আশাশুনির বড়দলে সুপেয় পানির সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে
আশাশুনি প্রতিনিধি:
আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে সুপেয় পানির সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মানুষ আর্সেনিকযুক্ত ও দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে।
বড়দল ইউনিয়নের ১১টি ওয়ার্ডের সুপেয় পানি সংকট থাকলেও তার মধ্যে কেবলমাত্র ৪ ও ৭ নং ওয়ার্ড বাদে পুরো ইউনিয়নে সুপেয়পানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। ১৩ হাজার ৮শ’ ৩৩ জন নারী ও ১৪ হাজার ৭শ’ ১৮ জন পুরুষ অধ্যুষিত ইউনিয়নটিতে পানির জন্য ৩০টি পুকুর রয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৪টি পুকুরে পানি রয়েছে। বাকিগুলোর পানি শুকিয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ, বিভিন্ন এনজিও এসব স্থানে পানি সংকট নিরসনে কাজ করে আসছে। এর মধ্যে পিএসএফ, পুকুর খনন, রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং, টিউবওয়েল, ডিপ-টিউবওয়েল উল্লেখযোগ্য। তবে ভূগর্ভে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় এবং গভীরে লবণাক্ততার কারণে টিউবওয়েল ও ডিপ-টিউবওয়েল সর্বত্র সফল নয়। কয়েকটি এনজিও রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ব্যবস্থা হাতে নিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে পিএসএফ জনপ্রিয় হয়েছে। এনজিও রূপান্তর বড়দল ইউনিয়নে ২৪টি পিএসএফ স্থাপন ও রিপেয়ারিং করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করে। এতে এলাকার চাহিদা পুরোপুরি পুরণ না হলেও এলাকাবাসীর চাহিদা পুরণে বিশেষ সহযোগিতা দিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দীর্ঘ খরা কবলিত হয়ে এলাকার অধিকাংশ পুকুরের পানি শুকিয়ে গেছে। ফলে পানি না থাকায় পিএসএফগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। রূপান্তরের ২৪টি পিএসএফ এর মধ্যে মাত্র ৪টি চালু রয়েছে, বাকিগুলো পানি সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। অগভীর নলকূপ রয়েছে ১ হাজার ৩শ’ ৮৩টি। যার মধ্যে আর্সেনিক রয়েছে ৬১২টিতে, আর্সেনিক নেই ২৮৬ টিতে। পরীক্ষা করা হয় নি ৪৮৫টি। এলাকার ২ হাজার ৮শ’ ৪৫টি পরিবার পুকুরের পানি পান করে থাকে। ৩০টি পুকুরের মধ্যে ২৬টির পানি শুকিয়ে যাওয়ায় তারা পানির অভাবে চরম কষ্টকর জীবন যাপন করছেন। ফলে সকল এলাকার মানুষ সুপেয়পানির সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে বামনডাঙ্গা, চাম্পাখালী, জেলপাতুয়া, হেতালবুনিয়া, মাদিয়া, বাইনতলা, জামালনগর, কেয়ারগাতি গ্রামের অধিকাংশ পুকুরে পানি নেই। এসব স্থানসহ অন্য স্থানের পিএসএফ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে মানুষ সুপেয়পানি না পেয়ে ২/৫ কিলোমিটার দূরে পানির খোঁজে ছুটছে। অনেকে পার্শ্ববর্তী কাদাকাটি ইউনিয়নে পানির জন্য লম্বা লাইনে পানি নিতে যাচ্ছে। গরিব ও অসহায় মানুষগুলো উপায় না থাকায় আর্সেনিকযুক্ত পানি কিংবা যেসক পুকুরে সামান্য পানির ব্যবস্থা আছে সেখানের দূষিত পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। গোসল কিংবা থালাবাটি ধোয়ার কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সবমিলে বড়দল ইউনিয়নের মানুষ রয়েছে চরম দুরাবস্থায়।
অবস্থা দেখতে মঙ্গলবার এলাকা সফর করেন ওয়াটার এইড জলবায়ু পরিবর্তন প্রোগ্রাম কর্মকর্তা আবিদ আব্দুল্লাহ খান। তিনি মানুষের দুরবস্থা অবলোকন করে হতাশ হয়ে পড়েন।