Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

রৌমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘কোচিং ব্যবসা’ চালাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

Rowmari (Kurigram) Photo (4) 31-08-2016গয়টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলাধীন রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্কুলেই চালাচ্ছেন কোচিং ব্যবসা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কোচিং পড়াচ্ছে প্রধান শিক্ষক (ভার) গাজিবর রহমান ৫ম শ্রেণিতে সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, ২য় শ্রেণিতে সাংবাদিকরা ছবি তুলতে গেলে তারা ক্লাসরুম থেকে বাহিরে যায়। বিদ্যলয়টিতে ৬ জন শিক্ষক কর্মরত আছে এদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও এক জন সহকারী শিক্ষক। সরকারি বেতনের পাশাপাশি কোচিং করে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন অন্য শিক্ষকরা।
৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেরি, শাবনুর, জুই, রেশমা, বাপ্পি, মাসুদ জানায়, ”আমরা সকালে ৫ম শ্রেণির ২৭ ও ২য় ২৫ জন শ্রেণির শিক্ষার্থী কোচিং করি। প্রতিমাসে কোচিং ফি ৫শ’ টাকা করে নেয়।”
৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কাকুলী, মাফুজা, সাবানা, অনিক, চঞ্চল, কানোন, জানায়, ”বিকেলে ৪র্থ শ্রেণির ২৯ ও ৩য় শ্রেণির ২৪ জন শিক্ষার্থী কোচিং করি মাসে ৫শ’ টাকা নেয়।” তারা আরও জানায়, ”কোচিংয়ে না পড়লে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা দেয় না।”
ছাত্র অভিবাকক আব্দুর রহিম বলেন, ”আপনারা নিজেই দেখলেন স্কুল চলার সময় কোচিং চলছে। এই দরিদ্র এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিমাসে ৫শ’ টাকা দিয়ে কোচিং এ পড়তে হয়। স্কুলে কোন ক্লাস হয় না। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লিপ প্রকল্পসহ উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ করে কোন ফল পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক গাজিবর রহমান স্থানীয় প্রভাশালী হওয়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে কেউ সাহস পায় না।”
গয়টাপাড়া গ্রামে শাজামাল জানান দূর্নীতির কারণে প্রধান শিক্ষক গাজিবরসহ ৪জন শিক্ষককে একসাথে শাস্তিমূলক বদলি করে। আবারো দুই বছর পড়ে টাকা দিয়া এই স্কুলে আইছে। রৌমারী উপজেলা থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসার এই স্কুলে আসেনা।
প্রধান শিক্ষক (ভার:) গাজিবর রহমান বলেন, ”আমি স্কুলে কোচিং পড়াই এটা সবাই জানে শিক্ষার্থীদের ভালো রেজাল্ট করা জন্য কোচিং করানো হয়।”
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আফসার আলী বলেন, ”আমি শুনেছি প্রতি জনের কাছে থেকে মাসে ৫শ’ টাকা নেয়। সকাল ৭টা থেকে ৮.৩০মি.পর্যন্ত ৫ম,২য় ও বিকাল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৩য়,৪র্থ শ্রেণি ছাত্র-ছাত্রীদের কোচিং করায় প্রধান শিক্ষক গাজিবর রহমান।”
সহকারী উপজেলা শিক্ষা আফিসার মোছা. জেসমিন আক্তার বলেন, ”আমার কোচিং এর বিষটি জানানাই কোচিং চালু থাকলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. ফরহার হোসেন বলেন, ”সরেজমিনে পরির্দশ করে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দল্লাহ আল মামুন তালূকদার বলেন, ”উপজেলা শিক্ষা আফিসার কে গয়টাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজিবর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।”
উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি ও রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী বলেন, ”আমার কাছে লিখিত অভিযোগ এলে কোচিং পরিচালনাকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ”আমার ১২শ’ বিদ্যালয় দেখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে কোচিং পরিচালনাকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দিব।”

Leave A Reply

Your email address will not be published.