রাজশাহীতে অপারেশন সান ডেভিল সমাপ্ত
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বেনীপুর গ্রামের জঙ্গি আস্তানার বাইরে পড়ে থাকা আত্মঘাতি জঙ্গিদের লাশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পরে তাদের লাশ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিকে অপারেশন সান ডেভিল দল জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১১ টি শক্তিশালী বোমা, পিন্তল, ম্যাগজিন, গুলি গানপাওডার ও বিষ্ফোরক উদ্ধার করেছে। ঢাকা থেকে আসা বোমা নিষ্ক্রীয় দল একসঙ্গে ১১ টি বোমা বিষ্ফোরন ঘটিয়ে নিষ্ক্রীয় করেন।
গোদাগাড়ী থানার ওসি ওসি হিফজুর আলম মুন্সি জানান শুক্রবার দ্বিতীয় দিন বেলা পৌনে ৯ টায় ওই জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শুরু করা হয়। অপারেশন ‘সান ডেভিল’ শুরু হওয়ার পরে প্রথমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ওই বাড়িতে আর কোন জঙ্গি নেই। এরপরে সেখান থেকে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার করা হয়। সব শেষে জঙ্গিদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জঙ্গিদের লাশ উদ্ধারের পর রামেক হাসপাতালে ময়নাতনন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। দুইটি ভটভটিতে করে লাশগুলো রামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পুলিশের ‘অপারেশন সান ডেভিল’ এর দ্বিতীয় দিনে জঙ্গি আস্তানার ভেতরে ১১টি বোমা ও একটি পিস্তল ও বিষ্ফোরক জব্দ করে। শুক্রবার সকালে অভিযান পুনরায় শুরুর দুই ঘণ্টা পর গোদাগাড়ী থানার ওসি হিফজুল আলম মুন্সি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বোমা আর পিস্তল ছাড়াও দুটি গুলি ও একটি ম্যাগাজিন পাওয়া গেছে বাসার ভেতরে। সেখান থেকে গানপাওয়ার বোমার বাধার বেল্ট ভেস্ট ও পুলিশের পোশাকের মত কিছু পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। বেলা দেড়টার দিকে সবকিছু উদ্ধারের পর অপারেশন সমাপ্ত ঘোষণা করেন রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নিসারুল আরিফ।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে উপজেলার বেনীপুর গ্রামের সাজ্জাদ আলীর (৫০) বাড়িটি ঘিরে রাখে আইনশৃঙ্খলারক্ষাতারী বাহিনীর সদস্যরা। এরপর ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু জঙ্গিরা তাতে সাড়া দেয়নি। ওইদিনই দমকল বিভাগের কর্মিরা মাটির দেয়াল ফুটো করার জন্য পানি স্প্রে করা শুরু করে।
এসময় জঙ্গিরা বাড়ি থেকে বের হয়ে পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মিদের ওপরে হামলা চালায়। এ হামলায় দমকল বিভাগের কর্মি আবদুল মতিন নিহত হন। এ সময় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন।
এ ঘটনায় পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। এরা হলেন বাড়ির মালিক সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলী বেগম (৪৫), তাদের ছেলে আল-আমিন (২০) মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার দেবীপুর গ্রামের আশরাফুল (২৩)। অভিযানের সময় সাজ্জাদের মেয়ে সুমাইয়া পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় সুমাইয়ার দুই শিশু সন্তানকেও।