Connecting You with the Truth
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স
এসইও
ফেসবুক বুস্ট
📞 01757-856855
অর্ডার করুন »

৮ বছরেও নির্মাণ হয়নি বেরোবি’র প্রধান ফটক : প্রশাসনের উদাসীনতা

ওমর ফারুক,বেরোবি প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ৮ বছর পেরিয়ে গেছে। একইসময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হলেও কতৃপক্ষের উদাসীনতা আর স্বেচ্ছাচারীতার কারণে আজও নিমার্ণ করা সম্ভব হয়নি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) প্রধান ফটক। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হওয়ার অন্তরায় বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহল।

উত্তারাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল, শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যাপীঠে ৬ টি অনুষদের অধীনে ২১ বিভাগ চালু করা হয়েছে। অধ্যয়নরত আছেন প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষাদান করছেন প্রায় ১৫৫ জন শিক্ষক। বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে কর্মকর্তা রয়েছেন দেড় শতরেও বেশি। অপরদিকে কর্মচারী রয়েছেন ৪ প্রায় শতাধিক।
আবার এই অল্প সময়েই ৪ তলা বিশিষ্ট ৪ টি একাডেমিক, একটা প্রশাসনিক, সেন্ট্রাল লাইব্রেরী, ছেলেদের জন্য দুইটি ও মেয়েদের জন্য ১ টি হল, মসজিদ, ক্যাফেটেরীয়া, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ৪ টি ডরমেটরী করা সম্ভব হলেও এখনো অবহেলার কারণে থমকে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নির্মাণ কাজ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ৭৫ একরে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ টি ফটক (গেট) রয়েছে। যার একটিও এখন পর্যন্ত নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। শুধু নামমাত্র রয়েছে এ ফটকসমূহ। এমনকি স্পষ্ট করে চিহ্নিতও করা হয়নি ফটক (গেট) নং। শুধু ভর্তি পরীক্ষা আসলেই টানানো হয় পেপারের তৈরী নির্দেশক চিহ্ন। কিন্তু পরীক্ষার কিছুদিন পরে তাও তলিয়ে যায় পর্দার অন্তরালে।

যেখানে একটা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ও পরিচিতি এ ফটকের মাধ্যমে তুলে ধরাও সম্ভব সেখানে সেই ফটক নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের উদাসীনতা ও স্বেচারীতাকে দায়ি করছেন বিভিন্ন মহল।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান,‘এখনো আমরা ভালোমত জানি না বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক কোনটি। অপরদিকে ফটকসমূহ রয়েছে কিন্তু তা নির্মাণে কোন উদ্যোগ চোখে পড়ছে না কতৃপক্ষের। এতে উদাসীনতাই কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বলেন, “উপাচার্য (নূর-উন-নবী) একাধিকবার বলেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আন্তর্জাতিক মানের করা হবে। কিন্তু কথাটিতেই তা সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতো কথার ফুলঝুড়ি ঝড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক নির্মাণের কোন উদ্যোগ রয়েছে বলে দৃশ্যমান নয়। এতে আন্তরিকতাই অন্তরায়।’
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও ভাবমূর্তি উজ্জল করতে এই গেট নির্মাণের জন্য কতৃপক্ষের কাছে দাবি জানান এ নেতা।
এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক তাবিউর রহমান প্রধাণ বলেন,‘ এতো দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত প্রধান ফটক নির্মাণের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা না করায় বাইরে এ প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বিকাশে অন্তরায় হিসাবে কাজ করছে। এটি নির্মাণে কতৃপক্ষের দৃষ্ঠি দেয়া দরকার।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম জানান,‘একবার এই গেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় তা থমকে দাড়ায়। পরে সে দিকে তেমন দৃষ্টি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সামনে প্রধান ফটক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে আবেদন করা হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী বলেন,“ইতোমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট ‘শেখ হাসিনা’ হল ও ‘ড. ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্স ইনিস্টিটিউট ’এর কাজ শুরু হয়েছে। তবে প্রধান ফটকের বিষয়টি নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আমরা তা করতে পারবো বলে আশাবাদী।’ বিডিপত্র/আমিরুল

Leave A Reply

Your email address will not be published.