টানা তৃতীয় জয়ে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখলো কিউইরা
স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রথম ইনিংসে টিম সাউদির তাণ্ডব আর দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাক কালাম ও গাপটিলের দ্বৈত ঝরে উড়ে গেল বিশ্বকাপে ইংলিশদের দ্বিতীয় ম্যাচও। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কা আর দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটিশদের হারিয়ে দারুণ ফর্মে থাকা কিউইরা গত কাল বেশ সাচ্ছন্দেই হারিয়েছে ইংলিশদের।
ওয়েলিংটনে দিনের প্রথম ইনিংসে ইংলিশ ব্যাটস্যমানেরা বিধ্বস্ত হলো কিউই পেসার টিম সাউদির গতি ঝড়ে। সাউদি ঝড়ের পরে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল এবং ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম ব্যাটে ঝড় তোলায় শেষ পর্যন্ত আট উইকেটের হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ইংল্যান্ডকে। নিউজিল্যান্ডের পেসার সাউদি ৩৩ রানে সাত উইকেট নিলে ৩৩.২ ওভারেই ১২৩ রানের অল আউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ১২৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১২.২ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
ইংলিশ অধিনায়ক টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নিতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি। উদ্দেশ্য ছিল স্কোর বোর্ডে ভালো রান জমা করে স্বাগতিকদের চাপে ফেলা। কিন্তু ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেই ঝড় তুললেন কিউই পেসার টিম সাউদি! দলীয় ১৮ রানের মাথায় এক ইনসুইঙ্গারে বোল্ড হয়ে ফিরে যান ইংলিশ ওপেনার ইয়ান বেল। এরপর দলীয় ৩৬ রানের মাথায় আরেক ওপেনার মঈন আলীও সাউদির ইনসুইং ইয়র্কারে বোল্ড হন। দলীয় ৫৭ রানের মাথায় ট্রেন্ট বোল্ট গ্যারি ব্যালান্সের উইকেট তুলে নিলে নিজেদের তৃতীয় উইকেটটি হারায় ইংল্যান্ড। এমতাবস্থায় ইয়োন মরগান এবং জো রুট ৪৭ রানের পার্টানারশিপ গড়ে পরিস্থিতি সামালে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ দুই ব্যাটসম্যানের সাবলীল ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছিল ইংল্যান্ড। তবে দলীয় ১০৪ রানের মাথায় ড্যানিয়েল ভেট্টরি মরগানের উইকেট তুলে নিলে চতুর্থ উইকেট হারায় ইংলিশরা। এরপরই টিম সাউদি চূড়ান্ত আঘাত হানেন। তার দ্বিতীয় স্পেলে তিনি একে একে জেমস টেইলর, জোস বাটলার, ক্রিস ওকস, স্টুয়ার্ট ব্রড এবং স্টিফেন ফিনের উইকেট তুলে নিলে তাসের ঘরের মতোই ভেঙে পড়ে ইংলিশদের ব্যাটিং লাইন আপ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে জো রুট মিলনের বলে ভেট্টরির হাতে ধরা পড়লে ইনিংসের ১০০ বল আগেই অল আউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড।
দ্রুত ইংলিশদের ইনিংস শেষ হয়ে যাওয়ায় মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই মাঠে নামে নিউজিল্যান্ড। ১২৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ব্রান্ডন ম্যাককালাম এবং মার্টিন গাপটিল ৪৩ বলে ১০৫ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়লে মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কিউইরা। আট চার এবং সাত ছয়ে ২৫ বলে ৭৭ রান করে ক্রিস ওকের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম। এরপর নয় ওভারে এক উইকেটে ১১২ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যায় কিউইরা। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দ্বিতীয় বলে আরেক ওপেনার গাপটিল ২২ রান করে ক্রিস ওকের বলে বোল্ড হলে ১১২ রানেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। তবে কেইন উইলিয়ামসন এবং রস টেইলর ২২৬ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে দেন স্বাগতিকদের।
মূলত ইংলিশ পেসার স্টিফেন ফিনের উপর দিয়েই বয়ে গেছে ম্যাককালাম ঝড়টা। ফিন দুই ওভার বল করে দিয়েছেন ৪৯ রান। তার করা প্রথম ওভারে ২০ এবং দ্বিতীয় ওভারে ২৯ রান দেন তিনি। ৩৩ রানে ৭ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সফলতম বোলার টিম সাউদি। ওয়ানডেতে এটা তার সেরা বোলিং। এই ম্যাচের আগে তিনি সর্বোচ্চ ৩৩ রানে ৫ উইকেট শিকারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। অসাধারণ বোলিং পারফর্মেন্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যান অব দ্যা ম্যাচও নির্বাচিত হন এই কিউই বোলার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৩৩.২ ওভারে ১২৩ (বেল ৮, মইন ২০, ব্যালান্স ১০, রুট ৪৬, মর্গ্যান ১৭, টেইলর ০, বাটলার ৩, ওকস ১, ব্রড ৪, ফিন ০, অ্যান্ডারসন ১*; সাউদি ৭/৩৩, ভেটরি ১/১৯, মিল্ন ১/২৫, বোল্ট ১/৩২)
নিউজিল্যান্ড: ১২.২ ওভারে ১২৫/২ (গাপটিল ২২, ম্যাককালাম ৭৭, উইলিয়ামসন ৯*, টেইলর ৫*; ওকস ২/৮)এই অংশটি আলাদা প্রথমে দিয়েন:ইংল্যান্ড: ৩৩.২ ওভারে ১২৩ (অল আউট)নিউজিল্যান্ড: ১২.২ ওভারে ১২৫ (২ উইকেট)ফলাফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: টিম সাউদি (৩৩ রানে ৭ উইকেট)