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী জানিয়েছে, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ‘নজিরবিহীন স্তরে’ পৌঁছে গেছে, দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির কারণে অনেকের পক্ষেই খাবার কেনা অসাধ্য হয়ে উঠেছে।

সোনালি বৌদ্ধ মন্দিরের শহর মান্দালয় ‘সোনার শহর’ হিসেবে পরিচিত, কিন্তু মিয়ানমারের সাবেক এই রাজকীয় রাজধানী শহরটির বাতাসে এখন শুধু মৃতদেহের গন্ধ।

এতো মৃতদেহ স্তূপ হয়ে আছে যে সেগুলো ‘একসঙ্গে পুড়িয়ে দিতে হবে’ বলে জানিয়েছেন মান্দালয়ের এক বাসিন্দা। দেশটির দ্বিতীয় জনবহুল শহরটির বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা রাতে ঘুমহীন অবস্থায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এরমধ্যে খাবার ও পানির সরবরাহ অপ্রতুল হয়ে ওঠায় হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.