নীলফামারীতে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট খেয়ে ৭ শিশু অসুস্থ
নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচিতে বিতরণকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট খেয়ে ৭ শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের অপরাপর শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে বিতরণকৃত বিস্কুট না খেয়ে তা ফেলে দেয়।
সংবাদ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রায় ১৬’শ প্যাকেট বিস্কুট জব্দ করে। ঘটনা তদন্তে উপজেলা মাধ্যেমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্য’র একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ডোমার উপজেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, জেলার ডোমার উপজেলা সদরের শহিদ স্মৃতি আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারের ফিডিং কর্মসূচিতে বিতরণের জন্য গত ৩ দিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট বিতরণ করা হচ্ছে। বিতরণকৃত এসব বিস্কুট খেয়ে প্রতিদিনই দু’একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হবার ঘটনা ঘটছে। গত কাল বুধবার দুপুরে আবারো বিতরণ করা হয় মেয়াদোত্তীর্ণ এসব বিস্কুট। বিস্কুট খেয়ে অন্তত ৭ জন শিক্ষার্থী অসুস্ত হয়ে পড়ে। অসুস্ত শিক্ষার্থীরা হলেন, ৩য় শ্রেণির সিনহা, রনি, পঞ্চম শ্রেণির হৃদয়, লিখন, স্নিগ্ধ ও রিমুসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউর রহমান ঘটনাস্থলে এসে মেয়াদোত্তীর্ণ ১৬’শ প্যাকেট বিস্কুট জব্দ করে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কমিটি এক কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট থাকার কথা স্বীকার করে জানান, গত ২ দিন আগে জানতে পেরে সরবরাহকারী সংস্থা আরডিআরএসকে জানিয়েছি কারণ তারাই এসব বিস্কুট সরবরাহ করেছে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট বিতরণ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউর রহমান মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুটের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, আগামী এক কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান চয়ন জানান, এই বিদ্যালয় হতে নিয়মিত বিস্কুট মিসিং হয়। দীর্ঘদিন ধরে কড়া পাহারা বসানোর কারণে তা করতে না পেরে বিস্কুট এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। মেয়াদ শেষ হওয়া এ সবই বিতরণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে সরবরাহকারী সংস্থা আরডিআরএস এ জেলা সঞ্চয়কারী আমিনুর রহমান জানান, আমরা পরিকল্পনা ও চাহিদা মোতাবেক বিস্কুট সরবরাহ করি। তবে কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ বিস্কুট নয়। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে।