Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

লন্ডনে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন হত্যা মামলার আসামী ছাত্রলীগ নেতা কাজী মো. ফুয়াদ ইসলাম সায়মন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় গত বছরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুলি ও হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কাজী মো. ফুয়াদ ইসলাম সায়মন বর্তমানে লন্ডনে পালিয়ে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র এবং সামাজিক মাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফুয়াদ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং আকবরশাহ থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় ভাঙচুর, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হুমকি দেওয়াসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

বিএনপি নেতা রাজু আহমেদ বলেন, “ফুয়াদের কারণে আমরা বাড়িঘরে নিরাপদে থাকতে পারিনি। সায়মন রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দখলবাজি এবং প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বহুবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়িয়ে গেছেন। আমরা চাই, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে যেন আইনের আওতায় আনা হয়।”

ছাত্রদল নেতা মো. জোনায়েদ বলেন, “ফুয়াদ এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা এবং চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিল। তার কারনে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি দেওয়া জরুরি।”

আকবরশাহ থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, “গত বছরের আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে কাজী মো. ফুয়াদ ইসলাম সায়মন একজন এজাহারভুক্ত আসামি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দেশে ফিরলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলের পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, ফুয়াদ ইসলাম সায়মনকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করা হোক। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযুক্ত ফুয়াদ ইসলাম সায়মনের পরিবার জানান, “ফুয়াদ রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার। সে বরাবরই ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল, কিন্তু কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন।”

তারা আরও বলেন, “বর্তমানে সে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছে। দেশে কোনো ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে না—এই আশঙ্কায় সে নিজেকে নিরাপদে রেখেছে। আমাদের পরিবারের সবার আশা, একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উন্মোচিত হবে।”

এ বিষয়ে তারা সরকারের কাছে নিরপেক্ষ বিচার এবং ফুয়াদের মানবাধিকার রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.