সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমই বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেছেন, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রিফর্ম প্রজেক্ট-২ (পিপিআরপি-২)-এর আওতায় সরকার দেশে ই-জিপি বাস্তবায়ন করছে। সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সমআচরণ ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকল্পে এবং জনগণের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০১১ সালের ২ জুন জাতীয় ই-জিপি পোর্টাল (www.eprocure.gov.bd) উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে ই-টেন্ডারিং ব্যবস্থা চালু হয়। একই সালে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় ই-জিপি গাইড লাইন জারী করা হয়। আজ ১৩ মার্চ ২০১৬ ইং রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিসিসিপি’র সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) সচেতনতামূলক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পিপিআরপি-২ প্রকল্পের আওতায় এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামসের (বিসিসিপি) সহায়তায় ইতোমধ্যে দেশের ৩৫টি জেলায় ই-জিপির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি জেলাগুলোতে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে সিপিটিইউ কর্তৃক স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ পলী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ চারটি টার্গেট এজেন্সিতে পাইলট ভিত্তিতে ই-জিপি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য সংস্থায় ই-জিপি পোর্টালের মাধ্যমে ই-জিপি কার্যক্রম চালু করা হয়। সরকারি ক্রয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য চলতি সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত ৪টি টার্গেট এজেন্সীসহ ৩৬টি মন্ত্রণালয়ের ১৬৪টি সংস্থার ২ হাজার ২’শ ৮২টি ক্রয়কারী অফিস ই-জিপি সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ক্রয়কার্য পরিচালনা করছে। ই-টেন্ডারিং-এর জন্য ২০ হাজার ৩’শ ১৪ জন টেন্ডারার ই-জিপি সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে। ই-জিপি সিস্টেমে টেন্ডারারদের রেজিস্ট্রেশন ফি, নবায়ন ফি ও টেন্ডার ডকুমেন্ট ফি গ্রহণের জন্য ৪০টি ব্যাংকের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। এসব ব্যাংকের প্রায় ২ হাজার শাখার মাধ্যমে সারাদেশে এসব সেবা প্রদান করা হচ্ছে। পুরো সরকারি ক্রয় কার্যক্রমের একটি কেন্দ্রীয় ও জাতীয় ইলেকট্রনিক প্লাটফরম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এ পদ্ধতি চালুর ফলে ক্রয়কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের বিদ্ধমান জটিলতা পরিহার করা সম্ভব হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিপিটিইউ’র মহাপরিচালক ফারুক হোসেন, বিশ্বব্যাংকের প্রধান ক্রয় বিশেষজ্ঞ ড. জাফরুল ইসলাম ও পরামর্শক মোস্তাফিজুর রহমান। কর্মশালায় জেলা পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কারী সংস্থার প্রতিনিধি, টেন্ডারার, মিডিয়া প্রতিনিধি, ব্যাংক, এনজিও এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।