স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া বাসায় জাল টাকা তৈরি
ঢাকা : জাল টাকা তৈরির কাজে নিযুক্ত করা নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে তুলেছে জাল টাকা তৈরির কারখানা। এমনই একটি চক্রকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১ এর একটি দল। গ্রেফতাররা হলেন- মো. হামিদুর রহমান (৩৭) ও তার কথিত স্ত্রী মোছা. জামিলা আক্তার মানিজা (৩০)।
র্যাব জানান, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে হামিদুর ওই নারীকে নিজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরি শুরু করে। হামিদুর রহমান মূলত ঠিকাদার এবং একটি আবাসন কোম্পানিতে কর্মরত। তিনি ওই কোম্পানির কাজের ফাঁকে জাল টাকা তৈরি এবং সরবরাহের কাজ করে আসছিলেন। জাল টাকা তৈরির ব্যাপারে তার পরিবারের সদস্যরাও কিছু জানতেন না বলে তিনি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল টাকা সরবরাহের জন্য তিনি প্রেস লেখা একটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন।
র্যাব-১-এর সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, গ্রেফতাররা দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে ঢাকা শহরে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে জাল নোট তৈরি করে আসছেন। এরা একটি গ্রুপ হিসেবে কাজ করে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে জাল নোট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহ করে।
র্যাব-১-এর একটি দল আদাবর থানাধীন বায়তুন আমান হাউজিংয়ের ১৫ নম্বর রোড থেকে মোছা. জামিলা আক্তার মানিজাকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি র্যাবের কাছে তাদের অপর তিন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বায়তুন আমান হাউজিংয়ের ১৫ নম্বর রোডের ৯০৩ নম্বর বাসা থেকে মো. হামিদুর রহমানকে জাল টাকা তৈরিরত অবস্থায় গ্রেফতার করে।
তিনি বলেন, বাসার বেডরুমের জাল টাকা তৈরির কারখানা থেকে সর্বমোট ২৫ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যমানের জাল নোট, জাল টাকা বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি ডিসকভার ১০০ সিসি মোটরসাইকেল, টাকার নিরাপত্তা সুতাযুক্ত কাগজ ৫ কেজি, টাকা তৈরির ট্রেসিং কাগজ ৩০ কেজি, ল্যাপটপ ১টি, প্রিন্টার ৪টি, ১০০০ হাজার টাকার ছাপ যুক্ত কাগজ ১১০টি, জাল টাকা তৈরির ডাইস ১২টি, বোর্ড ২টি, লেমিনেটিং মেশিন ১টি, কাঁচের ফ্রেম ৪টি, অসংখ্য প্রিন্টার কার্টিজ, জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত প্রায় ২০ কেজি পরিমাণ বিভিন্ন কেমিক্যাল, জাল টাকা তৈরির নিরাপত্তা সুতার রোল ৪টি প্রভৃতি উদ্ধার করা হয়।
অপর দুই আসামি হলেন- মো. আলামিন ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার টুকটুকি। আলামিন তার সদস্যদের কাছে বাবু ও কালাবাবু নামেও পরিচিত। তার পিতার নাম ও ঠিকানা জানা যায়নি। তবে তার শ্বশুর বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার সত্রাজিতপুরে।
তারা গ্রেফতারদের সঙ্গে একই বাসায় থাকলেও র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
