শোক আর শঙ্কায় পালিত ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পহেলা জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নৃশংস জঙ্গি হামলায় ২২ প্রাণ ঝড়ে যাওয়ার শোক বুকে নিয়েই এবার দেশবাসী পালন করছে ঈদুল ফিতর। পাশাপাশি নতুন হামলার আশঙ্কায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দান, বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদ, কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠসহ দেশের প্রধান প্রধান ঈদের জামাতগুলোতে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরাপত্তার কড়াকাড়ির মধ্যেই শোলাকিয়া মাঠে অনুষ্ঠিত জামাতের নিকটে নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর বোমা হামলার ঘটনা ঘটে এবং দুই পুলিশ সদস্য ও এক হামলাকারীসহ মোট চারজন নিহত হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় এবার ৩০ রোজা শেষে ঈদ করছেন বাংলাদেশের মুসলমানরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হিসাবে রাজধানীর অর্ধকোটির বেশি মানুষ এবারও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে গ্রামে গেছেন। যানজট আর বৃষ্টিতে পথে ব্যাপক ভোগান্তি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আবহ। কোটি কোটি মুসলমান ঈদগাহে কিংবা মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বৃহস্পতিবার সকালে দলে দলে মানুষ রাজধানীর বিভিন্ন ঈদগাহ ময়দান ও মসজিদে ছোটে ঈদের নামাজ আদায় করতে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের প্রথম জামাত হয় সকাল ৭টায়। জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের ইমামতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারি কর্মকর্তাসহ সব শ্রেণি পেশার নানা বয়সী মানুষ ঈদগাহে নামাজ আদায় করেন। এক ঘণ্টা পরপর জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় আরো চারটি জামাত। প্রতিটি জামাতে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এদিকে বরাবরের মতো এবারও রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত হয়েছে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল সাড়ে ৮টায়। সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের এ প্রধান জামাত। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এ জামাতে অংশ নেন। নামাজ শেষে বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনায় মোনাজাত করা হয়। এর আগে খুতবায় রোজা ও ঈদের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। জামাত শেষে পর¯পরের সঙ্গে কোলাকোলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সবাই।
গুলশানে রেস্তোরাঁয় হামলার প্রেক্ষাপটে এবার সব ঈদ জামাত ঘিরেই ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যারা ঈদ জামাতে অংশ নিতে আছেন, তাদের মাঠে প্রবেশ করতে হয়েছে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের তল্লাশির মধ্য দিয়ে। জায়নামাজ ছাড়া আর কিছু যাতে কেউ সঙ্গে না আনেন, সে বিষয়ে আগেই সবাইকে সতর্ক করেছিল পুলিশ। তবে রাজধানী বা দেশের আর কোথাও কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটলেও শোলাকিয়ার ঘটনা সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এদিকে ঈদের দিনের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি বাগড়া দিতে পারে আনন্দে। তবে ঈদের সকালে দেশের কোথাও এ ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি।