সাগরে ভাসমান ২ শতাধিক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করল মিয়ানমার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রথমবারের মত অভিযানে অংশ নিয়ে সাগরে ভাসমান অভিবাসীবাহী দুটি নৌযান থেকে ২ শতাধিক রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে মিয়ানমারের নৌবাহিনী।
এদিকে, আন্দামান সাগরে ভাসমান অবৈধ অভিবাসীদের উদ্ধারে চারটি জাহাজ পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। অভিবাসীদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযান সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনী প্রধানের মধ্যে।
এর আগে, অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট জানান, সাগরে বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় অংশ নেবে না তারা।
স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় উদ্ধার হওয়ার পর ক্ষুদ-পিপাসায় কাতর এই মানুষগুলোর আশ্রয় হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের এই অস্থায়ী শিবিরে। দিনের পর পর দিন না খেয়ে থাকার কারণে অধিকাংশের চেহারায় দুর্ভিক্ষের ছাপ।
কেউবা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের হাত থেকে বাঁচতে, আবার কেউবা উন্নত জীবন-যাপনের আশায় মরিয়া হয়ে পাড়ি জমান দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার উন্নত দেশগুলোর উদ্দেশ্যে। কিন্তু কল্পনাও করতে পারেননি কী দুর্দিন অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। ছোট্ট একটা নৌযানে করে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে শত শত নারী-পরুষ গাদাগাদি করে দু’মাসেরও বেশি সময় সমুদ্রে ভেসে ছিলেন। দালালদের পরিত্যক্ত নৌকায় খাবার নেই, নেই তৃষ্ণা মেটানোর এক ফোঁটা পানিও। এই চিত্র যে কোন বিভীষিকাকে হার মানায়।
প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের নির্দেশের পর আন্দামান সাগরে ভাসমান আরো অভিবাসীদের সন্ধানে এরই মধ্যে চারটি জাহাজ পাঠিয়েছে মালয়েশীয় নৌবাহিনী।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট বলেন, এইসব মানুষকে এখন সহয়তা দিলেই অন্যরাও তাদের পথ অনুসরণ করবে। আর এতে করে সমস্যা আরও মারাত্মক হবে।
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট বলেন, নতুন আশ্রয়ের খোঁজে নৌকায় ওঠা অভিবাসীদের পশ্চিমা দেশে নতুন জীবন দিয়ে পুরস্কৃত করার কোন মানে হয় না। আমরা এমন কিছু করতে যাব না, যা মানুষকে নৌকায় চড়তে উৎসাহিত করবে।
সংকটের এই চরম মুহুর্তে অস্ট্রেলিয়া সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও হাজার হাজার অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে থাইল্যান্ড।
একই সঙ্গে এপির প্রতিবেদনে প্রকাশিত অভিবাসী নৌকা লক্ষ্য করে থাই নৌবাহিনীর গুলিবর্ষণের খবর মিথ্যা বলে দাবি করেছে তারা। ব্যাংকক দাবি করে, ১৪ মে থাইল্যান্ড উপকূলে ভেড়া অভিবাসীবাহী নৌকাটিতে বেশ কয়েকজনের মরদেহ খুঁজে পায় থাই নৌবাহিনী। যারা খাবার ও পানীয়র অভাবে মারা গেছে বলে তাদের ধারণা।