Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

গুলশান হামলা: মুখ খুললেন নিহত রোহান ইমতিয়াজের বাবা

imtiaz_khan_babul-father_of_gulshan_attackerইমতিয়াজ খান বাবুল

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় হলি আর্টিজানে ঢুকে দেশি ও বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে দুর্বৃত্তরা। পরদিন শনিবার করা অভিযানের পর ওই রেস্তোরাঁ থেকে ছয়জন জঙ্গির লাশ উদ্ধার করে বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় ২০ জনের মরদেহ। অভিযান শুরুর আগেই হামলাকারী পাঁচজনের ছবি প্রকাশ করে আইএসের কথিত মুখপাত্র আমাক। সেখানেই প্রকাশিত হয় রোহানের ছবি।
আক্রমণকারীদের ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পরই ঢাকার ব্যবসায়ী ইমতিয়াজ খান বাবুল প্রথম জানতে পারেন যে তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে তার ছেলে রোহান ইবনে ইমতিয়াজ – যে ছয় মাস আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল।rohanরোহান ইমতিয়াজ

বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ খান বাবুল বলছিলেন, ‘শুক্রবার আমার বড় ভাই মারা যান। তার কুলখানি নিয়ে পারিবারিক কথাবার্তার মধ্যেই শনিবার আমাকে একজন ফোন করে জানালেন, গুলশানের হোলি আর্টিজানে আক্রমণের পর আইএসের ওয়েবসাইটে যে ছবি দেয়া হয়েছে তাতে আপনার ছেলের ছবি এসেছে। শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। দৌড়ে বাড়িতে আসলাম।’
‘ফেসবুকে দেখলাম, কনফার্ম হলাম : পাঁচজনের যে ছবি দিয়েছে তাতে আমার ছেলের ছবি আছে।’
গুলশানে ক্যাফেতে আক্রমণের পর দিন সকালে চালানো সেনা অভিযানে আক্রমণকারীদের পাঁচ জন নিহত হয়, একজন আহত অবস্থায় ধরা পড়ে।
‘আমার ছেলে রোহান গত ডিসেম্বরের ৩০ তারিখ থেকে নিখোঁজ। সে সময় আমি ও আমার স্ত্রী চিকিৎসার জন্য কোলকাতায় ছিলাম। ত্রিশ তারিখ রাতে ওর দুই বোন একটি দাওয়াত থেকে ফিরে এসে দেখতে পায়, রোহান বাড়িতে নেই।’
‘দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করতে সে বললো, সন্ধ্যেবেলা কলেজে যাবার ব্যাগ নিয়ে সে বেরিয়ে গেছে। জিজ্ঞেস করাতে সে বলেছিল, ইউনিভার্সিটিতে যাচ্ছে। এ খবর শোনার পর আমি এক তারিখ ঢাকা ফিরে আসি।’
পাচ্ছি না। ঘটনার আকস্মিকতায় আমরা এতই হতভম্ব, এত দুঃখজনক, লজ্জাজনক একটা ঘটনা। কি বলবো। পুলিশের কর্মকর্তা শেখ মারুফ সাহেব ওর সন্ধান পাবার চেষ্টায় অনেক সাহায্য করেছিলেন। আর এই ঘটনায় তিনিই গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এটা যে কত লজ্জাজনক, তা আমি বোঝাতে পারছি না।’
আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত, ওর মাও টিচার, সে-ও ব্যস্ত থাকে। এই কারণে হয়তো হতে পারে যে আমরা নজর দিতে পারিনি। কিন্তু তখন তো তা বুঝি নি। কারো সাথে তার কোনো ঝগড়া কথাকাটাকাটি হয়নি । সে লেখাপড়া করছে, ভালো রেজাল্ট করছে, টিচাররা আমাদের কনগ্রাচুলেট করছে, আমরা ভাবছি সব ঠিকই আছে। বুঝতেই পারছি না কিভাবে কি হলো।’
‘তবে একটা কথা বলি। আমার ছেলের সন্ধা্ন করতে গিয়ে আমি দেখতে পেলাম যে এরকম অনেক ছেলেই নিখোঁজ হয়ে আছে। অনেক ভালো ভালো ছেলে। এডুকেটেড ফ্যামিলির ছেলে, অফিসারের ছেলে, সরকারি কর্মকর্তার ছেলে নিখোঁজ। তারাও খুঁজে পাচ্ছে না। এরকম কয়েকজনকেই আমি চিনি। তাদের সাথে আমি আমার কষ্টের কথা শেয়ার করতাম।’
তাহলে কেন কিভাবে এমনটা হলো?
‘আমরা বুঝে উঠতে পারছি না। হয়তো ইন্টারনেট থেকে হতে পারে, কিন্তু আমি জানি না কিভাবে হয়েছে। অনুমান করতে পারি। ইন্টারনেট ছাড়া আর কিছু তো আমার মাথায় আসছে না। কিন্তু আমরা তো চোখে দেখিনি কিছু।

Leave A Reply

Your email address will not be published.