ডিবি কার্যালয়ে এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদল

0
61

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে ডিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা- ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) প্রতিনিধিদল।

রোববার দুপুর ২টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এ কথা জানান গোয়েন্দা পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাহবুব আলম।

মাহবুব আলম বলেন, ‘তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ডিবির টিম কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে যত আলামত পাওয়া গেছে তা পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এফবিআইয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের বিষয়ে এটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল। বৈঠকে তারা নিলয় হত্যার বিষয়ে জানতে এবং কারিগরি সহযোগিতা করতে চেয়েছে। এ ঘটনায় কোন কোন বিষয়ে আমরা কারিগরি সহযোগিতা নিতে পারি তা চিহ্নিত করেছি। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে আমরা সহযোগিতা চাইব।’

অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের ১১টি আলামাত পরীক্ষার বিষয়ে মাহবুব আলম বলেন, ‘অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন এফবিআইয়ের কাছ থেকে শিগগিরই পাব বলে আশা করছিলাম। কিন্তু তা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।’

নিলয় হত্যাকাণ্ড কারা এবং কেন সংঘটিত করেছে, সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ফেসবুক বা ব্লগে লেখার কারণে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তকাজ আরেকটু এগোলে এ বিষয়ে জানা যাবে।

নিলয় হত্যাকাণ্ড ছাড়াও অন্যান্য ব্লগার হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি জানান, ওয়াশিকুর রহমান বাবুর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অগ্রগতি হয়েছে। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারেও অগ্রগতি হবে বলে আশা করছি।

হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটনের প্রমাণ পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রাইম সিন থেকে এভিডেন্স পাওয়ার পর সেগুলো পরীক্ষা করে প্রমাণ সাপেক্ষে আসামি ধরতে ব্যবহার করা হয়। এ ধরনের অনেক ক্লু পাওয়া গেছে। আশা করি, মামলার অগ্রগতিতে কাজ করবে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা যে টি-শার্টটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি হত্যাকারীদের একজনের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দায় স্বীকারকারী সংগঠনটির ব্যাপারে মাহবুব জানান, মেইলটি বাংলাদেশ থেকে পাঠানো হয়েছে সেটি নিশ্চিত হয়েছি। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের পর আনসার আল ইসলাম দায় স্বীকার করে। আগে অন্যান্য সংগঠন দায় স্বীকার করলেও এই সংগঠনটি এবারই প্রথম। বিচ্ছিন্ন কোনো গোষ্ঠী বা দল বা নতুন কোনো সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে এ নাম দিয়েছে। কিন্তু তাদের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু তা তদন্ত করে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলা যাবে।

জঙ্গি সংগঠনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন যুক্ত কি না, সেটি এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত আরেকটু এগোলে এ বিষয়ে বলা যাবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here