Connecting You with the Truth
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

- Advertisement -

ফাইনালে ২০ মিনিটেই চোখের জলে মাঠ ত্যাগ রোনালদোর


Ronaldo_cry
স্পোর্টস ডেস্ক: ইউরো কাপ ফাইনালে প্রথমার্ধ গোলশূন্য। কিন্ত্ত ম্যাচে সবচেয়ে বড় ধাক্কা ক্রিস্তিয়ানো রোনাল্দোর ২৪ মিনিটে চোট পেয়ে বেরিয়ে যাওয়া। এই ধাক্কা পর্তুগাল কতটা সামলাতে পারবে, তার উপর নির্ভর করছে ফাইনালে ট্রফি কার দিকে যাবে।

Ronaldo (1)
১৮ বছর আগে ফ্রান্সের মাঠেই বিশ্বকাপ ফাইনালে এক অজ্ঞাত কারণে নামতে পারেননি ব্রাজিলীয় তারকা রোনাল্দো। সে বার ট্রফি নিয়ে গিয়েছিলেন জিদানরা। এ দিন পর্তুগাল নির্ভর করেছিল রোনাল্দোর উপর। স্ট্রেচারে করে যখন তাঁকে মাঠের বাইরে বের করে আনা হচ্ছে, তখন তাঁর চোখে জল। ২০০৪ সালে ইউরো কাপে গ্রিসের বিরুদ্ধে ফাইনালে হেরে গিয়েছিল পর্তুগাল। সে বার কোচ স্কোলারিকে দেখা গিয়েছিল রোনাল্দোকে সান্ত্বনা দিতে। এ দিন অবশ্য রোনাল্দো যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন, কেউ তাঁর পাশে ছিল না। ফিজিওরা তাঁকে বের করে নিয়ে যান।Ronaldo (2)
ফাইনালে রোনাল্দোকে আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ফ্রান্স কোচ দেশঁর। ম্যাচের আগেই বলেছিলেন, তাঁর লক্ষ্য রোনাল্দোকে আটকানো। ম্যাচের শুরু থেকেই রোনাল্দোকে ঘিরে ধরে আক্রমণ শানায় ফ্রান্স। ১৭ মিনিটে পায়েত তাঁর হাঁটু লক্ষ করেই পা চালান। কিন্ত্ত রেফারি পায়েতকে কোনও রকম সতর্ক করেননি। চোট নিয়ে রোনাল্দো ফের নামার চেষ্টা করেছিলেন। নেমেও ছিলেন। কিন্ত্ত একটা স্প্রিন্ট টেনেই দাঁড়িয়ে পড়েন। কোচকে বলেন তুলে নিতে। আক্ষেপে ব্যান্ড খুলে ফেলেন। যা তাঁর হাত থেকে নিয়ে যান নানি। তখনই তাঁর চোখে জল। তিনি বসে পড়েন মাঠে। ২৪ মিনিটের মাথায় তাঁকে তুলে নিয়ে যান ফিজিওরা। তাঁর বদলে নামানো হয় কুয়েরেসমা-কে। প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। তবে দাপট এবং বল পজেশনে এগিয়ে ফ্রান্স।
ফ্রান্স অবশ্য রবিবার দিনভর এগিয়ে ছিল জীবনযুদ্ধের খেলাতেও। যেমন সাম্বাউ তাতি। আগে-ভাগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন স্তাদ দ্য ফ্রাঁসে পৌঁছে গিয়েছেন। কে তিনি? তাতি হলেন পল পোগবার ছোটবেলার কোচ। তাতির কাছে প্যারিসের এই স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের ম্যাচ মানে শুধু পোগবা নন, বরং অন্য সব ফরাসিদের মতো তাঁর কাছেও স্তাদ দ্য ফ্রাঁস মানে আট মাস আগের জঙ্গি নাশকতার দুঃসহ স্মৃতি।
সে দিন আবার তাতির সঙ্গে ছিল তাঁর আট বছরের ছেলে তিয়েল। যার ইচ্ছে ছিল, ম্যাচ শেষে স্বপ্নের নায়ক পোগবার সঙ্গে একটু দেখা করা, কথা বলা। যে স্বপ্ন শেষমেশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, বাঁচার স্বপ্নে। গোটা প্যারিস যখন নাশকতার ভয়ে কাঁপছে, বাবার সঙ্গে স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে এসেছিল তিয়েল। আতঙ্কের ঘোর কাটতে লেগেছিল বেশ কয়েক দিন। তার পরও এ দিন স্টেডিয়াম আলো করে তাতি-তিয়েল।
এই গল্পটা নিছকই রূপক। তাতি-তিয়েলরা আসলে এ দিন ৮০ হাজারের বেশি গ্যালারি ভরিয়ে ফেলা সমর্থকদের প্রতীক। আট মাস আগে আতঙ্কের উত্স থেকে উত্সারিত আলোর মতো জীবনের শহর হয়ে উঠেছে প্যারিস। আইফেল টাওয়ারের ‘ফ্যান জোন’-এ গায়ে লে ব্লুজের নীল জার্সি পরা সমর্থকদের হেঁটে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা হতে পারে মাঝ সমুদ্রের নীল স্রোতের। মাঝে মধ্যে আগুনে মেরুন বা তারুণ্যের সবুজ। ফ্রান্সের নীল সমুদ্রে পর্তুগালের সমর্থকদের দেখতে লাগে দূরের ছোট দ্বীপের মতো।
স্টেডিয়ামে ঢোকার লাইনে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকার একঘেয়েমি কাটাতে কখনও দু’জোড়া ঠোঁট এক হল তরুণ-তরুণীর। তরুণের জার্সিতে লেখা গ্রিয়াজমান, তরুণীর পিঠে জিরো। শুধু কি তারুণ্যের ঢেউ? আট থেকে আশির গলায় প্রিয় ফ্রান্সের জন্য গান। ম্যাচ শুরুর আগে সবাই যেন লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির মোনালিসা। মুখে হাসি লেগেই রয়েছে। শেষ বাঁশির পর শেষ হাসি কাদের মুখে থাকল, সেটা পরের কথা।
বড় ব্যাপার, ফুটবল জিতিয়ে দিল ফ্রান্সকে। ইউরো শুরুর আগে নাশকতার আশঙ্কার সঙ্গে ধর্মঘট আর বন্যা নিয়ে সমস্যার গলা জলে ডুবেছিল যে দেশ, টুর্নামেন্টের বিজয়ায় সেখানেই, ‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে’র রেশ।
খেলার মাঠের যুদ্ধের মধ্যে অদ্ভুত একটা মজা রয়েছে। এ যুদ্ধে শত্রুতার বদলে তৈরি হয় বন্ধুত্ব। ইউরোপ যতই ‘ব্রেক্সিট’ নিয়ে উত্তাল হোক, ইউরো কাপের আবহে শুধুই মেলবন্ধনের ছবি। গ্রিয়াজমানের ছবি হাতে দাঁড়ানো কিশোরী লঁরার সঙ্গে এক ফ্রেমে বন্দি হয়ে গেল লিসবনের টিনএজার মার্কো। কেন? মার্কোর স্লিভলেস টি শার্টে যে দামাল সিআর সেভেন। এমন অনেক টুকরো টুকরো ভালোবাসার ছবিতে উজ্জ্বল প্যারিসের ক্যানভাস।

Leave A Reply

Your email address will not be published.