অস্তিত্বের স্বার্থে মুলতবি থাক মতভেদ -রিয়াদুল হাসান

ধর্মবিশ্বাসী ও অবিশ্বাসী উভয়েরই মনোজগতে সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দীন, মুসলিম জাতি শ্রেষ্ঠ জাতি ইত্যাদি কথা মুসলিমদের অহঙ্কারে পরিণত হয়েছে। এই অহমিকা থেকে সৃষ্টি হয়েছে অন্য জাতির প্রতি তুচ্ছতার ধারণা এবং ঘৃণাবোধ। মানুষ মুসলিম পরিবারে জন্মের কারণে সবার থেকে শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় এমন ধারণা আসলে বর্ণবাদ প্রথারই নামান্তর। মুসলিম শ্রেষ্ঠ হবে তার শান্তিকামিতার মাধ্যমে, চরিত্রে নৈতিকতায় শ্রেষ্ঠত্বের মাধ্যমে,সংসারে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে, মানবতার মুক্তির জন্য জীবন ও স¤পদ কোরবানীর মাধ্যমে এক কথায় মানবজাতিকে ন্যায়, নিরাপত্তা ও সুবিচারের মধ্যে প্রতিপালনের মাধ্যমে। এসব কোনো দায়িত্বের ধারে কাছে না গিয়ে জন্মের গুণে যারা শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে তারা দুর্যোধন আর দুঃশাসনের জ্ঞাতী।
এ কারণেই তারা আজ করুণার পরিবর্তে বলপ্রয়োগের নীতি গ্রহণ করেছে। নাস্তিকের শিরোচ্ছেদ করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে, সকল মুসলিম নর-নারীকে নির্দিষ্ট পোশাক, বোরখা আর আরবী সুরতে আবৃত করতে চায়। স্রষ্টার অভিপ্রায় উপলব্ধি করার জ্ঞান তাদের লুপ্ত হয়ে গেছে। নারীদের উপর মনগড়া শরিয়ত চাপিয়ে দিয়ে তাদেরকে গৃহবন্দী করতে চায়। এসব ধ্যান-ধারণা থেকে মাদ্রাসা ও ইসলামী দলগুলোকে বেরিয়ে আসতে হবে। বর্তমানে ইসলামের এবং কোনো ধর্মেরই সঠিক রূপটি আমাদের সামনে নেই।
সেই সাথে আরেকটি চিন্তা থেকেও মানবজাতিকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাদেরকে অনুধাবন করতে হবে যে, বস্তুবাদী, ভোগবাদী, স্রষ্টাহীন জীবনব্যবস্থাও কিছু মানুষকে ভোগ বিলাস দিতে পারলেও সার্বিক শান্তি দিতে পারবে না। অনেকে বলেন যে, নরওয়ে সুইডেন ইত্যাদি দেশে নাকি বিরাট শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যে শান্তি ধর্ম বাদ দিয়েই হয়েছে। তাই আমাদেরও উচিত ধর্ম বাদ দিয়ে শান্তির খোঁজ করা।
এ কথাটি যারা বলেন তারা কেন ভুলে যান যে ঐ দেশগুলো তথা ইউরোপ আমেরিকা গত কয়েক শতাব্দি ধরে বাকি বিশ্বকে সীমাহীন শোষণ করে আজ স¤পদের পাহাড়ের উপর বসে আছে। এখনও অবিশ্বাস্য চাতুর্যের সাথে আমাদের অর্থ সুদি অর্থব্যবস্থা ও বিভিন্ন কো¤পানির মাধ্যমে শোষণ করে যাচ্ছে।বিশ্বের বহু দেশে তারা এই মুহূর্তেও যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে তা থেকে ফায়দা লুটে যাচ্ছে। যে যুদ্ধের পরিণামে কোটি কোটি মানুষ নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে সেখানে আরবীয় শেখ আর কথিত উন্নত বিশ্বের নাগরিকরা অকল্পনীয় বিলাসে দিন কাটাচ্ছে,অর্থ ব্যয় করার উপায় পাচ্ছে না।
একেকটা যুদ্ধের কী অকল্পনীয় ব্যয় তা যারা এ বিষয়ে খোঁজ রাখেন না তাদেরকে বলে লাভ নেই। এই ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে যেন তাদের জীবনযাত্রার ভোগবিলাসে টান না পড়ে সেজন্য তারা বাকি বিশ্বের উপর আরো বহুবিধ কর চাপিয়ে,নিত্যনতুন প্রযুক্তিপেণ্যের প্রতি নির্ভরশীল করে তুলে ভোগবাদী বানিয়ে ঋণের জালে আটকিয়ে এবং আরো বহু মাধ্যমে অর্থ শোষণ করে যাচ্ছে। মাত্র ৬৪ জন মানুষের হাতে জমা হয়ে গেছে বিশ্বের অর্ধেক স¤পদ।
যারা সবাইকে বঞ্চিত করে নিজেরা জীবনোপভোগের নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে তারা যতই মানবতার বুড়ি আউড়াক আদতে তারা পৈশাচিকতার প্রচারক। আমাদের এই জাতির সদস্যদেরকে নিজেদের ধ্যান ধারণাকে শুধরে নিতে হবে এখনি। যারা ধর্মের সমালোচনা করছেন আসলে তারা ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন, ওটা ধর্ম নয়, ওটা ধর্মের কুষপুত্তলিকা। আর নিজেরা যে পাশ্চাত্যপূজায় রত সেটাও মিথ্যা মরীচিকা।