Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

রহস্যময় এক পুতুল দ্বীপ

বিচিত্র ডেস্ক: একটি নির্জন দ্বীপে কি থাকতে পারে ? নানা প্রজাতির গাছপালা, কিছু বন্য প্রাণি, কিছু নিস্তব্ধতা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য । কিন্তু নির্জন কোন দ্বীপে গিয়ে যদি আপনি আবিস্কার করেন সমস্ত দ্বীপ জুড়ে রয়েছে শুধু পুতুল আর পুতুল তখন ! মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটি থেকে ১৭ মাইল দক্ষিণে জোকিমিলকোতে রয়েছে ভয়ংকর এক ‘পুতুল দ্বীপ’ । স্থানীয়দের ভাষায় দ্বীপটির নাম ইলসা ডে লাস মিউনিকাস বা পুতুলের দ্বীপ ।

সাধারণ একটি ঘটনা থেকেই এই দ্বীপের রহস্যময় যাত্রা শুরু হয় । তা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ বছরের আগের ঘটনা । দ্বীপটি ছিল শীতল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন । তিন মেক্সিকান শিশু এই দ্বীপে পুতুল নিয়ে খেলা করছিল । খেলাচ্ছলে তারা পুতুলের বিয়ে দেয় । খেলাকালীন সময়ে হঠাৎ একটি শিশু উধাও হয়ে যায় । শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অনেক খোঁজার পর পাশের একটি খালে সেই শিশুটির মৃহদেহ পাওয়া যায় । সেই থেকে সাধারণ মানুষের কাছে এই দ্বীপটি হয়ে ওঠে ভয়ংকর এক দ্বীপ এবং লোকমুখে কালক্রমে প্রচলিত হয়ে আসছে নানা কাহিনী । মেক্সিকোর অনেক সাহসী বীরেরও বুক কেঁপে ওঠে এই দ্বীপটিতে গেলে ।

আশ্চর্য এই দ্বীপে গাছের ডালে ঝুলছে পুতুল । ছোট পরিত্যক্ত ঘরের দেয়ালে ঝুলছে পুতুল । যেদিকে চোখ যায় সেদিকে শুধু পুতুল আর পুতুল । এই নির্জন দ্বীপে এত পুতুল এলো কোত্থেকে সেটা কেউই পরিষ্কার করে জানে না । স্থানীয়দের ভাষায় দ্বীপটির নাম ইলসা ডে লাস মিউনিকাস বা পুতুলের দ্বীপ ।

তবে এই পুতুলগুলো আপনা-আপনি এই দ্বীপে আসেনি । ডন জুলিয়ান সানতানা নামের এক যাজক ১৯৫০ সালের দিকে এই দ্বীপটিকে ধ্যান করার জন্য বেছে নেন । তার কাছে নাকি মৃত শিশুটির আত্মা আবদার করেছিলো পুতুল এনে দ্বীপের চারপাশে টাঙিয়ে দেওয়ার জন্য ।

তবে যেমন তেমন পুতুল নয় । বীভৎস সব পুতুল চেয়ে বসে শিশুটির আত্মা যেগুলো দেখলে মনে হবে তারা মানুষে নির্যাতনে প্রাণ হারিয়েছে । ওই আত্মার অনুরোধেই জুলিয়ান তার আশ্রমে চাষ করা সবজির বিনিময়ে মানুষের কাছ থেকে নষ্ট পুতুল সংগ্রহ করতে থাকেন । নষ্ট পুতুল এনে দ্বীপের চারপাশে টাঙিয়ে দিলে নাকি শিশুটির আত্মা খুশি হতো । এভাবেই এই দ্বীপটি গড়ে ওঠে পুতুলের দ্বীপ হিসেবে ।

মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা দূর করার জন্য মেক্সিকান সরকার ১৯৯০ সালে এই দ্বীপটিকে ‘ন্যাশনাল হেরিটেজ’ ঘোষণা করে দ্বীপটিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছ ন্ন করে পর্যটন অঞ্চল বানানোর উদ্যোগ নেয় । কিন্তু পর্যটকরা কদাকার পুতুল দেখে রাতে দুঃস্বপ্ন দেখতে হয় এই অজুহাতে এখানে আসতে ভয় করেন। সারা মৌসুমে ২০-৩০ জনের বেশি পর্যটক এই মুখো হন না ।

সবশেষে ২০০১ সালের ২১ এপ্রিল ঘটে আরও একটি রহস্যময় ঘটনা । ওইদিন ডন জুলিয়ান তার ভাইয়ের ছেলেটিকে নিয়ে সেই খালটিতে মাছ ধরছিলেন যেই খালটিতে শিশুটির মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছিল । মাছ ধরার এক পর্যায়ে ডন জুলিয়ান তার ভাইয়ের ছেলেকে বলেন পানির নিচ থেকে কেউ একজন তাকে ডাকছে । এর কিছুদিন পরই ডন জুলিয়ানের মৃতদেহ সেই খাল থেকে পাওয়া যায় ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.