হাড়কাঁপানো শীতে ভিড় জমছে উত্তরাঞ্চলের শীতবস্ত্রের ভ্রাম্যমান দোকানগুলোতে
নীলফামারী প্রতিনিধিঃ পৌষের শুরুতেই হিমালয়ের চারদিক দিয়ে অক্টোপাসের মতো ধেয়ে আসছে শীতের সাঁড়াশি আক্রমণ। পারদ নিম্নমুখী হওয়ায় রীতিমত শৈত্যপ্রবাহ দিন দিন বেড়েই চলছে, আর থরথরে কাঁপছে উত্তরের মানুষজন। শীতের এই দাপটে আছে আকাশ মেঘাছন্ন হয়ে যাওয়ায় উত্তরী হাওয়ার অবাধ গতিতে মানুষের শরীরে হাড় কাঁপানো কাঁপুনী ধরেছে। শীত থেকে বাঁচতে নীলফামারীর শীতবস্ত্রের দোকানে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেটগুলোতে গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নীলফামারীতে শহরের ফুটপাত ও শহরের পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে শীতবস্ত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
এসব দোকানে কম দামে বিদেশি পুরোনো গরম কাপড় মিলছে। দামে কিছুটা সস্তা হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় করছেন দোকানগুলোতে। এসব বাজারের দোকানে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক লোকদেরও কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। দাম হাতের নাগালে থাকায় ক্রেতার ভিড় থাকে অনেক বেশি। এসব দোকানে এর আগে ছুটে আসতেন অসহায় ও গরিব মানুষেরা।
নীলফামারী বড় মাঠে পুরাতন ভাসমান শীতবস্ত্রের দোকানে কথা হয় বিক্রেতাদের সঙ্গে। ফুটপাতের ভাসমান ব্যবসায়ী আবুল কালাম জানান, ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত দামে শীতের কাপড় বিক্রি হচ্ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বেচাকেনা হচ্ছে। তিনি জানান, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রেতাই বেশি। সে সঙ্গে রিকশাচালকসহ অসহায় শীতার্ত মানুষও কম দামে শীতবস্ত্র ক্রয় করছেন।
পুরোনো কাপড়ের দোকানে কাপড় কিনতে আসা ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত নিবারণে নিরুপায় হয়ে গরম কাপড় কিনতে হচ্ছে। দাম একটু বেশিই নেয়া হচ্ছে। শীত যতই বাড়ছে, ততই বাহারি শীতের পোশাক বাজারে উঠছে।
নীলফামারী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মো. মারুফ জামান বলেন, পুরোনো কাপড় না এলে অর্থশালীরা বিপদে না পড়লেও গরিব ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা চরম বিপাকে পড়তেন। তিনি অারও বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়লেও এখনো সরকারি ও বেসরকারিভাবে শীতার্ত মানুষের মাঝে কাপড় বিতরণ শুরু হয়নি। চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিডিপত্র/আমিরুল