Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

শৈলকুপায় গড়াই নদীর ভাঙনে বদলে যাচ্ছে উপজেলার মানচিত্র

মনিরুজ্জামান সুমন, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের শৈলকুপায় গড়াই নদী ভাঙ্গনকে পূজি করে স্বার্থান্বেশী মহলের প্রতিহিংসা আর রাজনৈতিক যাঁতাকলের অষ্টে-পিষ্টে বদলে যাচ্ছে ৩টি ইউনিয়নের মানচিত্র। ৬নং সারুটিয়া, ৭নং হাকিমপুর ও ৮নং ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। উদাসীন কর্তৃপক্ষের সামনেই নিত্য বাড়ছে ভাঙ্গন আর দখল দৌরাত্ব। সারুটিয়া ইউনিয়নের বড়ুরিয়া থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধে ফাটল ধরে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা ও খুলুমবাড়িয়া, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, নতুনভুক্ত মালিথিয়া, চরপাড়া ও লাঙ্গলবাঁধ বাজার এখন নদী ভাঙনে হুমকিতে পড়েছে। হারিয়েছে এসব এলাকার অনেক ফসলী জমি, বাড়িঘর, কলাক্ষেতসহ বিভিন্ন বাড়ন্ত ফসল। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার বলেন, সত্বর গড়াই নদীতে টি চ্যানেল তৈরি, স্পার্কিং ও গভীর ড্রেজার প্রকল্পের মাধ্যমে ভাঙন ভরাটসহ পানির গতিপথ ঘুরানোর বিকল্প নেই। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা আর সহযোগিতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ৯০ দশক পর থেকেই বছরের পর বছর গড়াই নদী ভাঙ্গনের করাল গ্রাসে বদলে গেছে বড়ুরিয়া, বাখরবা, কৃষ্ণনগর, কৃর্ত্তিনগর, গোসাইডাঙ্গা, সারুটিয়া, শাহবাড়িয়া, গাংকুলা অংশে এবং হাকিমপুর ইউনিয়নের মাদলা ও খুলুমবাড়িয়া, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কাশিনাথপুর, মাজদিয়া, উলুবাড়িয়া, নতুনভুক্ত মালিথিয়া, চরপাড়া ও লাঙ্গলবাঁধ বাজারসহ ৩ ইউনিয়নের বৃহৎ এলাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বড়ুরিয়া-কৃষ্ণনগর, কাশিনাথপুর, লাঙ্গলবাঁধ, ও মাদলা। ভিটে-বাড়ি, জমিজমা সহায় সম্বল হারিয়ে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে পাউবোর প্রধান সেচ খালের ধারে। ২০০০ সাল পরবর্তি সময়ে বড়ুরিয়া-কৃষ্ণনগর এলাকার কিছু মানুষ ওপারে জেগে ওঠা প্রায় দেড় হাজার বিঘা আয়তনে চরে জীবন যাপনের জন্য ভূমিহীন হিসাবে আশ্রয় খোঁজে। তবুও ঠাঁই হয়নি তৎকালীন গণবাহিনী নেতা একদিল গ্রপের অত্যাচারে। গড়াই নদীর দুই পাড়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতিহিংসার শিকারে অমিমাংসীত থেকে গেছে নানা উদ্যোগ। নদীর এপার-ওপার মানুষের মাঝে চর দখল নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এমনকি মারামারির ঘটনাও কম ঘটেনি।

অপরদিকে বেড়েই চলেছে নদী ভাঙন। এ বছর বর্ষার পানি বাড়তেই আবার শুরু হয়েছে ভাঙনের ভয়াল রূপ। গৃহহীন ভোক্তভোগীরা গভীর করে ড্রেজিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ভাঙন বন্ধ, স্পার্কিং ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক টি চ্যানেল নির্মাণ করে শৈলকুপার মানচিত্র ঠিক রাখা, একই সাথে বড়ুরিয়া-কৃষ্ণনগর, কাঁশিনাথপুর, লাঙ্গলবাঁধ ও মাদলাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের আবাদী জমিজমা বাঁচানোর সত্বর অনুরোধ জানিয়েছেন। দিনে দিনে হারিয়ে গেছে বড়–রিয়া থেকে শুরু হয়ে লাঙ্গলবাঁধ বাজার পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, যা পুন:নির্মান জরুরী।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার জানান, স্থায়ী ভিত্তিতে স্পার্কিং ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক টি চ্যানেল ও বন্যা নিয়ন্ত্রণবাঁধ পুন:নির্মাণসহ ভাঙনরোধ করে বাড়িঘর কৃষিজমি রক্ষায় শৈলকুপার ৩টি ইউনিয়নের বেশকয়েকটি গ্রামে জরুরী প্রকল্প দিয়ে বরাদ্দের চেষ্টা করা হচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশেরপত্র/এডি/এ

Leave A Reply

Your email address will not be published.