রাজধানীতে হেযবুত তওহীদের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, “দীন প্রতিষ্ঠায় গণবিপ্লবের ডাক”
‘দীন প্রতিষ্ঠায় গণবিপ্লবের ডাক’ স্লোগানকে সামনে রেখে উৎসবমুখর ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে রাজধানীতে হেযবুত তওহীদের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সারাদেশ থেকে আগত হাজারো বিভাগীয়, আঞ্চলিক, জেলা, উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিট আমিরদের অংশগ্রহণে পুরো অনুষ্ঠানস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের উপদেষ্টা খাদিজা খাতুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউর রহমান, রুফায়দাহ পন্নী, এস এম সামসুল হুদা, ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ, স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. উম্মুত তিজান মাখদুমা পন্নী, সাহিত্য সম্পাদক রিয়াদুল হাসান প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের এমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম সমসাময়িক অস্থিরতা নিরসনে মহান আল্লাহর দেওয়া প্রকৃত দীন বা জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, সত্যের এই বৈপ্লবিক অভিযাত্রা কণ্টকাকীর্ণ হলেও আমরা লক্ষ্য অর্জনে অবিচল। বাংলাদেশের গত ৫৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের তৈরি প্রচলিত কোনো ব্যবস্থাই আজ অবধি মানুষকে প্রকৃত শান্তি ও নিরাপত্তা দিতে পারেনি। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জনগণের সামনে বিভিন্ন ‘স্বর্গীয় অফার’ বা স্বপ্ন তুলে ধরা হচ্ছে। এগুলো আসলে সাধারণ মানুষের রক্ত-ঘাম ঝড়ানো করের হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে ক্ষমতার পালাবদলের এক নিষ্ঠুর খেলা মাত্র। যা ইতোপূর্বে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কোনো কাজে আসেনি, আসবেও না।

হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো এখন বিভিন্ন কোম্পানির মতো অফার দিচ্ছে, কিন্তু এই অফারগুলো জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন নয়, বরং ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার মাত্র। তিনি গত দেড় বছরে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, এই দেড় বছরেও প্রায় ২ লক্ষ মামলা হয়েছে, ২ শতাধিক মাজারে হামলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, আজ বৈদেশিক ঋণে জর্জরিত দেশ। সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটির মাথায়ও চেপে বসছে প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা। অপরদিকে চলছে দেশের টাকা বিদেশে পাচারের হিড়িক। গত দেড় দশকে প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে।
প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থার অসারতা তুলে ধরে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ব্রিটিশরা চলে গেলেও তারা আমাদের জন্য একটি ঔপনিবেশিক এবং শোষণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা রেখে গেছে। আমরা ব্রিটিশদের রেখে যাওয়া সেই রাজনৈতিক সিস্টেম, অর্থনীতি, শিক্ষানীতি, বিচার ব্যবস্থা প্র্যাকটিস করে আসছি। যা এই জাতিকে এক মুহূর্তের জন্যও স্থিতিশীল থাকতে দেয়নি। বরং জাতির ঐক্য, সম্প্রীতি বিনষ্ট হয়েছে, সংস্কৃতি স্বকীয়তা হারিয়েছে, সমৃদ্ধি মুখ থুবরে পড়েছে, অর্থনৈতিক যুলুম কায়েম হয়েছে, মানুষ ন্যায়-সুবিচার-নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে ব্রিটিশদের এই ষড়যন্ত্রমূলক সিস্টেমের মূল উৎপাটন করে আল্লাহর বিধান কায়েমে গণবিপ্লব সৃষ্টির তাগিদ দেন তিনি।
গণবিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আমাদের এই গণবিপ্লব কোনো বিশৃঙ্খলা নয়, বরং এটি হলো মানুষের তৈরি জুলুমবাজ সিস্টেমের বিরুদ্ধে একটি আদর্শিক জাগরণ। গণবিপ্লব মানে হলো সাধারণ মানুষকে সচেতন করা যে, আল্লাহর দেওয়া বিধান ছাড়া পৃথিবীতে কোনোদিন শান্তি আসবে না।
বর্তমান বিচার ব্যবস্থার অসারতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বর্তমানে সাড়ে ৪৬ লক্ষ মামলা আদালতে ঝুলে আছে। আদালতে ন্যায়বিচার বিক্রি হয় এবং গরিব মানুষ কেবল হয়রানির শিকার হয়। আল্লাহর দেওয়া বিচার ব্যবস্থা যদি কায়েম হয়, তবে কোনো মিথ্যা মামলা থাকবে না এবং বিচারকরা আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে ন্যায়বিচার করবেন।” তিনি ব্রিটিশ প্রবর্তিত শিক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “ব্রিটিশরা আমাদের শিক্ষাকে দুই ভাগে ভাগ করে জাতিকে মানসিকভাবে বিভক্ত করেছে। শিক্ষাব্যবস্থা এমন হতে হবে যেখানে মানুষের নৈতিকতা এবং দেশপ্রেম গড়ে উঠবে এবং এটি হতে হবে সম্পূর্ণ আল্লাহর বিধানের আলোকে” -বলেন তিনি।
হেযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুঁজিবাদ বা ক্যাপিটালিজমের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সুদভিত্তিক অর্থনীতি কেবল মুষ্টিমেয় কিছু সিন্ডিকেটের হাতে সম্পদ পুঞ্জীভূত করেছে। সমাজতন্ত্র বা পুঁজিবাদ কোনোটিই মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারেনি; বরং সমাজতন্ত্র মানুষকে এক টুকরো রুটির জন্য লাইনে দাঁড় করিয়েছে আর পুঁজিবাদ মানুষকে ঋণের জালে আবদ্ধ করেছে। অর্থনৈতিক যুলুম ও বৈষর্ম দূর করতে তিনি আল্লাহর দেওয়া যাকাতভিত্তিক ও সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব করেন তিনি।
আলেম-ওলামাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শত শত বছর ধরে মুসলিম সমাজে এক ফেরকার সঙ্গে আরেক ফেরকার মাসলা-মাসায়েল ও আকিদাগত বিরোধ চলে আসছে। এই সুযোগটাই ইসলামবিরোধী শক্তিগুলো নানাভাবে কাজে লাগাচ্ছে। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে মতবিরোধ করার কারণে আমাদের মূল্যবান সময়, শ্রম ও অর্থ শুধু অপচয়ই হয়নি, বরং মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব পর্যন্ত হুমকির মুখে পড়েছে।
তিনি আলেমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণকে আল্লাহর নিরঙ্কুশ তওহীদের দিকে উদ্বুদ্ধ করুন। তাদেরকে বোঝান যে, আল্লাহর আইন-বিধান ছাড়া মানুষের তৈরি আইনে শান্তি আসতে পারে না। মসজিদের মিম্বর, ওয়াজ মাহফিল, মাদ্রাসা, খানকায় অর্থাৎ যেখানেই অবস্থান করুন না কেন, অনলাইনে অফলাইনে বর্তমান ব্যবস্থার অসারতা ও ব্যর্থতা তুলে ধরুন এবং আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থার পক্ষে জনমত গড়ে তুলুন। সকল ভেদাভেদ ভুলে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দীন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হন।
তিনি বলেন, মুসলমানরা আজ ফিলিস্তিন থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত নির্যাতিত হচ্ছে কেবল আল্লাহর হুকুম থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে। মসজিদের ইমামদের সমাজের প্রকৃত নেতার আসনে বসাতে হবে। তিনি প্রস্তাব করেন যে, প্রতিটি মসজিদ হবে স্থানীয় প্রশাসনিক ও বিচারিক কেন্দ্র এবং ইমামরা হবেন আল্লাহর দেওয়া আইনের আলোকে বিচারক। আপনারা রাজনৈতিক দলগুলোর হয়ে দালালি না করে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শামিল হবার তাগিদ দেন তিনি।
হেযবুত তওহীদের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বর্তমানে ‘মব’ বা গণপিটুনি সংস্কৃতি তৈরি করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। আপনারা সব সময় সজাগ থাকবেন এবং কোনো উস্কানিতে পা দেবেন না। আমাদের আন্দোলন ইস্পাতের মতো ঐক্যবদ্ধ এবং কোনো মব সন্ত্রাসী আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমরা সত্যের পথে আছি এবং আল্লাহ আমাদের হেফাজত করবেন। যারা ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে এবং উস্কানি দেয়, তারা আসলে ইসলামের বড় শত্রু। তিনি সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই মব সন্ত্রাসীদের এবং অনলাইন উস্কানিদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি, নতুবা তারা পুরো রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেবে। আপনারা প্রতিটি নগরে, প্রতিটি জনপদে এই সত্যদীনের বার্তা পৌঁছে দিন। আমাদের মৃত্যু যেন হয় আল্লাহর রাস্তায় শাহাদাতের মাধ্যমে এবং আমরা কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করব না।
এরআগে সকাল সাড়ে ৯টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ও প্রথম অধিবেশনের সূচনা হয়। এরপর জাতীয় সংগীতের সুরের সাথে জাতীয় পতাকা এবং দলীয় সংগীতের সাথে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকাকে স্যালুট প্রদানের পর দলীয় পতাকার তাৎপর্য ও লিখিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম সামসুল হুদা।
সম্মেলনের শুরু থেকেই উপস্থিত আমিরদের গগনবিদারি স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে আইসিসিবি প্রাঙ্গণ। “দীন প্রতিষ্ঠার নাম, জেহাদ-জেহাদ”, “এক দফা এক দাবি, মানবতন্ত্র কবে যাবি”, “সব সমস্যার সমাধান, দিতে পারে ইসলাম” -এমন সব বিপ্লবী স্লোগান কর্মীদের মধ্যে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। সমাবেশে উপস্থিত জনতা সমবেত কণ্ঠে ‘বিপ্লব! বিপ্লব! মুক্তির বিপ্লব’ স্লোগানে প্রচলিত ঘুণে ধরা সিস্টেম পরিবর্তনের দাবি জানান। এছাড়াও ‘তুমিও জানো আমিও জানি, মানবতন্ত্রের ভণ্ডামি’ এবং ‘ধর্ম নিয়ে রাজনীতি চলবে না’ স্লোগানগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার হরণকারী অপরাজনীতিকে তীব্র ধিক্কার জানানো হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন সভাপতির বক্তব্যে হেযবুত তওহীদের দীর্ঘ তিন দশকের কণ্টকাকীর্ণ পথচলার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, “বিগত ৩০ বছর ধরে আমরা নিরলসভাবে মানুষের মুক্তির জন্য এবং সত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের ওপর অনেক জুলুম-অত্যাচার হয়েছে, আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরানো হয়েছে এবং মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের মাধ্যমে আমাদের পথ রোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সত্যের এই অভিযাত্রায় আমরা এক মুহূর্তের জন্যও রাজপথ ছাড়িনি, থেমে থাকিনি।
তিনি আরও বলেন, হেযবুত তওহীদের প্রতিটি কর্মী সকল বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে ইস্পাতকঠিন মনোবল নিয়ে ময়দানে টিকে আছে। জেল-জুলুম এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েও এই সংগঠনের কর্মীরা তাদের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। বরং যত বেশি বাধা এসেছে, এই আন্দোলনের গতি তত বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মাননীয় এমামের নেতৃত্বে আমরা যে ঐক্যের ডাক দিয়েছি, তা আজ গণবিপ্লবে রূপ নিয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন, অতীতে যেমন কোনো ষড়যন্ত্র হেযবুত তওহীদকে দমিয়ে রাখতে পারেনি, ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ কোনো শক্তি এই সত্যের অগ্রযাত্রাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। ন্যায়ের পথে এই লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত হেযবুত তওহীদ রাজপথে অবিচল থাকবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
হেযবুত তওহীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারী বিভাগের প্রধান রুফায়দাহ পন্নী তার বক্তব্যে বলেন, আমরা ব্রিটিশদের শেখানো বিকৃত ইসলাম নয়, বরং আল্লাহর রসুলের প্রকৃত ও বিশ্বজনীন ইসলাম চাই। বর্তমানে সমাজে যে অরাজকতা, দুর্নীতি ও নারী নির্যাতন চলছে, তা প্রচলিত মানবরচিত সিস্টেম বহাল রেখে কেবল নির্বাচনের মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই তিনি ঔপনিবেশিক যুগের এই ঘুণে ধরা সিস্টেম বর্জন করে রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর দেওয়া পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
নারীনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলাম নারীকে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যে উচ্চ মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছে, তা তথাকথিত পাশ্চাত্য দর্শনেও নেই। তিনি সংগঠনের আমিরদের নির্দেশ দেন যেন তারা নারীদের অগ্রযাত্রায় বাধা না হয়ে তাদের ধৈর্য, মেধা ও ত্যাগকে দীন প্রতিষ্ঠার কাজে সঠিকভাবে কাজে লাগান। একইসাথে তিনি নারী কর্মীদের শালীনতা ও পর্দার বিধান বজায় রাখা, গিবত-হিংসা পরিহার এবং চারিত্রিক পবিত্রতা নিয়ে আগামীর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দেন।
হেযবুত তওহীদের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম ওখবা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম, আব্দুল কুদ্দুস শামীম, এনামুল হক বাপ্পা, মাহবুব আলম নিক্কন, দপ্তর সম্পাদক শরিফ মোহাম্মদ সুজন, আন্তঃধর্মীয় যোগাযোগ সম্পাদক আলী হোসেন, কৃষি সম্পাদক মোতালিব খান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাইফুর রহমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সম্পাদক সুলতানা রাজিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক রিয়াল তালুকদার, বরিশাল আঞ্চলিক আমির রুহুল আমিন মৃধা, রংপুর বিভাগীয় সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস শামীম প্রমুখ।
দ্বিতীয় অধিবেশনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি ১০ দফা দাবি পেশ করেন হেযবুত তওহীদের এমাম। এরপর আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যেখানে কৃষকদের জীবন ও হেযবুত তওহীদের প্রতিষ্ঠাতা এমামুযযামানের পারিবারিক ঐতিহ্যের গৌরবময় ইতিহাস ফুটে ওঠে। অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত ছিল উপস্থিত হাজার হাজার সদস্যের সমবেত কণ্ঠে শপথ বাক্য পাঠ। এছাড়াও ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শহীদ পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা বক্তব্য, কুইজ প্রতিযোগিতা, র্যাফল ড্র এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব। সংগঠনের চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে তাদের ত্যাগ ও সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য ১৯৯৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী পরিবারের সুযোগ্য সন্তান জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী হেযবুত তওহীদ প্রতিষ্ঠা করেন। সাধারণত প্রতি বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হলেও এ বছর ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানাবিধ পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছুটা আগেভাগেই অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।