ফরিদপুরে নার্স (ননদ) কর্তৃক আপন ভাবীকে খুঁন
হারুন-অর-রশীদ,ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার দুলালী গ্রামে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক সিনিয়র নার্স পরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় জেসমিন আক্তার (২২) নামের তার ছোট ভাবিকে খুঁন করার অভিযোগ উঠেছে । এ নিয়ে এলাকায় চাঁপা ক্ষোভ বিরাজ করছে । স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , ঢামেক হাসপাতালের সিনিয়র নার্স পারভিন আক্তার গত ১০-১২-১৬ শনিবার রাত ৭.৪৫ মিনিটে তার ভাবী জেসমিন আক্তার কে গ্যাসের ইনজেকশন দিলে সাথে সাথে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে । এই অবস্থায় নিজেকে বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে স্থানীয় মুকুসুদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে বলে জানা যায় ।
আর ঘটনাটি ধামাচাঁপা দিতে ময়নাতদন্ত না করেই নিজের পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে সেখান থেকে হার্ট আট্যাক করে মারা গেছে বলে সার্টিফিকেট তুলে নিয়ে আসে । অন্যদিকে পারভিন আক্তার যে ইনজেকশনটি তার ভাবীকে দিয়েছে তার একই (আরেকটি) ইনজেকশন মৃত মহিলার ভাইকে দিতে গেলে তার ভাই সেটি পরে নিবে বলে বাড়ীতে নিয়ে আসে । লাশ বাড়িতে আনলে সবাই যখন কান্নাকাটি করছে ঠিক তখন লাশের বড় ভাইয়ের শাশুড়ি সুরাইয়া বেগম (৫০)সহ নান্নু মোল্যা ,সিদ্দিক মোল্যা ,রাজ্জাক মোল্যা রেজিসহ আরো ১০ বার জন লোক উজ্জ্বল আলম নামের এক ছেলেকে নান্নু মোল্যার ঘরে ডেকে এনে ইনজেকশনটি দেখায় এবং জানতে চায় এই ইনজেকশন এর মেয়াদ আছে কি না ? উজ্জল আলম ইনজেকশনটি দেখার সাথে সাথে তিনি এক ডাক্তারকে ফোন করেন । অপর পাঁশ থেকে ডাক্তার তাকে ইনজেকশনের গায়ে কি লেখা আছে তা মেসেজ করতে বলে । উজ্জ্বল আলম বলেন, মেসেজ করার সাথে সাথে ডাক্তার তাকে ফোন দেন যে এটা কোন গ্যাসের ওষুধ ছিলোনা । এটা দিলে যেকোনো মানুষ সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে মারা যাবে বলে ডাক্তার জানায়। ডাক্তারের সাথে মোবাইল কথা চলাকালীন সময়ে হটাত করে পারভিন নামের সেই নার্স বাজ পাখির মত ছোঁ মেরে মোবাইল ও ইনজেকশন কেড়ে নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলা শুরু করে বলে উজ্জল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন ।
উজ্জল আরো বলেন, সে ডাক্তারকে বলে আমিই সেই সিস্টার ।আমার সাথে কথা বলেন ।আমি অমিপ্রাজল গ্রুপের ইনজেকশন দেওয়ার পর পর মারা যায় । কিন্তু সেখানকার লোকজন যখন উজ্জ্বল আলমকে জিজ্ঞেস করে এটা গ্যাসের অমিপ্রাজল ওষুধ কি-না ? উজ্জ্বল তাদের কাছে বলেন এটা গ্যাসের ওষুধ ছিলোনা । এই কথা বলার সাথে সাথে উজ্জ্বলকে মšী¿ সাজাহান খাঁনের মাধ্যমে চাকরি দেবার কথা বলে একই গ্রামের নান্নু মোল্যার উঠানে নিয়ে যায় এবং উজ্জলের হাতে পায়ে ধরার দৃশ্য সকলে দেখতে পায় । কথা বলার নাম করে উজ্জ্বলকে সে বাড়িতে নিয়ে যায় । পরে সকালে উজ্জ্বল কে স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করলেও সে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন এটা গ্যাসের ওষুধ ছিলোনা ।তাহলে কিসের ওষুধ ছিল তাও সে বলে না । সে বলে আমি ডাক্তার না আপনারা সিস্টারের কাছ থেকে ইনজেকশনের বোতল নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান তাহলে ডাক্তার বলতে পারবেন এটা কিসের ওষুধ ছিল ? নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকদের বলেন , রাতে উজ্জ্বল যখন তার ডাক্তার বন্ধুর সাথে কথা বলছিল তখন আমরা কয়েকজন তার কথার কিছু অংশ শুনে ফেলি । উজ্জ্বল তার বন্ধুকে বলছে কি বলো দোস্ত ? হ্যা ওষুধের গায়ে যা লেখা ছিল আমি তাই তোমাকে পাঠিয়েছি । হ্যাঁ এটার নাম “ব্যাকুরিয়াম প্রোমাইট” লেখা ছিল ।
এটা এনেস্থিসিয়া অপরাশেন করার সময় দেয় বলে জানান । তিনি আরো বলেন, তাহলে তো এটা প্লান করে হত্যা করে এখন বলছে গ্যাসের ইনজেকশন । আমার হাত পা কাঁপছে ?এখন কি করি ? উজ্জ্বলকে সকালে জিজ্ঞেস করবে বলে তারা ভাবে কিন্তু উজ্জ্বল সকালেই ঢাকা চলে যাওয়াতে জিজ্ঞেস করা হয় নি ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন-
১। মরা বাড়িতে যখন সবাই বার বার শোকে মুর্ছা যাচ্ছে নার্স কেন রাতের অন্ধকারে নান্নু মোল্যার বাড়িতে গিয়েছিলো ? এবং উজ্জ্বলের কাছ থেকে ওষুধ কেড়ে নিয়ে উজ্জ্বলকে হাতে পায়ে ধরে কেন বাড়িতে নিয়ে গেল ?
২। উজ্জ্বল প্রথমে বললো এটা গ্যাসের ওষুধ না ক্ষতিকর ওষুধ তাহলে এখন কেন সে এড়িয়ে যাচ্ছে ?
অন্যদিকে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ধরে নেওয়া হলো নার্স গ্যাসের ইনজেকশন-ই দিয়েছে । কিন্তু তার কি এই ওষুধ দেওয়ার অনুমতি আছে কি না ? এটা যে পরিকল্পিত খুন তা বেরিয়ে আসবে যদি উজ্জ্বল কে জিজ্ঞেস করা হয় যে এটা কিসের ওষুধ ছিল ? অথবা যে ওষুধটি পুশ করা হয়েছে তার বোতল টি নার্সের কাছে চাওয়া হলে অথবা লাশ ময়নাতদন্ত করা হলেই তাহলে মূল ঘটনা বেরিয়ে আসবে ।
এই ব্যাপারে মৃত ব্যাক্তির বড় ভাই ফরিদ মোল্যাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি জানি না ভাই ঐ আজরাইল নার্স অনেকদিন ভাইদের সাথে ঝঁগড়া করে বাড়িতে আসেন । আর এসেই তার মাকে বলে মা তোমার জন্য গ্যাসের ইনজেকশন নিয়ে এসেছি তার মা ইনজেকশন নিতে অসম্মতি জানালে আমার বোনকে ও আমাকে দুটি বোতল দেয় । একটি আমি নামাজ পরার জন্য বাড়িতে নিয়ে আসি আরেকটিও সে আমার বোনকে পুশ করে । তিনি আরো বলেন, আমি বাড়ি আসতে না আসতে শুনি আমার আদরের একমাত্র ছোটবোন আর নেই । এই কথা বলার সময় সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে ।আর কিছু জানার মত পরিবেশ আর সেখানে ছিলনা বলেও জানান ।
নার্স পারভিন আক্তারের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায় । এব্যাপারে উজ্জ্বল আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সিস্টারের কাছে জানতে চান তিনি যে ওষুধ দিয়েছেন তার বোতল সে কোথায় রেখেছে, আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে হবে না, আসল সত্যটা তখনি বেড়িয়ে আসবে ?