অর্থের বিনিময়ে অভিবাসী নৌকা ঘুরিয়ে দেয়ার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  সমুদ্রপথে মানবপাচার বন্ধে অস্ট্রেলিয়া কঠোর অবস্থান গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী টোনি অ্যাবট বলেছেন, মানব পাচারকারীদের রুখতে তার দেশ যা যা করা দরকার তাই করবে।
তিনি আরো বলেছেন, যে অভিবাসীরা নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার তীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, তাদের ফেরাতে সাম্প্রতিক কিছু অভিনব কৌশল বেশ সফল হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, আশ্রয়প্রার্থীদের বহনকারী এক নৌকার চালকদের দিক পরিবর্তন করে ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে যাওয়ার জন্য তারা ৩০ হাজার ডলার ঘুষ দিয়েছিল।
এই অভিযোগ উড়িয়ে দেননি প্রধানমন্ত্রী টনি অ্যাবট। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে এসব নৌকা যাতে তার দেশে পৌঁছাতে না পারে সেজন্যে অভিনব কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তবে বিবিসির সংবাদদাতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, নৌকাগুলো থামাতে আর্থিক উপায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে একটি রেডিওকে দেয়া সাক্ষাত্কারে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানব পাচারের এই ব্যবসা বন্ধ করতে তারা যা কিছু করা দরকার সেটা করবেন। কারণ অস্ট্রেলিয়ার মানুষরা সেটাই চায়।
তিনি বলেন, খোলাখুলিভাবে বলতে গেলে, এটাই শোভন, ঠিক ও মানবিক কাজ। এসব নৌকা থামানোর জন্যে তার ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই।
ইন্দোনেশিয়ার পুলিশ বলছে, গত মাসের শেষদিকে এরকম একটি নৌকার চালকসহ কয়েকজন ক্রু’কে তারা আটক করেছে। এই নৌকাতে করে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কার লোকজন নিউজিল্যান্ড যাচ্ছিল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার তিনশো মাইল উত্তর-পূর্বে, রোট আইল্যান্ডে এই নৌকাটিকে থামানো হয়।
আটক চালকরা ইন্দোনেশিয়ার পুলিশকে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জাহাজ তাদের গতিরোধ করে এবং অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তারা তাদেরকে মাথাপিছু কিছু টাকা পয়সা দিয়েছে। এই নীতি অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, অবৈধভাবে সাগর পথে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার পর দেশটির উপকূল থেকে উদ্ধার হওয়া ১৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে তারা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামেন।
সাগর থেকে উদ্ধারের পর এসব বাংলাদেশিকে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শরণার্থী শিবিরে রাখা হয়েছিল। এরপর দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই বাছাইয়ের পর দেশে ফেরত আনা হয়। এর আগে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টাকালে মিয়ানমারের হাতে আটক ১৫০ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
Comments (0)
Add Comment