Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

যেভাবে দুই সন্তানকে হত্যা করেন মাহফুজা

mahfujaবিডিপি ডেস্ক: ঢাকার বনশ্রীতে দুই শিশুকে তাদের মা-ই হত্যা করেছেন বলে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন র‌্যাব জানিয়েছে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে শিশু দুটির মা, মাহফুজা মালেক জেসমিন স্বীকার করেছেন যে তিনিই শিশু দুটিকে হত্যা করেছেন। ক্ষোভ, পারিবারিক এবং সামাজিক সমস্যা, মানসিক অসুস্থতা, পরকীয়া এবং সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণেই তিনি একাই তাদের হত্যা করেছেন বলে তিনি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব সদর দপ্তরে একটি ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র কমান্ডার মোহাম্মদ মুফতি মাহমুদ খান জানান, মাহফুজা মালেক উচ্চশিক্ষিত। তিনি সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে, ভবিষ্যত নিয় খুবই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এ কারণেই তিনি ছেলেমেয়েকে হত্যা করেছেন।
তিনি অবশ্য অন্য কোনো কারণের কথা জানাননি। এ প্রসঙ্গে বলেন, এখন হত্যার মামলা হবে এবং পরবর্তী তদন্তে বিস্তারিত জানা যাবে।
র‌্যাবের মুখপাত্র জানান, মাহফুজা মালেক তাদের কাছে হত্যার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, গৃহশিক্ষকরা চলে যাবার পর মেয়েকে তার কক্ষে ঘুমানোর জন্য ডেকে নেন। সেখানেই ওড়না পেচিয়ে তাকে হত্যা করেন। এ সময় মেয়ে জেগে থাকায় কিছুটা ধ্বস্তাধস্তিও হয়। পরে একই ওড়না পেচিয়ে ছেলেকেও হত্যা করেন।
এরপর স্বামীকে টেলিফোনে জানান যে, সন্তানরা অচেতন হয়ে পড়েছে। স্বামী এ সময় উত্তরায় থাকলেও, তার একজন বন্ধুকে বাসায় পাঠান। কিন্তু এর আগেই তারা বাচ্চা দুটিকে নিয়ে একটি হাসপাতালে যান, কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা শিশু দুটি মারা গেছে জানিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।
খাবার খেয়ে শিশুরা অচেতন হয়ে গেছে, এই তথ্য স্বজনরা বিশ্বাস করায় তারাও কোনো সন্দেহ করেনি, বলছে র‌্যাব।
বুধবার থেকে শিশুটির বাবা, মা, খালা এবং আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‌্যাব। তবে মুফতি মাহমুদ খান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্য কারো সম্পৃক্ততা তারা পাননি।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইস্কাটন শাখার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ইশরাত জাহান অরণী (১২) এবং তার ছোটভাই হলি (ইন্টারন্যাশনাল) ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির ছাত্র আলভী আমানকে (৬) ২৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর তাদের রামপুরার বনশ্রীর বাসা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিলো রবিবার রাতে শিশু দুটির বাবা-মায়ের বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষে একটি চাইনিজ রেস্তোরা থেকে খাবার আনা হয়। রাতে খাওয়ার পর কিছু খাবার ফ্রিজে রাখা হয়। পরদিন দুপুরের পর সে খাবার খেয়ে অচেতন হয়ে পড়ে দুই ভাই বোন।
তাদের মা ঘুম থেকে ওঠে তাদের অচেতন দেখতে পান বলে জানান। এরপর তাদের প্রথমে একটি বেসরকারি ক্লিনিক ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে ডাক্তার তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এর মধ্যে ফোনে বাচ্চাদের অচেতন হওয়ার খবর পেয়ে তাদের বাবা তার একজন বন্ধুকে বাসায় পাঠান এবং পরে ওই বন্ধুর ফোন পেয়ে তিনি বাসায় আসেন।
পরে শিশু দুটি মৃতদেহ মর্গে থাকা অবস্থাতেই তাদের বাবা-মা জামালপুরে চলে যান যেখানে মঙ্গলবার রাতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
তবে শিশু দুটির একজন গৃহশিক্ষক সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন দুপুরের পর তিনি তাদের পড়াতে বাসায় যান এবং তখন তাদের মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখেননি।
এর মধ্যে মঙ্গলবার দুই ভাই বোনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করে চিকিৎসকরা বলেছেন দু শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পেয়েছেন তারা। এরপরই ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়। চিকিৎসকদের ধারণা শিশু দুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে ইতোমধ্যেই যে রেস্তোরাঁর খাবারের কথা বলা হচ্ছে তার ব্যবস্থাপক সহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।
অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বাড়ির দারোয়ান, গৃহশিক্ষিকাসহ আরো এক ব্যক্তিকে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.