Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

লক্ষ্মীপুরে দালালের দোরাত্ম্যে পাসপোর্ট অফিস, গ্রাহক ভোগান্তি ‘চরমে’

Lakshmipur Passport Office Dalal Dalower Pic 03 16.06.2016লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: পাসপোর্ট করতে আসছেন কতটাকা নিয়ে…? ৮ হাজারের নিচে হলে হবে না! পুলিশ খরচ, অফিসের কর্মকর্তাদের খরচ আর আমাদের কিছু মিলিয়ে ৮ হাজার টাকায়ও পোষায় না। আগে প্রতিটি পাসপোর্ট বাবত ৫শ থেকে ৬শ টাকা লাভ হতো, এখন ২শ টাকার বেশি রাখা যায় না ভাই। আপনি নিজে গিয়ে পাসপোর্টের আবেদন জমা দিতে পারবেন না। আর দিলেও তাতে বিভিন্ন ভূলত্রু টি ধরে বড় স্যার ফেরত পাঠাবে। পরে আমাদের কাছেই আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬জুন) দুপুর ২টার দিকে নিজের পরিচয় গোপন করে নতুন পাসপোর্টের আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে গেলে লক্ষ্মীপুর মেশেনি রিডেবল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের চিহ্নিত দালাল চক্রের সদস্য দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জরুরী ভিত্তিতে ১১/১৫ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পেতে লাগবে ৮ হাজার টাকা। আর সাধারন ভাবে ১ থেকে দেড় মাসের ভিতর পাসপোর্ট নিতে হলে গুনতে হবে সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। যদি আমাদের ছাড়া স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে পাসপোর্টর জন্য আবেদন করেন, তবে ১১দিন মেয়াদী পাসপোর্ট অর্ধবছর ফেরিয়ে গেলেও হাতে পাবেন না। ১ মাস মেয়াদী পাসপোর্টতো বহুদূর। অফিসের এডি স্যার ভূল ত্রু টি ও আবেদন ফরমে সমস্যা দেখিয়ে ফাইলই বাতিল করে দিবে। ‘বাড়তি টাকা দিবেন না পাসপোর্টও ইস্যু হবে না।’
দালাল দেলোয়ার আরো বলেন, সাধারণ ভাবে আপনি পাসপোর্টের কাগজপত্র সত্যায়িতসহ সবকিছু ঠিক করে আনলেও অফিসের লোকজন বিভিন্ন ধরনের ভূল ধরবে। এমনকি সত্যায়নকারীকে ফোন দিয়ে বিভিন্ন তথ্য নিবে। আর যদি আপনি আমাদের মাধ্যমে পাসপোর্ট করেন তা হলে কোন তদন্ত হবে না। এখানে প্রতি পাসপোর্টে ৬শ টাকা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি)তে দিলে তারা আর তদন্ত করে না, সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়। আর না দিলে তদন্ত করে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে নাজে হাল করে।
অপর দিকে বাকী টাকা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাকছুদুর রহমান ও উপ-সহকারী পরিচালক জগদিশ চন্দ্র তাতীকে দিতে হয়। তখন তারা আবেদন ফাইল নিজেরাই সত্যায়িত করে রেডি করে নেয়। আর টাকা না দিলে আবেদন ফাইল নিয়ে তদন্ত করতে শুরু করে তারা। আর আমরা যদি টাকা না দেই তা হলে বাহিরে এসে আমাদের গালমন্দ করে।
তবে লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বাহিরে ভিতরে প্রায় অর্ধশতাধীক দালাল রয়েছে বলে জানান দেলোয়ার। শুধু তাই নয় পুলিশ প্রশাসনের অনেক কনষ্টেবল, আশে পাশের দোকানদার, এমনকী স্বয়ং পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ দালালীর সাথে জড়িত বলে জানায় ওই চক্রের এ সদস্য।
দেলোয়ারের তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিসের গেইটের ভিতরে ঢুকে দেখা যায়, কয়েকজন দালাল গ্রাহকদের পাসপোর্টের আবেদন ফরম পুরন করে দিচ্ছে। এসময় কর্মরত অবস্থায় পুলিশের এক কনষ্টেবলকেও ইউনিফর্ম ছাড়া এক গ্রাহকের আবেদনের কাগজপত্র হাতে নিয়ে তার সাথে দর কষাকষি করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই কনষ্টেবল বলেন, এখন ডিউটি নাই তাই গ্রাহকদের সহযোগীতা করছি। তবে কিছুক্ষনের মধ্যে ইউনিফর্ম পড়ে ডিউটিতে ফিরে আসেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, মেশিনা রিডেবল পাসপোর্ট ১১ দিন মেয়াদী (জরুরী) পাসপোর্ট করতে ৬হাজার ৯শ টাকা ও (সাধারণ) ৩০দিন মেয়াদী পাসপোর্ট করতে ৩ হাজার ৫শ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে হয়। কিন্তু গ্রাহকদের কাছ থেকে জরুরী ৮ হাজার ও সাধারন সাড়ে ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক জগদিশ চন্দ্র তাতী বলেন, পাসপোর্ট অফিসে দালাদের দৌরাত্ম্য বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে আপনি আমাদের এডি স্যারের সাথে কথা বলেন। যা বলার উনিই বলবে।
লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক (এডি) মোঃ মাকসুদুর রহমান বলেন, অফিসের ভিতরে তো কোন দালাল নাই। থাকলে বলেন আমি ব্যবস্থা নিবো। প্রতি পাসপোর্টে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাহিরে মানুষ কত কথাই বলে, সব কথায় কান দিতে নাই। যারা এসব কথা বলেন, হয়তো তারাই গ্রাহকদের কাছ থেকে আমার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.